বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব জলবায়ু পরিবর্তন কৃষি, মৎস্য শিকার, বনজ সম্পদ, জ্বালানি, বীমা এবং পর্যটনসহ অর্থনৈতিক খাতগুলোকে প্রভাবিত করে। জলবায়ু পরিবর্তন দিন দিন বাংলাদেশের মৎস্য ও জলজ সম্পদ খাতকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে নারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার ওপর এর প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ক্লাইমেট চেঞ্জ রিস্ক অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট (সিআরভিএ) প্রতিবেদনে এসব উদ্বেগ জানানো হয়েছে।আজ সোমবার এফএওর বাংলাদেশ কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু স্থিতিস্থাপক মৎস্য ও জলজ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প এ মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে মৎস্য খাতে স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মৎস্য ও জলজ সম্পদ খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা দেশের ১২ শতাংশ জনসংখ্যাকে জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে।
মূল্যায়নটি পুরুষ ও নারী মৎস্যশিকারিদের ওপর অসম প্রভাব তুলে ধরে এবং লক্ষ্যযুক্ত অভিযোজন কৌশলগুলোর জন্য জরুরি প্রয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেয়। উদ্যোগটি বাংলাদেশে কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু–সহনশীল ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ডেভেলপমেন্টের অধীন করা হয়েছে এবং এটি গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ) দ্বারা অর্থায়িত।

এফএওর জাতীয় পর্যায়ের এক কর্মশালায় ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ রিস্ক অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট (সিআরভিএ)’ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার, বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি জিয়াকুন শি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিল্লুর রহমান।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এর মধ্যেই আমাদের মৎস্য ও জলজ কৃষিখাতে প্রভাব ফেলছে, যা জীবিকার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে স্থানীয় সম্প্রদায়, বিশেষ করে নারীরা চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান তৈরিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকে। সিআরভিএর প্রতিবেদনটি এই ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করেছে এবং অভিযোজন–প্রচেষ্টার জন্য দিকনির্দেশনা পেতে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছে।’

বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি জিয়াকুন শি বলেন, বাংলাদেশের মৎস্য ও জলজ কৃষি খাত জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে রয়েছে, যা লাখো মানুষের জীবিকার জন্য হুমকিস্বরূপ। সিআরভিএ প্রতিবেদনটি এই ঝুঁকিগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা মৎস্য খাতকে সুরক্ষিত করতে পারি এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অভিযোজন ও উন্নতির সুযোগ দিতে পারি।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো ‘ফোর বেটার্স’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন, যা মৎস্য ও জলজ সম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে এই ফলাফলগুলো নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে, যেন এ খাত জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট 










