আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমান

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গত বছরের ১৭ আগস্ট মাহমুদুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত শুক্রবার সকালে দেশে ফেরেন তিনি।

আজ রোববার মাহমুদুর রহমান আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বেলা সোয়া ১১টা দিকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানিতে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, “এই মামলা কার জন্য, কখন করা হয়েছে-এটা আমরা নাই বললাম। এ মামলাটির ঘটনা ঘটেছে আমেরিকায়। সেখানকার আইনব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী, সেটা আমরা জানি। “কারসাজি করে মামলার ঘটনাটি বাংলাদেশে দেখিয়ে একটি সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় মাহমুদুর রহমান সাহেবকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ১২৩ ধারায় তাকে আরো দুই বছরের সাজা দেয়া হয়েছে, যেটা সহযোগী হিসেবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ আরো দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “মাহমুদুর রহমান আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি বিদেশে ছিলেন, আইন মান্য করে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি আইনের প্রতি এতই শ্রদ্ধাশীল- তিনি যখন কারাগার থেকে আদালতে আসতেন, তিনি বিশেষ সুবিধায় গাড়ি না নিয়ে সাধারণ প্রিজন ভ্যানে করেই আদালতে আসতেন।

“আমরা বিনীত আবেদন করব, আমরা আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সই মুহুরির নকল যেন দ্রুত পেতে পারি- তার জন্য বিজ্ঞ আদালত দয়া করে একটি আদেশ দেবেন। এছাড়া কারাবিধি অনুসারে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, আমি আবেদন করব তাকে যেন সে সুবিধাগুলো দেওয়া হয়।” তিনি আসামির প্রথম শ্রেণির ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশনা চাইলে বিচারক কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমান prokritibarta

শুনানি শুরুর আগে এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মাহমুদুর রহমান।

তিনি বলেন, “আমি কোনো দলের হয়ে কখনো লড়াই করিনি। আমি অতীতে যেমন ন্যায়ের জন্য লড়াই করে গেছি, এই ন্যায়ের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমি ন্যায়ের জন্য লড়াই করে যাব।”

এ মামলায় গত বছরের ১৭ অগাস্ট মাহমুদুর রহমান, যায়যায়দিনের সাবেক সম্পাদক শফিক রেহমান, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে যে কোনো সময় থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার আসামিরা একত্রিত হয়ে যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন।

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমান prokritibarta

২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এ মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর গত বছরের ১৭ অগাস্ট আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান রাষ্ট্রদ্রোহের এক মামলায় ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজারে আমার দেশ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন। পরে কারাবান্দি অবস্থায় ২০১৬ সালের এপ্রিলে তাকে জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাড়ে তিন বছর জেলে থাকার পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে মাহমুদুর রহমান জামিনে মুক্তি পান। পরে তিনি লন্ডনে চলে যান। সাড়ে ৫ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত শুক্রবার তিনি দেশে ফেরেন।

আরেক সাংবাদিক শফিক রেহমানকে ২০১৬ সালের এপ্রিলে ইস্কাটনের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সে সময় দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিএনপিঘনিষ্ঠ এই সম্পাদককে।

পাঁচ মাস কারাগারে থাকার পর সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান যায়যায়দিনের সাবেক সম্পাদক। পরে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৮ অগাস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমান

আপডেট সময় ০৫:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গত বছরের ১৭ আগস্ট মাহমুদুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত শুক্রবার সকালে দেশে ফেরেন তিনি।

আজ রোববার মাহমুদুর রহমান আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বেলা সোয়া ১১টা দিকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানিতে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, “এই মামলা কার জন্য, কখন করা হয়েছে-এটা আমরা নাই বললাম। এ মামলাটির ঘটনা ঘটেছে আমেরিকায়। সেখানকার আইনব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী, সেটা আমরা জানি। “কারসাজি করে মামলার ঘটনাটি বাংলাদেশে দেখিয়ে একটি সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় মাহমুদুর রহমান সাহেবকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ১২৩ ধারায় তাকে আরো দুই বছরের সাজা দেয়া হয়েছে, যেটা সহযোগী হিসেবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ আরো দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “মাহমুদুর রহমান আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি বিদেশে ছিলেন, আইন মান্য করে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি আইনের প্রতি এতই শ্রদ্ধাশীল- তিনি যখন কারাগার থেকে আদালতে আসতেন, তিনি বিশেষ সুবিধায় গাড়ি না নিয়ে সাধারণ প্রিজন ভ্যানে করেই আদালতে আসতেন।

“আমরা বিনীত আবেদন করব, আমরা আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সই মুহুরির নকল যেন দ্রুত পেতে পারি- তার জন্য বিজ্ঞ আদালত দয়া করে একটি আদেশ দেবেন। এছাড়া কারাবিধি অনুসারে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, আমি আবেদন করব তাকে যেন সে সুবিধাগুলো দেওয়া হয়।” তিনি আসামির প্রথম শ্রেণির ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশনা চাইলে বিচারক কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমান prokritibarta

শুনানি শুরুর আগে এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মাহমুদুর রহমান।

তিনি বলেন, “আমি কোনো দলের হয়ে কখনো লড়াই করিনি। আমি অতীতে যেমন ন্যায়ের জন্য লড়াই করে গেছি, এই ন্যায়ের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমি ন্যায়ের জন্য লড়াই করে যাব।”

এ মামলায় গত বছরের ১৭ অগাস্ট মাহমুদুর রহমান, যায়যায়দিনের সাবেক সম্পাদক শফিক রেহমান, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে যে কোনো সময় থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার আসামিরা একত্রিত হয়ে যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন।

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমান prokritibarta

২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এ মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর গত বছরের ১৭ অগাস্ট আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান রাষ্ট্রদ্রোহের এক মামলায় ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজারে আমার দেশ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন। পরে কারাবান্দি অবস্থায় ২০১৬ সালের এপ্রিলে তাকে জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাড়ে তিন বছর জেলে থাকার পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে মাহমুদুর রহমান জামিনে মুক্তি পান। পরে তিনি লন্ডনে চলে যান। সাড়ে ৫ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত শুক্রবার তিনি দেশে ফেরেন।

আরেক সাংবাদিক শফিক রেহমানকে ২০১৬ সালের এপ্রিলে ইস্কাটনের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সে সময় দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিএনপিঘনিষ্ঠ এই সম্পাদককে।

পাঁচ মাস কারাগারে থাকার পর সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান যায়যায়দিনের সাবেক সম্পাদক। পরে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৮ অগাস্ট তিনি দেশে ফেরেন।