ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিরর ছেলে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনিই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
রোববার দেশটির ধর্মীয় নেতারা আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় ছেলেকে পরবর্তী নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন।
ইরানের শাসকগোষ্ঠী বিরোধীদের সংবাদমাধ্যম লন্ডনভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনাল বলছে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেছে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা ৮৮ সদস্যের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ প্রয়াত নেতা খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ৫৬ বছর বয়সী তার মেঝ ছেলেকেই বেছে নিয়েছে।
অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট নতুন নেতার প্রতি সবাইকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। নূর নিউজ প্রকাশিত এক ভিডিওতে পর্ষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি বলেন, ‘প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। পরামর্শটি ছিল—ইরানের শীর্ষ নেতাকে এমন হতে হবে, যাঁকে ‘শত্রুরা ঘৃণা করবে’, প্রশংসা নয়।’

বাছাই করা উত্তরসূরি সম্পর্কে হায়দারি আলেকাসির বলেন, ‘এমনকি ‘‘বড় শয়তান’’ (যুক্তরাষ্ট্র) তাঁর নাম উল্লেখ করেছে।’
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি তাঁর কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’ পছন্দ।
মোজতবার নিয়োগ মর্যাদা ও শক্তির নতুন যুগের সূচনা করেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মোজতবা খামেনিকে সমর্থন জানিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মোজতোবার ‘ক্ষমতায় আরোহনের পেছনে মূল প্রভাব’ রেখেছে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)।
“আইআরজিসি নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আলেমদের ওপর মোজতোবাকে বেছে নিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিল,” বলছে ইরানের ইসলামিক শাসনব্যবস্থাবিরোধী এ সংবাদমাধ্যম।
দায়িত্ব পেলে মোজতোবাকে একদিকে ‘প্রতিশোধের নেশায় পাগল হয়ে থাকা’ আইআরজিসিরি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল যেমন ঠিক করতে হবে, তেমনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতেও নানান ব্যবস্থা নিতে হবে।
মোজতবা খামেনির সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতোবা ৬ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার ছোটবেলাতেই তার বাবা ইরানের সর্বশেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে উৎখাতের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর তাদের পরিবারের ভাগ্য বদলে যায়, রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসে খামেনি পরিবার।
তেহরানে চলে আসা মোজতোবা পড়তে যান আলাভি হাই স্কুলে; এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট অনেকে উঠে এসেছেন। আলাভি থেকে মোজতোবা পরে যান কোমে, রক্ষণশীলদের আলেমদের কাছ থেকে ধর্মীয় শিক্ষা নিতে। দশকেরও বেশি সময় ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় কাটালেও তিনি আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা অর্জন করতে পারেননি।

সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ নেতার ধর্মীয় পদমর্যাদাও উঁচুতে থাকার কথা, যে কারণে মোজতোবার ক্ষমতাগ্রহণ নিয়ে জ্যেষ্ঠ আলেমদের মধ্যে আপত্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় মোজতোবা হাবিব ব্যাটেলিয়নে যুদ্ধ করেছিলেন; পরবর্তীতে ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন পদে আরোহন করা অনেকের সঙ্গে তার সেসময়ই খাতির হয়।
নির্বাচনে জয় বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি দায়িত্বে না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই তাকে বাবার কার্যালয়ের ‘অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে দেখতেন ইরানি শাসনব্যবস্থার ভেতরের লোকজন।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 










