২০২৬ সালের মাঝামাঝি (মে-জুলাই) থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে প্রবল শক্তিশালী “সুপার এল নিনো” শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । এটি ১৪০ বছরের রেকর্ড ভেঙে চরম বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টি করতে পারে।
কেন এটি “সুপার এল নিনো”: প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ এল নিনোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান উইলফ্রান মুফুমা ওকিয়া বলেন, ‘এল নিনোর কারণে বাড়বে বিশ্ব তাপমাত্রা। আমাদের শঙ্কা, ২০২৭ সাল সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে এবং সবশেষ ২০২৪ সালের এল নিনোর প্রভাবে গড় তাপমাত্রা যে পরিমাণ বেড়েছিল তাও এবার ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
এল নিনোর প্রভাবে হর্ন অব আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্য এশিয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। বিপরীতে, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘস্থায়ী খরা বিরাজ করতে পারে।’
বাংলাদেশের কী হবে?
বাংলাদেশে এর প্রভাবে তীব্র দাবদাহ (হিটওয়েভ), দীর্ঘমেয়াদী খরা এবং বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
তীব্র তাপপ্রবাহ: জুন ২০২৬-এর পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতে অসহনীয় গরম এবং দীর্ঘমেয়াদী খরা দেখা দিতে পারে ।
কৃষি ও খাদ্য সংকট: বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কমে যাবে (প্রায় ১৪৫ মিলিমিটার বা তার বেশি), যা আমন ও আউশ ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
পানি ও বিদ্যুৎ সংকট: খরা এবং পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির অভাব এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
কেন এটি কেবল আতঙ্ক ছড়ানো নয়?
এটি কেবল অহেতুক ভীতি নয়, কারণ বিশেষজ্ঞরা স্যাটেলাইট ডাটা, সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস দিচ্ছেন। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে এল নিনো তৈরির সম্ভাবনা ৬০ শতাংশেরও বেশি।
সতর্কতা: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন জলবায়ু সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এটি ২০২৩-২০২৪ সালের রেকর্ড ভাঙা উষ্ণতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, ফলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর আগাম প্রস্তুতি ও খরা-সহনশীল ফসলের চাষ প্রয়োজন।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















