কপ ২৯: এখন পর্যন্ত আশার চেয়ে হতাশার পাল্লা ভারি, লবিস্টরা সক্রিয়

কপ ২৯: এখন পর্যন্ত আশার চেয়ে হতাশার পাল্লা ভারি, লবিস্টরা সক্রিয়

জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে ১৭শ’ জনেরও বেশি কয়লা, তেল এবং গ্যাস লবিস্টের অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়াকে সম্মেলনের উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক বলেছেন জলবায়ু নীতি বিশেষজ্ঞরা। সম্মেলনের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় উঠে আসে এমন পর্যবেক্ষণ। জীবাস্ম জ্বালানী বন্ধে জোর আলোচনা ও নানা প্রতিশ্রুতির বিপরীতে এমন প্রবণতা, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সম্মেলনের লক্ষ্যকে সংকটে ফেলতে পারে জানিয়েছেন তারা। সম্মেলনের ৫ম দিনেও জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য প্রত্যাশিত  জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টিও উপেক্ষিত হচ্ছে। তবে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও মানব সভ্যতা ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের আশা করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা।

এবারের সম্মেলনের আশা-হতাশা বিষয়টি সম্মেলন ভেন্যুতেই অনুভূত হচ্ছে। বাকুতে কপ ২৯ সম্মেলনের ফাঁকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন,“আমরা খুবই আশ্চর্য হয়েছি যে এবার ১৭ শ লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে নানা বিষয় নিয়ে দরকষাকষি করার জন্য। আসলে ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্সে এরকম তৎপরতা আগে দেখিনি আমরা। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, কর্মীরা এটাকে একটু অন্যভাবে দেখছেন, সহজভাবে মেনে নেননি।“

এবারের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন এখনো প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশার মাত্রায় পৌঁছায়নি। অর্থাৎ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতির আলোচনা এগোচ্ছে না।

বিষয়টি তুলে ধরে মুকিত মজুমদার বলেন, ‘ কপ ২৯- এ যেধরনের আলোচনা হচ্ছে তাতে আগের সম্মেলনগুলোতে যেভাবে আলোচনা এগিয়েছে তা এবার দেখা যাচ্ছে না। বরং এবার একটু অন্যরকম পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। যার কারণে সবাই একটু হতাশ।  প্রত্যাশা ছিল কপ ২৯ -এ জলবায়ু অর্থায়ন সিদ্ধান্ত আসবে, কিন্তু আলোচনায় সেগুলো সেভাবে উঠে আসছে না। সব মিলিয়ে সম্মেলনের ৫ম দিনেও আমরা ভাল কিছু দেখছি না।’

হুমকিতে থাকা সভ্যতা রক্ষায় প্রায় ৩ দশক ধরে আয়োজিত হচ্ছে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। দীর্ঘ পথযাত্রায় নানা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও এবার প্রশ্ন উঠলো খোদ সম্মেলনের কার্যকারিতা নিয়ে। জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব বান কি-মুন, আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, প্রাক্তন ইউএন জলবায়ু প্রধান ক্রিশ্চিয়ানা ফিগুয়েরেস এবং বিখ্যাত জলবায়ু বিজ্ঞানী জোহান রকস্ট্রমের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা একটি চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছেন, কপ সম্মেলন আর কার্যকর নয় এবং এর প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা উচিত।

 

 

(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি ।   

কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)  

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

কপ ২৯: এখন পর্যন্ত আশার চেয়ে হতাশার পাল্লা ভারি, লবিস্টরা সক্রিয়

আপডেট সময় ০১:০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে ১৭শ’ জনেরও বেশি কয়লা, তেল এবং গ্যাস লবিস্টের অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়াকে সম্মেলনের উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক বলেছেন জলবায়ু নীতি বিশেষজ্ঞরা। সম্মেলনের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় উঠে আসে এমন পর্যবেক্ষণ। জীবাস্ম জ্বালানী বন্ধে জোর আলোচনা ও নানা প্রতিশ্রুতির বিপরীতে এমন প্রবণতা, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সম্মেলনের লক্ষ্যকে সংকটে ফেলতে পারে জানিয়েছেন তারা। সম্মেলনের ৫ম দিনেও জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য প্রত্যাশিত  জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টিও উপেক্ষিত হচ্ছে। তবে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও মানব সভ্যতা ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের আশা করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা।

এবারের সম্মেলনের আশা-হতাশা বিষয়টি সম্মেলন ভেন্যুতেই অনুভূত হচ্ছে। বাকুতে কপ ২৯ সম্মেলনের ফাঁকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন,“আমরা খুবই আশ্চর্য হয়েছি যে এবার ১৭ শ লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে নানা বিষয় নিয়ে দরকষাকষি করার জন্য। আসলে ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্সে এরকম তৎপরতা আগে দেখিনি আমরা। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, কর্মীরা এটাকে একটু অন্যভাবে দেখছেন, সহজভাবে মেনে নেননি।“

এবারের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন এখনো প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশার মাত্রায় পৌঁছায়নি। অর্থাৎ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতির আলোচনা এগোচ্ছে না।

বিষয়টি তুলে ধরে মুকিত মজুমদার বলেন, ‘ কপ ২৯- এ যেধরনের আলোচনা হচ্ছে তাতে আগের সম্মেলনগুলোতে যেভাবে আলোচনা এগিয়েছে তা এবার দেখা যাচ্ছে না। বরং এবার একটু অন্যরকম পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। যার কারণে সবাই একটু হতাশ।  প্রত্যাশা ছিল কপ ২৯ -এ জলবায়ু অর্থায়ন সিদ্ধান্ত আসবে, কিন্তু আলোচনায় সেগুলো সেভাবে উঠে আসছে না। সব মিলিয়ে সম্মেলনের ৫ম দিনেও আমরা ভাল কিছু দেখছি না।’

হুমকিতে থাকা সভ্যতা রক্ষায় প্রায় ৩ দশক ধরে আয়োজিত হচ্ছে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। দীর্ঘ পথযাত্রায় নানা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও এবার প্রশ্ন উঠলো খোদ সম্মেলনের কার্যকারিতা নিয়ে। জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব বান কি-মুন, আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, প্রাক্তন ইউএন জলবায়ু প্রধান ক্রিশ্চিয়ানা ফিগুয়েরেস এবং বিখ্যাত জলবায়ু বিজ্ঞানী জোহান রকস্ট্রমের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা একটি চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছেন, কপ সম্মেলন আর কার্যকর নয় এবং এর প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা উচিত।

 

 

(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি ।   

কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)