আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহবান : পরিবেশমন্ত্রী

কঠিন বর্জ্যপদার্থ মাটির ওপর দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে তা পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, পরিবেশ দূষিত হয়। এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, পচা-আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়, পোকা-মাকড়ের জন্ম হয়, রোগজীবাণু ছড়ায় এবং পরিবেশের সৌন্দর্যহানি ঘটায়। কঠিন বর্জ্যপদার্থর মূল উৎস কল-কারখানার বর্জ্য, নগরায়ণ, কৃষিজাত কঠিন বর্জ্যবস্তু, বায়ো মেডিকেল প্যাথলোজিক্যাল বর্জ্য বা হাসপাতালের বর্জ্য, গৃহস্থালির বর্জ্য, খনিজাত কঠিন বর্জ্য, গ্রাম ও নগর জনবসতি এবং পৌরবসতির বর্জ্য। কঠিন বর্জ্য পদার্থসমূহের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে অমূল্য সম্পদে পরিণত করা যায়। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্তমান বিশ্ব আজ হুমকির সম্মুখীন।

বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম জনবহুল এবং দশম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিপুল জনসংখ্যার সঙ্গে সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা তারই সঙ্গে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক পদ্ধতির সঠিক বাস্তবায়ন করা হয়ে ওঠেনি এখনো।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহবান : পরিবেশমন্ত্রী prokritibarta

বর্জ্য পদার্থসমূহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় দূষণ রোধ করতে হবে এবং বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অবলম্বন করা খুবই জরুরি। এরই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী বর্জ্য সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শক্তিশালী অংশীদারি বৃদ্ধির আহবান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি এবং বর্জ্যসম্পদের সার্কুলারিটি বাড়াতে উদ্ভাবনী সমাধান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের ‘পার্টনারশিপ ফর অ্যাড্রেসিং দ্য ওয়েস্ট ক্রাইসিস অ্যান্ড অ্যাকসেলারেটিং সার্কুলারিটি : এ নিউ পলিসি সাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ ফর ডাটা অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে এ কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী। গতকাল শনিবার নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ভবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন নীতি সমর্থন প্ল্যাটফরম এবং প্রকাশনার সূচনা করেছে।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহবান : পরিবেশমন্ত্রী prokritibarta

এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো লাইফ-সাইকেল পদ্ধতির মাধ্যমে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রিসোর্স সার্কুলারিটি অগ্রসর করতে প্রয়োজনীয় ডাটা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থায়নের চাপের দুর্বলতা মোকাবেলায় জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা করা।

অনুষ্ঠান শেষে পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আমিনা জে মুহাম্মদ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রশাসক আচিম স্টেইনার, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অফিসের প্রধান চুন কিয়ো পার্কের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। ওই সব বৈঠকে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহবান : পরিবেশমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

কঠিন বর্জ্যপদার্থ মাটির ওপর দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে তা পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, পরিবেশ দূষিত হয়। এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, পচা-আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়, পোকা-মাকড়ের জন্ম হয়, রোগজীবাণু ছড়ায় এবং পরিবেশের সৌন্দর্যহানি ঘটায়। কঠিন বর্জ্যপদার্থর মূল উৎস কল-কারখানার বর্জ্য, নগরায়ণ, কৃষিজাত কঠিন বর্জ্যবস্তু, বায়ো মেডিকেল প্যাথলোজিক্যাল বর্জ্য বা হাসপাতালের বর্জ্য, গৃহস্থালির বর্জ্য, খনিজাত কঠিন বর্জ্য, গ্রাম ও নগর জনবসতি এবং পৌরবসতির বর্জ্য। কঠিন বর্জ্য পদার্থসমূহের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে অমূল্য সম্পদে পরিণত করা যায়। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্তমান বিশ্ব আজ হুমকির সম্মুখীন।

বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম জনবহুল এবং দশম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিপুল জনসংখ্যার সঙ্গে সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা তারই সঙ্গে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক পদ্ধতির সঠিক বাস্তবায়ন করা হয়ে ওঠেনি এখনো।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহবান : পরিবেশমন্ত্রী prokritibarta

বর্জ্য পদার্থসমূহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় দূষণ রোধ করতে হবে এবং বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অবলম্বন করা খুবই জরুরি। এরই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী বর্জ্য সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শক্তিশালী অংশীদারি বৃদ্ধির আহবান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি এবং বর্জ্যসম্পদের সার্কুলারিটি বাড়াতে উদ্ভাবনী সমাধান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের ‘পার্টনারশিপ ফর অ্যাড্রেসিং দ্য ওয়েস্ট ক্রাইসিস অ্যান্ড অ্যাকসেলারেটিং সার্কুলারিটি : এ নিউ পলিসি সাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ ফর ডাটা অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে এ কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী। গতকাল শনিবার নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ভবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন নীতি সমর্থন প্ল্যাটফরম এবং প্রকাশনার সূচনা করেছে।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহবান : পরিবেশমন্ত্রী prokritibarta

এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো লাইফ-সাইকেল পদ্ধতির মাধ্যমে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রিসোর্স সার্কুলারিটি অগ্রসর করতে প্রয়োজনীয় ডাটা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থায়নের চাপের দুর্বলতা মোকাবেলায় জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা করা।

অনুষ্ঠান শেষে পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আমিনা জে মুহাম্মদ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রশাসক আচিম স্টেইনার, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অফিসের প্রধান চুন কিয়ো পার্কের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। ওই সব বৈঠকে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত।