কক্সবাজার সৈকতে এবার তিন প্লাস্টিক দানব (ছবিতে)

কক্সবাজার সৈকতে এবার তিন প্লাস্টিক দানব (ছবিতে)

বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশের নীলজলরাশির একমাত্র দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে দেখা গিয়েছিল প্লাস্টিকের বিশালাকার এক মাছ এবং একটি কচ্ছপ।

২০২২ সালে সেন্ট মার্টিনে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে বানানো ভাস্কর্য

এবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখা গেল ৬২ ফুট উঁচু বিশাল এক ‘প্লাস্টিক দানব’, তার পাশে কিম্ভূত দুই ছোট দানব। সমুদ্রের ধারে প্লাস্টিকের এই ভয়াল আকৃতিগুলোর মানে কী? সহজ উত্তর প্রকৃতি-পরিবেশ-জীববৈচিত্র্যের হুমকি হয়ে উঠেছে ভয়াবহ প্লাস্টিক দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য দিনকে দিন পাহাড় থেকে সমুদ্র সব জায়গায় দানবীয় আকার নিচ্ছে, গ্রাস করছে পৃথিবীকে।

রাতেও সৈকতে চোখ রাঙাচ্ছে প্লাস্টিক দানবেরা

সর্বনাশা প্লাস্টিকে সয়লাব হচ্ছে সমুদ্র। তাই ভয়াল পরিণতির বার্তা দিয়ে সবাইকে সচেতন করতে বিগত চেষ্টাগুলোর ধারাবাহিকতায় এবার কক্সবাজারে নির্মাণ করা হয়েছে বিশালাকার এই প্লাস্টিক দানব।

৬২ ফুট উচ্চতার সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক বর্জ্যের ভাস্কর্য তৈরিতে লেগেছে ১০ টন প্লাস্টিক। প্লাস্টিক দূষণ রোধে মানুষকে সচেতন করতেই ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বোর্ডের সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন সৈকত উপকূল থেকে সংগৃহিত ১০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের এক দল শিক্ষার্থী গত ৮ নভেম্বর থেকে এটি নির্মাণের কাজ শুরু করে। তিন ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

এখন সৈকতের এই দানবদের সামনে পর্যটকরা ভিড় করছেন, তুলছেন ছবি, সঙ্গে এটাও বুঝতে পারছেন আপাতত নানাকাজে লাগা সহজলভ্য সস্তা প্লাস্টিক ধীরে ধীরে দানব হয়ে উঠছে।

এধরনের ভাস্কর্য কয়েক বছর ধরে বানিয়ে আসছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাচ্ছি যে প্লাস্টিক কিভাবে মানবজাতিকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলছে। এতে করে প্লাস্টিক বর্জ্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়বে। বিশেষ করে পর্যটকদের মাঝে, যাতে তারা দায়িত্বশীল পর্যটন সম্পর্কে বোঝেন এবং প্রকৃতি বিনাশী কার্যকলাপ থেকে সরে আসেন।’

জেলা প্রশাসন বলছে, প্লাস্টিক দূষণরোধে ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যে জনসচেতনতা। চার মাস পর আমরা এটিকে যথাযথভাবে রিসাইকেলের জন্য ব্যবস্থা নেব। ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার তৈরি হলেই কেবল প্লাস্টিকের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব।

শুধু ভাস্কর্য বানিয়ে সচেতনতা নয়, এর পাশেই স্টল, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ প্লাস্টিক দ্রব্য জমা দিলে বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

প্লাস্টিক জমা দিলে মিলছে নিত্যপণ্য

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন জানায়, গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ টন প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে। চারমাস ব্যাপী এ কর্মসূচিতে ৫ লাখ কেজি প্লাস্টিক রিসাইকেল করার কথা রয়েছে। এতে সরকারের প্লাস্টিক রিসাইকেলে খরচ কমার পাশাপাশি বাড়বে জনসচেতনতা।

 

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

কক্সবাজার সৈকতে এবার তিন প্লাস্টিক দানব (ছবিতে)

আপডেট সময় ০৪:১৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪

বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশের নীলজলরাশির একমাত্র দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে দেখা গিয়েছিল প্লাস্টিকের বিশালাকার এক মাছ এবং একটি কচ্ছপ।

২০২২ সালে সেন্ট মার্টিনে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে বানানো ভাস্কর্য

এবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখা গেল ৬২ ফুট উঁচু বিশাল এক ‘প্লাস্টিক দানব’, তার পাশে কিম্ভূত দুই ছোট দানব। সমুদ্রের ধারে প্লাস্টিকের এই ভয়াল আকৃতিগুলোর মানে কী? সহজ উত্তর প্রকৃতি-পরিবেশ-জীববৈচিত্র্যের হুমকি হয়ে উঠেছে ভয়াবহ প্লাস্টিক দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য দিনকে দিন পাহাড় থেকে সমুদ্র সব জায়গায় দানবীয় আকার নিচ্ছে, গ্রাস করছে পৃথিবীকে।

রাতেও সৈকতে চোখ রাঙাচ্ছে প্লাস্টিক দানবেরা

সর্বনাশা প্লাস্টিকে সয়লাব হচ্ছে সমুদ্র। তাই ভয়াল পরিণতির বার্তা দিয়ে সবাইকে সচেতন করতে বিগত চেষ্টাগুলোর ধারাবাহিকতায় এবার কক্সবাজারে নির্মাণ করা হয়েছে বিশালাকার এই প্লাস্টিক দানব।

৬২ ফুট উচ্চতার সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক বর্জ্যের ভাস্কর্য তৈরিতে লেগেছে ১০ টন প্লাস্টিক। প্লাস্টিক দূষণ রোধে মানুষকে সচেতন করতেই ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বোর্ডের সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন সৈকত উপকূল থেকে সংগৃহিত ১০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের এক দল শিক্ষার্থী গত ৮ নভেম্বর থেকে এটি নির্মাণের কাজ শুরু করে। তিন ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

এখন সৈকতের এই দানবদের সামনে পর্যটকরা ভিড় করছেন, তুলছেন ছবি, সঙ্গে এটাও বুঝতে পারছেন আপাতত নানাকাজে লাগা সহজলভ্য সস্তা প্লাস্টিক ধীরে ধীরে দানব হয়ে উঠছে।

এধরনের ভাস্কর্য কয়েক বছর ধরে বানিয়ে আসছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাচ্ছি যে প্লাস্টিক কিভাবে মানবজাতিকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলছে। এতে করে প্লাস্টিক বর্জ্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়বে। বিশেষ করে পর্যটকদের মাঝে, যাতে তারা দায়িত্বশীল পর্যটন সম্পর্কে বোঝেন এবং প্রকৃতি বিনাশী কার্যকলাপ থেকে সরে আসেন।’

জেলা প্রশাসন বলছে, প্লাস্টিক দূষণরোধে ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যে জনসচেতনতা। চার মাস পর আমরা এটিকে যথাযথভাবে রিসাইকেলের জন্য ব্যবস্থা নেব। ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার তৈরি হলেই কেবল প্লাস্টিকের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব।

শুধু ভাস্কর্য বানিয়ে সচেতনতা নয়, এর পাশেই স্টল, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ প্লাস্টিক দ্রব্য জমা দিলে বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

প্লাস্টিক জমা দিলে মিলছে নিত্যপণ্য

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন জানায়, গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ টন প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে। চারমাস ব্যাপী এ কর্মসূচিতে ৫ লাখ কেজি প্লাস্টিক রিসাইকেল করার কথা রয়েছে। এতে সরকারের প্লাস্টিক রিসাইকেলে খরচ কমার পাশাপাশি বাড়বে জনসচেতনতা।