‘আমরা ওদের তীব্র চিৎকার, কান্না শুনেছি, ভয়ে এগিয়ে আসিনি, কিন্তু পরে এসে দেখলাম ওরা মরে পড়ে আছে, কিছু যেন ওদের শুষে নিয়েছে,’ এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্যের বর্ণনা দিচ্ছিলেন এক মেক্সিকান নারী। এবছরের মে মাসে বিশ্বসংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল চরম তাপমাত্রায় মেক্সিকোর হাওলার মাঙ্কিদের করুণ পরিণতির কথা। এবছর প্রায় ২০০ হাওলার বানর মারা গেছে প্রচণ্ড গরমে, তৃষ্ণায় ছটফট করে।
তীব্র তাপপ্রবাহে পানির অভাবে ধুঁকতে থাকা বানরগুলো একে একে মাটিতে আছড়ে পড়ছিল গাছ থেকে। বাঁচার আকুতিতে তীব্র চিৎকার, দুর্বল হয়ে কান্না করা প্রাণীগুলোর শব্দ শুনেছিল আশপাশের গ্রামের মানুষ। বার্তাসংস্থা এপির খবরে বলা হয়, তাপমাত্রা সংক্রান্ত কারণে এবছরের গ্রীষ্মে মেক্সিকোর চারটি রাজ্য থেকে হাওলার বানরদের করুণ পরিণতির তথ্য এসেছে।
শুরুতে বানরদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা একমত যে মেক্সিকোর তাপমাত্রা অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় প্রাণীগুলোর এই দশা হয়েছে।

হাওলার ছাড়াও তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় বিপদে কাপুচিন বানররাও। নতুন এক সমীক্ষা বলছে, বন্য ক্যাপুচিন বানর তাপমাত্রা বাড়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ তাপমাত্রার মধ্যে থাকার কারণে এই প্রজাতির অল্পবয়সী বানর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানী জর্ডান লুকোর কোস্টারিকার সাদা মুখের ক্যাপুচিন বানরের ওপর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বনের ওপর প্রভাব তৈরি করছে। বন্য প্রাণীদের জন্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি বড় ধরনের হুমকির কারণ এখন। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের বানরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার (ইমিউন সিস্টেম) ওপর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তাপমাত্রা পরিবর্তনের জন্য বদলে যাচ্ছে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও প্রজননের ওপর এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এ প্রভাব নিয়ে ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’–এ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বেশি তাপমাত্রা সহ্য করলে বানরের সাধারণ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। তখন বানর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।
অনেক প্রাণী তাপমাত্রার পরিবর্তন অনুসারে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, অল্পবয়সী বানরদের প্রতিরোধব্যবস্থা তাপের কারণে বেশি করে প্রভাবিত হয়। বিজ্ঞানী জর্ডান বলেন, আমরা দেখছি, অল্পবয়স্ক বানরেরা বয়স্ক বানরের চেয়ে তাপমাত্রা দ্বারা বেশি প্রভাবিত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে। এ পরিবর্তন বানরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ওপর কেমন প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।
ডেস্ক রিপোর্ট 










