ঘূর্ণিঝড় দানার সুস্পষ্ট প্রভাব সারাদেশে, উপকূলে বাঁধ নিয়ে শঙ্কা

ঘূর্ণিঝড় দানার সুস্পষ্ট প্রভাব সারাদেশে, উপকূলে বাঁধ নিয়ে শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ‘দানা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার ৯ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে দানার প্রভাব দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকার আকাশ মেঘলা। কক্সবাজারের সৈকতে এর মধ্যেও উৎসুক পর্যটকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগরে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জলে নামাদের সতর্ক থাকতে মাইকিং করা হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও লাইফ গার্ডরা যৌথভাবে এ মাইকিং করছে। অনেকে মাইকিং গায়ে না মাখায় বিপদ এড়াতে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন লাইফ গার্ড কর্মীরা।

ঘূর্ণিঝড় দানার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে সুন্দরবনের কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায়। সেসব এলাকায় ভারী বৃষ্টির আভাস রয়েছে। এরই মধ্যে সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাটে কোথাও গুঁড়িগুঁড়ি আবার কোথাও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি দানার আঘাত না লাগলেও জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে উপকূলীয় বাঁধ ভেঙে অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ। সাতক্ষীরা উপকূলের অন্তত নয়টি পয়েন্টে ৬ কিলোমিটার উপকূলরক্ষা বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য জলোচ্ছ্বাসে এসব পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে দুই উপজেলার বিস্তির্ণ জনপদ।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। সাতক্ষীরায় ৮৮৭টি সাইক্লোন শেল্টার ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারবেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ মোকাবিলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

খুলনার উপকূলীয় এলাকায় গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমালে’ ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়নি এখনও। জোয়ারের পানির চাপে বাঁধ আরও দুর্বল হয়েছে। ‘দানা’র সম্ভাব্য আঘাতের আগে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণমাধ্যম ও স্থানীয়  সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলার দশহালিয়া, শিকারিবাড়ি, হোগলা, কালীবাড়ি, গুরিয়াবাড়ি, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর কয়রা, মঠবাড়ি এবং কাটমারচর এলাকার প্রায় ৭.৮৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মোংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও রামপাল উপজেলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ৩৫৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় ৮০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া শিশুখাদ্যের জন্য ৫ লাখ ও গোখাদ্যের জন্য ৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার জন্য ৩ হাজার ৫০৫ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

ঘূর্ণিঝড় দানার সুস্পষ্ট প্রভাব সারাদেশে, উপকূলে বাঁধ নিয়ে শঙ্কা

আপডেট সময় ১২:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ‘দানা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার ৯ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে দানার প্রভাব দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে। রাজধানী ঢাকার আকাশ মেঘলা। কক্সবাজারের সৈকতে এর মধ্যেও উৎসুক পর্যটকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগরে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জলে নামাদের সতর্ক থাকতে মাইকিং করা হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও লাইফ গার্ডরা যৌথভাবে এ মাইকিং করছে। অনেকে মাইকিং গায়ে না মাখায় বিপদ এড়াতে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন লাইফ গার্ড কর্মীরা।

ঘূর্ণিঝড় দানার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে সুন্দরবনের কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায়। সেসব এলাকায় ভারী বৃষ্টির আভাস রয়েছে। এরই মধ্যে সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাটে কোথাও গুঁড়িগুঁড়ি আবার কোথাও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি দানার আঘাত না লাগলেও জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে উপকূলীয় বাঁধ ভেঙে অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ। সাতক্ষীরা উপকূলের অন্তত নয়টি পয়েন্টে ৬ কিলোমিটার উপকূলরক্ষা বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য জলোচ্ছ্বাসে এসব পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে দুই উপজেলার বিস্তির্ণ জনপদ।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। সাতক্ষীরায় ৮৮৭টি সাইক্লোন শেল্টার ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারবেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ মোকাবিলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

খুলনার উপকূলীয় এলাকায় গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমালে’ ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়নি এখনও। জোয়ারের পানির চাপে বাঁধ আরও দুর্বল হয়েছে। ‘দানা’র সম্ভাব্য আঘাতের আগে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণমাধ্যম ও স্থানীয়  সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলার দশহালিয়া, শিকারিবাড়ি, হোগলা, কালীবাড়ি, গুরিয়াবাড়ি, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর কয়রা, মঠবাড়ি এবং কাটমারচর এলাকার প্রায় ৭.৮৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মোংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও রামপাল উপজেলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ৩৫৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় ৮০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া শিশুখাদ্যের জন্য ৫ লাখ ও গোখাদ্যের জন্য ৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার জন্য ৩ হাজার ৫০৫ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন।