ভবিষ্যতের নিরাপদ আবাস নিশ্চিতে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে ব্যাংকিং খাতের ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সবুজ প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে আজারবাইজান। সম্মেলনে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে, সংকট মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সভ্যতা ও তথ্য-প্রযুক্তি। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার মিছিলে প্রাণ-প্রকৃতিকে বাদ দেয়ায় হুমকিতে পুরো সভ্যতা। সঙ্কট সমাধানে আলোচনায় কেন্দ্রে তাই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গুরুত্ব পাচ্ছে এবারের সম্মেলনে। উন্নয়নের বিপরীতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে আজারবাইজানের বাকুতে, জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে উঠে এসেছে, ধরিত্রী রক্ষায় নয়া উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের সাইড ইভেন্টে অভিযোজন, প্রশমন আর জাস্ট ট্রানজিশন নিশ্চিতে, বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে ন্যায্যতার ভিত্তিতে অর্থায়নে গুরুত্বারোপ করা হয়।সভ্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চিতে সব পক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।
সম্মেলনস্থল থেকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘ সম্মেলনের প্রথম সপ্তাহের শেষদিকে এসে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ডিজিটালাইজেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে কথা হচ্ছে।’
মুকিত মজুমদারের নেতৃত্বে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং চ্যানেল আই টিম।

এবছর সম্মেলনের প্রথম সপ্তাহ শেষে অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ প্রথম সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ ১৩ টি দেশের প্রধান আলোচনাকারীদের কিন্তু খুব একটা দেখা যায়নি। ১৩ টি দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন, ভারতের মতো দেশ, এছাড়া আরও বড়দেশগুলোও আছে। এরা আসলে সে অর্থে সম্মেলনে যোগ দেয়নি, সক্রিয় হয়নি। এরা না আসাতে এই সম্মেলনটি একটু নিষ্প্রভ হয়ে গেছে।’
এদিকে এমন বাস্তবতায় জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন কর্মসূচী ও বিক্ষোভ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
আশার কথা যে, সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-জিরো নির্গমন নিশ্চিত করা। আর এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার নিশ্চিতের পাশাপাশি উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ইতিবাচক বিনিয়োগ।
(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি ।
কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)
প্রকৃতি ও জীবন 










