বাঘ দিবস

সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গলের সুদিন ফিরছে?

সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গলের সুদিন ফিরছে? ছবি : প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন

বাঘের প্রজাতির মধ্যে হালে-চালে সবচেয়ে রাজকীয়, দেখতে আকর্ষণীয় এবং থাবার জোরে মহাশক্তিধর রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের পরিচয় ও প্রাণী সম্পদের প্রতীক এই প্রাণীটি। বিশাল সুন্দরবনের বেশিরভাগ অংশ বাংলাদেশে, বাকী অংশ ভারতে। তাই রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের গর্বের এক প্রতীকও বটে। তাইতো ক্রিকেটের জার্সিতেও বাংলার বাঘ। বনজীবী ও সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দারা রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে আপন করে ডাকে ‘মামা’। গাজী কালু ও চম্পাবতীর পৌরাণিক গল্পেও নায়কের সঙ্গী এই বাঘ। অথচ সুন্দরবন ও দেশের এই সম্পদ ঠেকেছিল বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধির খবর আসলেও বাংলাদেশ অংশে বাঘের বিষয়ে আশাবাদী হওয়ার খবর তেমন পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে সাম্প্রতিক শুমারিগুলো দিচ্ছে আশার খবর। জানা যাচ্ছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সুদিন ফিরছে।

সাধারণত ২৯ জুলাই আন্তুর্জাতিক বাঘ দিবসের দিনে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা প্রকাশিত হয়ে আসছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় এবার এই সংখ্যা প্রকাশের দিনটি পিছিয়েছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে শেষ হয়েছে সুন্দরবনে বাঘ শুমারি। ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামী মাসে অথবা সেপ্টেম্বরে। তখন জানা যাবে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা। যদিও বনবিভাগ বলছে, ৬ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা।

সুন্দরবনে বাঘের সুদিন কি ফিরছে?

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সুন্দরবনে বাঘ শুমারি শুরু হয়। এর মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয় চার মাস আগে। এখন চলছে বিশ্লেষণ। এবারের শুমারিতে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা বন বিভাগের। সমীক্ষা বলছে, বনে যে খাবার আছে, তাতে টিকে থাকতে পারে কমপক্ষে ১৬৪টি বাঘ।

সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জে শুমারি হয়। এ বছরের প্রথম দিকে বনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জেও একই পদ্ধতিতে শুমারি করা হয়েছে। ৪০ দিন ধরে প্রতিটি রেঞ্জের ১৪৫টি পয়েন্টে দুটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। এ ছাড়া সুন্দরবনে খাল সার্ভের মাধ্যমে বাঘের পায়ের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। এবার বাঘের বাচ্চার পায়ের ছাপ বেশি পাওয়ায় আশাবাদী বনবিভাগ। তাদের ধারণা বনে বাঘ বাড়বে।

বিশ্বে বুনো পরিবেশে টিকে থাকা বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৮৯০। এর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশে সুন্দরবনের দুই অংশ মিলিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে দুইশর কিছু বেশি।

২০০৪ সালে বন বিভাগের জরিপে পায়ের ‘ছাপ’ গণনা করে বলা হয়, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৪৪০। ২০১৫ সালে প্রথম ক্যামেরা ট্র্যাপ ব্যবহার করে বাঘের ছবি তুলে এবং পায়ের ছাপ গণনা করে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে বাঘের ওপর জরিপ চালানো হয়। ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে করা শুমারিতে এ সংখ্যা নেমে আসে ১০৬ এ। ২০১৮ সালের তা বেড়ে ১১৪ হয়।

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

বাঘ দিবস

সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গলের সুদিন ফিরছে?

আপডেট সময় ০২:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০২৪

বাঘের প্রজাতির মধ্যে হালে-চালে সবচেয়ে রাজকীয়, দেখতে আকর্ষণীয় এবং থাবার জোরে মহাশক্তিধর রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের পরিচয় ও প্রাণী সম্পদের প্রতীক এই প্রাণীটি। বিশাল সুন্দরবনের বেশিরভাগ অংশ বাংলাদেশে, বাকী অংশ ভারতে। তাই রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের গর্বের এক প্রতীকও বটে। তাইতো ক্রিকেটের জার্সিতেও বাংলার বাঘ। বনজীবী ও সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দারা রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে আপন করে ডাকে ‘মামা’। গাজী কালু ও চম্পাবতীর পৌরাণিক গল্পেও নায়কের সঙ্গী এই বাঘ। অথচ সুন্দরবন ও দেশের এই সম্পদ ঠেকেছিল বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধির খবর আসলেও বাংলাদেশ অংশে বাঘের বিষয়ে আশাবাদী হওয়ার খবর তেমন পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে সাম্প্রতিক শুমারিগুলো দিচ্ছে আশার খবর। জানা যাচ্ছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সুদিন ফিরছে।

সাধারণত ২৯ জুলাই আন্তুর্জাতিক বাঘ দিবসের দিনে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা প্রকাশিত হয়ে আসছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় এবার এই সংখ্যা প্রকাশের দিনটি পিছিয়েছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে শেষ হয়েছে সুন্দরবনে বাঘ শুমারি। ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামী মাসে অথবা সেপ্টেম্বরে। তখন জানা যাবে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা। যদিও বনবিভাগ বলছে, ৬ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা।

সুন্দরবনে বাঘের সুদিন কি ফিরছে?

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সুন্দরবনে বাঘ শুমারি শুরু হয়। এর মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয় চার মাস আগে। এখন চলছে বিশ্লেষণ। এবারের শুমারিতে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা বন বিভাগের। সমীক্ষা বলছে, বনে যে খাবার আছে, তাতে টিকে থাকতে পারে কমপক্ষে ১৬৪টি বাঘ।

সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জে শুমারি হয়। এ বছরের প্রথম দিকে বনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জেও একই পদ্ধতিতে শুমারি করা হয়েছে। ৪০ দিন ধরে প্রতিটি রেঞ্জের ১৪৫টি পয়েন্টে দুটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। এ ছাড়া সুন্দরবনে খাল সার্ভের মাধ্যমে বাঘের পায়ের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। এবার বাঘের বাচ্চার পায়ের ছাপ বেশি পাওয়ায় আশাবাদী বনবিভাগ। তাদের ধারণা বনে বাঘ বাড়বে।

বিশ্বে বুনো পরিবেশে টিকে থাকা বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৮৯০। এর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশে সুন্দরবনের দুই অংশ মিলিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে দুইশর কিছু বেশি।

২০০৪ সালে বন বিভাগের জরিপে পায়ের ‘ছাপ’ গণনা করে বলা হয়, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৪৪০। ২০১৫ সালে প্রথম ক্যামেরা ট্র্যাপ ব্যবহার করে বাঘের ছবি তুলে এবং পায়ের ছাপ গণনা করে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে বাঘের ওপর জরিপ চালানো হয়। ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে করা শুমারিতে এ সংখ্যা নেমে আসে ১০৬ এ। ২০১৮ সালের তা বেড়ে ১১৪ হয়।