জলবায়ু পরিবর্তনে মগজখেকো অ্যামিবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০৩:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অগাস্ট ২০২৪
  • 173

জলবায়ু পরিবর্তনে মগজখেকো অ্যামিবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে । ছবি : সংগৃহীত

মগজখেকো অ্যামিবা, শুনলেই মনে ভীতি সঞ্চার হয়। এরচেয়েও আতঙ্ক জাগানো বিষয়টি হলো উষ্ণ পানিতে এই ভয়ঙ্কর অ্যামিবার অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে সুদূর আমেরিকা থেকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও। গরমকালে পুকুর, নদীর মতো উন্মুক্ত জলাশয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। কারণ উষ্ণ জলাশয়ে মগজখেকো অ্যামিবার অস্তিত্ব পাচ্ছেন গবেষকরা। যদিও বাংলাদেশে এখনও এধরনের কোনো বিষয় এখনও সেভাবে আলোচনায় আসেনি। কিন্তু এতে স্বস্তিরও সুযোগ নেই। কারণ সম্প্রতি ভারতের কেরালায় অ্যামিবিক মেনিনগোয়েনসেফালাইটিস বা মগজখেকো অ্যামিবার দ্বারা আক্রান্ত রোগীর কথা উঠে এসেছে ভারতীয় ও বিশ্বগণমাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নেগেলেরিয়া ফাউলেরি নামক অ্যামিবার কারণেই এই রোগ হয়।

সাধারণত নাক দিয়ে মানব শরীরে ঢুকে এই অ্যামিবা মস্তিষ্কে আক্রমণ করে এবং তা ধীরে ধীরে খেতে শুরু করে। গেল বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার সংক্রামণে একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রাণঘাতী এই জীবাণুতে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৯৭ শতাংশ। তবে সুখবর যে, এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও ভারতের রোগী এই ঘাতক অ্যামিবা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনে মগজখেকো অ্যামিবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে prokritibarta

এই সৌভাগ্যবানের নাম আফনান জসিম। সে ভারতের কেরালার চোদ্দ বছরের এক কিশোর। পুকুরের পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে আক্রান্ত হন আফনান। দশম শ্রেণির ওই ছাত্র বিশ্বের নবম ব্যক্তি, যিনি এই প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়েও বেঁচে গেছেন কারণ সময় মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করেছিল তার পরিবার।

উষ্ণ জলাশয়ে সাবধান

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্যানুযায়ী, নেগেলেরিয়া ফাউলেরি একটি থার্মোফিলিক অ্যামিবা। অর্থাৎ এটি উষ্ণ পরিবেশে থাকতে চায়।

উষ্ণতাপ্রিয় ভয়ঙ্কর এ অ্যামিবা নিয়ে বিশ্ব উষ্ণায়নের এই সময়ে আসলে সাবধান না হয়ে উপায় নেই। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট কারণে উন্মুক্ত প্রাকৃতিক জলাধারেও নেগেলেরিয়া ফাউলেরির সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

১৯৩৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এই মগজ খোকো অ্যামিবার সংক্রমণ ধরা পড়ে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত পাকিস্তানসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশের উষ্ণ উন্মুক্ত জলাধারে এই অ্যামিবার অস্তিত্ব বেশ কয়েক বছর আগেই সনাক্ত হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে মগজখেকো অ্যামিবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে prokritibarta

কিন্তু এখন উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে গোসল কিংবা সেসব জায়গায় গিয়ে নাকেমুখে পানির ঝাঁপটা দেয়ার আগে আরও সাবধান হতে হবে। কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় পুরো পৃথিবীজুড়েই তাপমাত্রা বাড়ছে। এই তাপমাত্রায় স্বাভাবিকভাবেই উন্মুক্ত জলাশয়গুলোর পানিও উষ্ণ থাকছে। আর উষ্ণ জলাশয়েই সনাক্ত হয়েছে নেগেলেরিয়া ফাউলেরি।

সব কিছুর সঙ্গে কেন জলবায়ু পরিবর্তনকে জড়ানো হচ্ছে?

আপাতত দৃষ্টিতে দুর্যোগ, রোগ-ব্যাধিকে স্বাভাবিক মনে হলেও অনেকেই এসবের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেন। অনেকে আবার সব কিছুর সঙ্গে জলবায়ুকে জড়ানো নিয়ে হাসিঠাট্টাও করেন।

তবে রোগব্যাধির বিস্তার ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির সঙ্গে যে জলবায়ু পরিবর্তন কিছুটা হলেও সংশ্লিষ্ট এমনটাই বলছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন-এর ওয়েবসাইটের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বপ্রধান পরোক্ষ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ, খরা বাড়ছে অন্যদিকে অতিবৃষ্টি-বন্যা হচ্ছে। এসব কারণে রোগজীবাণু বিশেষ করে পানিবাহিত ক্ষতিকর জীবদের বৃদ্ধি ও বিস্তৃতি বাড়ছে।

এদিকে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এই প্রতিবেদনে মগজখেকো অ্যামিবার সংক্রমণের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি যোগসূত্রের কথা বলা হয়েছে।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সব জায়গায় মগজখেকো অ্যামিবার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে যা সাধারণ বিষয় নয়, বিশেষ করে দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে এই অ্যামিবার বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যেত।

অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির অণুজীববিজ্ঞানী চার্লস গেরবা জানান, নেগেলেরিয়া ফাউলেরি উষ্ণ পরিবেশে বিস্তার লাভ করে। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা এই অ্যামিবার জন্য সহায়ক। এটির এই বৈশিষ্ট্য বলছে ক্রমশ উষ্ণ হতে থাকা জলবায়ু নেগেলেরিয়ার বিস্তারের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অ্যারিজোনায় বাগানে দেয়ার পানিতেও এই অ্যামিবার অস্তিত্ব মিলেছে। সেখানে একটি কুয়ার ভেতরে বিস্তার লাভ করেছে নেগেলেরিয়া।

সম্প্রতি আইওয়াতে একটি লেকে নেমে এক ব্যক্তি নেগেলেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে ,ওই লেক এলাকায় কয়েকদিন তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সম্ভবত তখনই লেকের পানিতে গোসল করতে নেমে নেগেলেরিয়ার সংস্পর্শে আসেন ওই ব্যক্তি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গরম বাড়লে পুকুর হ্রদ বা উন্মুক্ত জলাশয়ে এমনকি নিয়মিত ক্লোরিন না দেওয়া সুইমিং পুলেও নেগেলেরিয়া ফাউলেরি বিস্তার লাভ করতে পারে। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস লাগলে স্বস্তি পেতে পানি দেখলে ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষ, যা নেগেলেরিয়া ফাউলেরির সংক্রমণের শঙ্কা বাড়ায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

জলবায়ু পরিবর্তনে মগজখেকো অ্যামিবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে

আপডেট সময় ০৩:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অগাস্ট ২০২৪

মগজখেকো অ্যামিবা, শুনলেই মনে ভীতি সঞ্চার হয়। এরচেয়েও আতঙ্ক জাগানো বিষয়টি হলো উষ্ণ পানিতে এই ভয়ঙ্কর অ্যামিবার অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে সুদূর আমেরিকা থেকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও। গরমকালে পুকুর, নদীর মতো উন্মুক্ত জলাশয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। কারণ উষ্ণ জলাশয়ে মগজখেকো অ্যামিবার অস্তিত্ব পাচ্ছেন গবেষকরা। যদিও বাংলাদেশে এখনও এধরনের কোনো বিষয় এখনও সেভাবে আলোচনায় আসেনি। কিন্তু এতে স্বস্তিরও সুযোগ নেই। কারণ সম্প্রতি ভারতের কেরালায় অ্যামিবিক মেনিনগোয়েনসেফালাইটিস বা মগজখেকো অ্যামিবার দ্বারা আক্রান্ত রোগীর কথা উঠে এসেছে ভারতীয় ও বিশ্বগণমাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নেগেলেরিয়া ফাউলেরি নামক অ্যামিবার কারণেই এই রোগ হয়।

সাধারণত নাক দিয়ে মানব শরীরে ঢুকে এই অ্যামিবা মস্তিষ্কে আক্রমণ করে এবং তা ধীরে ধীরে খেতে শুরু করে। গেল বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার সংক্রামণে একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রাণঘাতী এই জীবাণুতে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৯৭ শতাংশ। তবে সুখবর যে, এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও ভারতের রোগী এই ঘাতক অ্যামিবা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনে মগজখেকো অ্যামিবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে prokritibarta

এই সৌভাগ্যবানের নাম আফনান জসিম। সে ভারতের কেরালার চোদ্দ বছরের এক কিশোর। পুকুরের পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে আক্রান্ত হন আফনান। দশম শ্রেণির ওই ছাত্র বিশ্বের নবম ব্যক্তি, যিনি এই প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়েও বেঁচে গেছেন কারণ সময় মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করেছিল তার পরিবার।

উষ্ণ জলাশয়ে সাবধান

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্যানুযায়ী, নেগেলেরিয়া ফাউলেরি একটি থার্মোফিলিক অ্যামিবা। অর্থাৎ এটি উষ্ণ পরিবেশে থাকতে চায়।

উষ্ণতাপ্রিয় ভয়ঙ্কর এ অ্যামিবা নিয়ে বিশ্ব উষ্ণায়নের এই সময়ে আসলে সাবধান না হয়ে উপায় নেই। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট কারণে উন্মুক্ত প্রাকৃতিক জলাধারেও নেগেলেরিয়া ফাউলেরির সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

১৯৩৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এই মগজ খোকো অ্যামিবার সংক্রমণ ধরা পড়ে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত পাকিস্তানসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশের উষ্ণ উন্মুক্ত জলাধারে এই অ্যামিবার অস্তিত্ব বেশ কয়েক বছর আগেই সনাক্ত হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে মগজখেকো অ্যামিবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে prokritibarta

কিন্তু এখন উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে গোসল কিংবা সেসব জায়গায় গিয়ে নাকেমুখে পানির ঝাঁপটা দেয়ার আগে আরও সাবধান হতে হবে। কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় পুরো পৃথিবীজুড়েই তাপমাত্রা বাড়ছে। এই তাপমাত্রায় স্বাভাবিকভাবেই উন্মুক্ত জলাশয়গুলোর পানিও উষ্ণ থাকছে। আর উষ্ণ জলাশয়েই সনাক্ত হয়েছে নেগেলেরিয়া ফাউলেরি।

সব কিছুর সঙ্গে কেন জলবায়ু পরিবর্তনকে জড়ানো হচ্ছে?

আপাতত দৃষ্টিতে দুর্যোগ, রোগ-ব্যাধিকে স্বাভাবিক মনে হলেও অনেকেই এসবের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেন। অনেকে আবার সব কিছুর সঙ্গে জলবায়ুকে জড়ানো নিয়ে হাসিঠাট্টাও করেন।

তবে রোগব্যাধির বিস্তার ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির সঙ্গে যে জলবায়ু পরিবর্তন কিছুটা হলেও সংশ্লিষ্ট এমনটাই বলছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন-এর ওয়েবসাইটের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বপ্রধান পরোক্ষ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ, খরা বাড়ছে অন্যদিকে অতিবৃষ্টি-বন্যা হচ্ছে। এসব কারণে রোগজীবাণু বিশেষ করে পানিবাহিত ক্ষতিকর জীবদের বৃদ্ধি ও বিস্তৃতি বাড়ছে।

এদিকে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এই প্রতিবেদনে মগজখেকো অ্যামিবার সংক্রমণের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি যোগসূত্রের কথা বলা হয়েছে।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সব জায়গায় মগজখেকো অ্যামিবার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে যা সাধারণ বিষয় নয়, বিশেষ করে দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে এই অ্যামিবার বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যেত।

অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির অণুজীববিজ্ঞানী চার্লস গেরবা জানান, নেগেলেরিয়া ফাউলেরি উষ্ণ পরিবেশে বিস্তার লাভ করে। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা এই অ্যামিবার জন্য সহায়ক। এটির এই বৈশিষ্ট্য বলছে ক্রমশ উষ্ণ হতে থাকা জলবায়ু নেগেলেরিয়ার বিস্তারের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অ্যারিজোনায় বাগানে দেয়ার পানিতেও এই অ্যামিবার অস্তিত্ব মিলেছে। সেখানে একটি কুয়ার ভেতরে বিস্তার লাভ করেছে নেগেলেরিয়া।

সম্প্রতি আইওয়াতে একটি লেকে নেমে এক ব্যক্তি নেগেলেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে ,ওই লেক এলাকায় কয়েকদিন তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সম্ভবত তখনই লেকের পানিতে গোসল করতে নেমে নেগেলেরিয়ার সংস্পর্শে আসেন ওই ব্যক্তি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গরম বাড়লে পুকুর হ্রদ বা উন্মুক্ত জলাশয়ে এমনকি নিয়মিত ক্লোরিন না দেওয়া সুইমিং পুলেও নেগেলেরিয়া ফাউলেরি বিস্তার লাভ করতে পারে। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস লাগলে স্বস্তি পেতে পানি দেখলে ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষ, যা নেগেলেরিয়া ফাউলেরির সংক্রমণের শঙ্কা বাড়ায়।