সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং ত্যাগের মহিমায় রাজধানীসহ সারাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এই ঈদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ত্যাগের আদর্শে উদ্ভাসিত করে আসছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে সারাদেশে মুসল্লিরা নিজ নিজ এলাকার ঈদগাহ বা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। নামাজের আগে খতিবরা খুতবায় কুরবানির তাৎপর্য তুলে ধরেন। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি এই শুভক্ষণে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। বিশ্ববাসীকেও জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমান পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে প্রস্তুত। ইসলামের এই মহিমান্বিত উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং তা স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন ও ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এ দিবসকে মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত প্রধান ঈদ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন।

নামাজ শেষে দেশ ও জাতির এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক।

অন্যদিকে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। এরপর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়া এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।

নামাজের পূর্বে ডেপুটি স্পিকার ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এসময় ডেপুটি স্পিকার বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

জামাত ও খুতবা শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম ক্বারি আবু রায়হান।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

আপডেট সময় ১২:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং ত্যাগের মহিমায় রাজধানীসহ সারাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এই ঈদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ত্যাগের আদর্শে উদ্ভাসিত করে আসছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে সারাদেশে মুসল্লিরা নিজ নিজ এলাকার ঈদগাহ বা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। নামাজের আগে খতিবরা খুতবায় কুরবানির তাৎপর্য তুলে ধরেন। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি এই শুভক্ষণে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। বিশ্ববাসীকেও জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমান পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে প্রস্তুত। ইসলামের এই মহিমান্বিত উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং তা স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন ও ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এ দিবসকে মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত প্রধান ঈদ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন।

নামাজ শেষে দেশ ও জাতির এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক।

অন্যদিকে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। এরপর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়া এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।

নামাজের পূর্বে ডেপুটি স্পিকার ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এসময় ডেপুটি স্পিকার বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

জামাত ও খুতবা শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম ক্বারি আবু রায়হান।