মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। অঞ্চলটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রোমানিয়ায় সাতজন, পোল্যান্ডে পাঁচজন, চেক প্রজাতন্ত্রে তিনজন এবং অস্ট্রিয়ায় একজন মারা গেছেন।
নিম্নচাপের কারণে গত কয়েকদিনে মধ্য ইউরোপীয় দেশগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। তার জেরে অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, পোল্যান্ড এবং রোমানিয়ার কিছু অংশে এরই মধ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের শেষের দিকে স্লোভাকিয়া এবং হাঙ্গেরিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পোলিশ সীমান্তের কাছে জেসেনিকি পাহাড় সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুটি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে চেক প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষ।
দেশটির উত্তর-পূর্বে বেশ কিছু শহর ও নগর তলিয়ে গেছে। সেখান থেকে হাজার হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই কাজে যোগ দিয়েছে সামরিক হেলিকপ্টারও।
![]()
হাঙ্গেরিতে বুদাপেস্টের মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্যা’ সপ্তাহের শেষের দিকে রাজধানীতে আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবারই দানিয়ুব নদীর পানি স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করতে পারে।
মধ্য ইউরোপে এই দুর্যোগের কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া এমন বন্যার নেপথ্য কারণ।
ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গ্রান্থাম ইনস্টিটিউটের জয়েস কিমুতাই বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মধ্য ইউরোপে এমন বিপর্যয়কর বৃষ্টি হবে বিজ্ঞানীদের এব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে ভারী বৃষ্টিতে ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে যে মানুষদের প্রাণহানি তাতে একটা ব্যাপার স্পষ্ট যে এধরনের দুর্যোগ সামাল দিতে আমাদের আসলে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেই।’
গার্ডিয়ান বলছে, মনুষ্যসৃষ্ট কারণে এরকম ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে এরকমটা বলার ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট সতর্ক। কারণ পানিচক্রে আরও নানা বিষয় জড়িত থাকে। যদিও গরম বাতাসে বেশি জলীয়বাষ্প থাকে এটা সুপ্রতিষ্ঠিত একটি ধারণা। জুরিখের জলবায়ু বিজ্ঞানী সোনিয়া সেনেভিরাতনে মধ্য ইউরোপের বন্যার তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান করে বলেছেন, ‘এত জলীয়বাষ্প এসেছে কৃষ্ণ সাগর এবং ভূমধ্যসাগর থেকে। এই দুই সাগরই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মনুষ্যসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আগের চেয়ে বেশি উত্তপ্ত হচ্ছে। ফলে দুই সাগরের পানি অতিমাত্রায় বাষ্প হয়ে পরে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে।’

গ্রান্থাম ইনস্টিটিউটের আরেক জলবায়ু বিজ্ঞানী ফ্রিয়েদিরিকে অটো বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে, বেশ উন্নত দেশগুলোও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে নিরাপদ নয়।’
ডেস্ক রিপোর্ট 










