বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ ফি পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন : পরিবেশমন্ত্রী

বোটানিক্যাল গার্ডেনে বৃক্ষরাজির মধ্যে রয়েছে নানান ধরনের ফুল, ফল, বনজ এবং ঔষধি গাছ। বোটানিক্যাল গার্ডেনে ফুলের বাগান ছাড়াও রয়েছে পুকুর, দীঘি ও ঘাসে ঢাকা সবুজ মাঠ। ২০৮ একর জায়গা জুড়ে এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে প্রায় ৮০০ প্রজাতির বৃক্ষ। এছাড়া রয়েছে নানারকম পশুপাখি। ঢাকা শহরের ভেতরে সবুজের এই বিশাল রাজ্যে ঢাকা শহরের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষই বেশি ভ্রমণ করতে আসেন।

দর্শনার্থীরা বলেন, এখানে পরিবেশের সঙ্গে শিশুদের পরিচিত হওয়ার জন্য আসা। টিকিটের দাম বাড়ানো মানে মানুষের পকেট কাটার মতো। ২০ টাকার টিকিট ৪০ টাকা হলেও এটা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু এভাবে দাম বাড়ায় দর্শনার্থীরা এখন কম আসছেন। কারণ একটা পরিবারের ৫ জন প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্য বেড়াতে গেলে তাকে গুনতে হবে ৫০০ টাকা। এছাড়া ভ্রমণ পিপাসু ব্যক্তিদের অন্যান্য আনুসঙ্গিক খরচ তো আছেই। ফলে দর্শনার্থীরা এখানে বেড়াতে আসতে দ্বিধাবোধ করবেন।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ ফি পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন পরিবেশমন্ত্রী

এ ব্যাপারে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, মিরপুর, ঢাকা এর বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সোহেলা সরকার বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে প্রবেশ ফি বাড়ানো হয়েছে। আমরা শুধু এটা বাস্তবায়ন করছি। তবে কয়েকদিন গেলে বোঝা যাবে যে, এটার প্রভাব কেমন পড়েছে। এর আগে প্রবেশ ফি বাড়ানো নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বন অধিশাখা-১ থেকে গত ২১ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ১২ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রবেশ ফি দিতে হবে। আর এর চেয়ে কম বয়সীদের জন্য প্রবেশে ফি দিতে হবে ৫০ টাকা।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ ফি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‌‘এটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। তিনি বলেন, ‘এটি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১০০ টাকা করা ঠিক হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।’ আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজের মন্ত্রণালয়ের ১০০ কর্মদিবসের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা স্তবায়নবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রবেশ ফি একলাফে ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা করা হয়েছে। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘এটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। এখানে রাজস্ব আদায়ের একটি বিষয় আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের টার্গেট দিয়ে থাকে। সেজন্য বাড়ানো হয়েছে। তবে আমরা এটা দেখব।’ বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিবেশ ভালো না। এ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।’, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে আছে, আমরা দেখব।’

বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ ফি পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন পরিবেশমন্ত্রী

প্রজ্ঞাপনে বিদেশি পর্যটক ও শরীরচর্চার জন্য উদ্যানে যারা নিয়মিত হাঁটতে যান, তাদের জন্যও আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক বিদেশি পর্যটকের জন্য দিতে হবে এক হাজার টাকা বা সমমূল্যের ইউএস ডলার। আর উদ্যানে হাঁটতে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি বাৎসরিক কার্ড করাতে হবে। এর জন্য ফি দেওয়া লাগবে ৫০০ টাকা। তবে অবস্থান করা যাবে মাত্র এক ঘণ্টা। অথচ শরীরচর্চার জন্য আগে উদ্যানে গেলে কোনো রকম ফি লাগত না।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ ফি পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন : পরিবেশমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪

বোটানিক্যাল গার্ডেনে বৃক্ষরাজির মধ্যে রয়েছে নানান ধরনের ফুল, ফল, বনজ এবং ঔষধি গাছ। বোটানিক্যাল গার্ডেনে ফুলের বাগান ছাড়াও রয়েছে পুকুর, দীঘি ও ঘাসে ঢাকা সবুজ মাঠ। ২০৮ একর জায়গা জুড়ে এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে প্রায় ৮০০ প্রজাতির বৃক্ষ। এছাড়া রয়েছে নানারকম পশুপাখি। ঢাকা শহরের ভেতরে সবুজের এই বিশাল রাজ্যে ঢাকা শহরের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষই বেশি ভ্রমণ করতে আসেন।

দর্শনার্থীরা বলেন, এখানে পরিবেশের সঙ্গে শিশুদের পরিচিত হওয়ার জন্য আসা। টিকিটের দাম বাড়ানো মানে মানুষের পকেট কাটার মতো। ২০ টাকার টিকিট ৪০ টাকা হলেও এটা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু এভাবে দাম বাড়ায় দর্শনার্থীরা এখন কম আসছেন। কারণ একটা পরিবারের ৫ জন প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্য বেড়াতে গেলে তাকে গুনতে হবে ৫০০ টাকা। এছাড়া ভ্রমণ পিপাসু ব্যক্তিদের অন্যান্য আনুসঙ্গিক খরচ তো আছেই। ফলে দর্শনার্থীরা এখানে বেড়াতে আসতে দ্বিধাবোধ করবেন।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ ফি পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন পরিবেশমন্ত্রী

এ ব্যাপারে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, মিরপুর, ঢাকা এর বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সোহেলা সরকার বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে প্রবেশ ফি বাড়ানো হয়েছে। আমরা শুধু এটা বাস্তবায়ন করছি। তবে কয়েকদিন গেলে বোঝা যাবে যে, এটার প্রভাব কেমন পড়েছে। এর আগে প্রবেশ ফি বাড়ানো নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বন অধিশাখা-১ থেকে গত ২১ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ১২ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রবেশ ফি দিতে হবে। আর এর চেয়ে কম বয়সীদের জন্য প্রবেশে ফি দিতে হবে ৫০ টাকা।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ ফি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‌‘এটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। তিনি বলেন, ‘এটি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১০০ টাকা করা ঠিক হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।’ আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজের মন্ত্রণালয়ের ১০০ কর্মদিবসের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা স্তবায়নবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রবেশ ফি একলাফে ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা করা হয়েছে। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘এটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। এখানে রাজস্ব আদায়ের একটি বিষয় আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের টার্গেট দিয়ে থাকে। সেজন্য বাড়ানো হয়েছে। তবে আমরা এটা দেখব।’ বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিবেশ ভালো না। এ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।’, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে আছে, আমরা দেখব।’

বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ ফি পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন পরিবেশমন্ত্রী

প্রজ্ঞাপনে বিদেশি পর্যটক ও শরীরচর্চার জন্য উদ্যানে যারা নিয়মিত হাঁটতে যান, তাদের জন্যও আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক বিদেশি পর্যটকের জন্য দিতে হবে এক হাজার টাকা বা সমমূল্যের ইউএস ডলার। আর উদ্যানে হাঁটতে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি বাৎসরিক কার্ড করাতে হবে। এর জন্য ফি দেওয়া লাগবে ৫০০ টাকা। তবে অবস্থান করা যাবে মাত্র এক ঘণ্টা। অথচ শরীরচর্চার জন্য আগে উদ্যানে গেলে কোনো রকম ফি লাগত না।