ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনে তিনি মারা যান। তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের দ্বিতীয় এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার (৮ অগাস্ট) সকালে বুদ্ধদেবের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার ছেলে সুচেতন ভট্টাচার্য। তিনি জানান, সকালে নাস্তা করার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তার বাবা। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। শয্যাশায়ী ছিলেন। বুধবার থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে, বৃহস্পতিবার সকালে এলো মৃত্যুসংবাদ।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবন ছিল তার। প্রথমে কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৮৭ সালে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ান। ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন।

১৯৪৪ সালের ১ মার্চ কলকাতায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জন্ম। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার কাকা। আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী এই মানুষটির রুচিবোধ নিয়ে এখনও চর্চা হয়। রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাতেও সমান আগ্রহ ছিল তার। শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয় থেকে স্কুলজীবন শেষ করে প্রেসিডেন্সি কলেজে (অধুনা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।
১৯৬৬ সালে সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ নেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ১৯৭২ সালে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে বিধানসভা ভোটে প্রথমবার লড়াই। ২০১১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সে জয়যাত্রা অব্যাহত থেকেছে। রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তথ্য সংস্কৃতি দফতর থেকে পর্যটন, নগরোন্নয়ন-কখনও পূর্ণ মন্ত্রী, কখনও আবার সাময়িকভাবে দফতরের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯৬ সালের পর স্বরাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ১৯৯৯ সালে ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। জ্যোতি বসু অবসর নেওয়ার পর ২০০০ সালে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন তিনি।
সূত্র: সংবাদপ্রতিদিন ও আনন্দবাজারপত্রিকা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 










