জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন

জলবায়ু বিপর্যয়কালে প্রত্যাশায় শুরু কপ ২৯   

জলবায়ু বিপর্যয়কালে শুরু কপ ২৯   

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে মানুষ ও প্রকৃতি রক্ষার আহ্বান ও এ খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রতি, জলবায়ু অর্থায়নে গুরুত্ব দিয়ে, আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। জলবায়ু বিপর্যয় থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয় বলে সতর্ক করেছেন, জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু কর্মকর্তারা। আর বেসরকারি অর্থায়ন ছাড়া পরিবেশবান্ধব পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সম্মেলনের  নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোকতার বাবায়েভ।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ২৯ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন, প্রায় ২০০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এ বছরের সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

এমন বাস্তবতায় জলবায়ু সংকট নিরসন ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরিবর্তন আনতে বেসরকারি খাত ছাড়া সমাধান নেই বলে জানিয়েছেন, এবারের কপ সভাপতি মোকতার বাবায়েভ।

কপ ২৯ এর সভাপতি এবং আজারবাইজানের সাবেক পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী মুকতার বাবায়েভ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন ইতোমধ্যে আমাদের উপর প্রভাব ফেলছে।” তিনি জানান, কপ ২৯ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, আশা করি যেখানে সবাই মিলে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে সক্ষম হবো। তিনি জানান, জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক অর্থ ছাড়ের পাশাপাশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও এবারের সম্মেলন নিয়ে অংশ নেওয়া দেশ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আশাবাদি। বাকুতে সম্মেলনের প্রথম দিন মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে প্রকৃতি ও জীবন টিমও অন্যান্য দেশের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতো ব্যস্ত সময় পার করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শিকার বাংলাদেশের একজন পরিবেশকর্মী হিসেবে এবারের সম্মেলন নিয়ে আশাবাদী প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি বলেন, ‘ জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী দেশ হিসেবে কপ ২৯ থেকে আমাদের আশা অনেক। বিশেষ করে লস এন্ড ড্যামেজ ( জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিপূরণ তহবিল) বিষয়ে আমাদের কতটুকু প্রাপ্তি হয় সেদিকেও নজর থাকবে। যদি আমরা ভাল কিছু পাই সেটা বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে আশা করি। সবে সম্মেলন শুরু , দেখা যাক কোনদিকে যায় সিদ্ধান্তগুলো।’

উদ্বোধনী পর্বের এক ফাঁকে কপ ২৯ নিয়ে প্রত্যাশার কথা বলেন মুকিত মজুমদার বাবু

দরিদ্র দেশগুলো জলবায়ু অর্থায়ন বর্তমানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর ১ ট্রিলিয়নে উন্নীত করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে উন্নত দেশগুলোর জন্য এ লক্ষ্য পূরণ কঠিন হতে পারে।

পরিস্থিতি বলছে, সঙ্কটে থাকা সভ্যতা রক্ষায় অভিযোজনই যথেষ্ট নয়। দরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ। ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগে জোর দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর পাশাপাশি পরিবেশবাদীরা।

জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল তার উদ্বোধনী ভাষণে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন,যাতে তারা প্রমাণ করেন যে বৈশ্বিক সহযোগিতা এখনও কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, “বাকুতে আমাদের একটি নতুন বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।”

 

(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার এবং চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি । 

কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)  

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন

জলবায়ু বিপর্যয়কালে প্রত্যাশায় শুরু কপ ২৯   

আপডেট সময় ০৭:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে মানুষ ও প্রকৃতি রক্ষার আহ্বান ও এ খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রতি, জলবায়ু অর্থায়নে গুরুত্ব দিয়ে, আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। জলবায়ু বিপর্যয় থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয় বলে সতর্ক করেছেন, জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু কর্মকর্তারা। আর বেসরকারি অর্থায়ন ছাড়া পরিবেশবান্ধব পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সম্মেলনের  নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোকতার বাবায়েভ।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ২৯ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন, প্রায় ২০০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এ বছরের সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

এমন বাস্তবতায় জলবায়ু সংকট নিরসন ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরিবর্তন আনতে বেসরকারি খাত ছাড়া সমাধান নেই বলে জানিয়েছেন, এবারের কপ সভাপতি মোকতার বাবায়েভ।

কপ ২৯ এর সভাপতি এবং আজারবাইজানের সাবেক পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী মুকতার বাবায়েভ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন ইতোমধ্যে আমাদের উপর প্রভাব ফেলছে।” তিনি জানান, কপ ২৯ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, আশা করি যেখানে সবাই মিলে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে সক্ষম হবো। তিনি জানান, জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক অর্থ ছাড়ের পাশাপাশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও এবারের সম্মেলন নিয়ে অংশ নেওয়া দেশ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আশাবাদি। বাকুতে সম্মেলনের প্রথম দিন মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে প্রকৃতি ও জীবন টিমও অন্যান্য দেশের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতো ব্যস্ত সময় পার করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শিকার বাংলাদেশের একজন পরিবেশকর্মী হিসেবে এবারের সম্মেলন নিয়ে আশাবাদী প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি বলেন, ‘ জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী দেশ হিসেবে কপ ২৯ থেকে আমাদের আশা অনেক। বিশেষ করে লস এন্ড ড্যামেজ ( জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিপূরণ তহবিল) বিষয়ে আমাদের কতটুকু প্রাপ্তি হয় সেদিকেও নজর থাকবে। যদি আমরা ভাল কিছু পাই সেটা বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে আশা করি। সবে সম্মেলন শুরু , দেখা যাক কোনদিকে যায় সিদ্ধান্তগুলো।’

উদ্বোধনী পর্বের এক ফাঁকে কপ ২৯ নিয়ে প্রত্যাশার কথা বলেন মুকিত মজুমদার বাবু

দরিদ্র দেশগুলো জলবায়ু অর্থায়ন বর্তমানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর ১ ট্রিলিয়নে উন্নীত করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে উন্নত দেশগুলোর জন্য এ লক্ষ্য পূরণ কঠিন হতে পারে।

পরিস্থিতি বলছে, সঙ্কটে থাকা সভ্যতা রক্ষায় অভিযোজনই যথেষ্ট নয়। দরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ। ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগে জোর দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর পাশাপাশি পরিবেশবাদীরা।

জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল তার উদ্বোধনী ভাষণে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন,যাতে তারা প্রমাণ করেন যে বৈশ্বিক সহযোগিতা এখনও কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, “বাকুতে আমাদের একটি নতুন বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।”

 

(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার এবং চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি । 

কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)