ট্রাম্প-কমলা বিতর্কের আলোচিত অংশ

ট্রাম্প-কমলার বিতর্কের আলোচিত অংশ

আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মূল দুই প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের সরাসরি বিতর্ক শেষ হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে হওয়া এ বিতর্কটি ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট’ নামে পরিচিত। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা) এই বিতর্ক শেষ হয়।

এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টায় মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ-এর আয়োজনে ফিলাডেলফিয়ার কন্সটিটিউশন সেন্টারে এ বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্ক মঞ্চে প্রবেশ করেই ট্রাম্পের দিকে এগিয়ে যান এবং হাত বাড়িয়ে দেন কমলা। তারপর দুজন করমর্দন করেন এবং কমলার বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

বেশ আক্রমণাত্মক ছিলেন কমলা। বিতর্কের শুরু থেকেই ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালনের মতো শরীরিক সামর্থ্য তার আছে কি না, তার অগণিত আইনি সমস্যা ও গর্ভপাতের সীমা নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন হ্যারিস। অপ্রত্যাশিত এ আক্রমণের মুখে রক্ষণাত্মক অবস্থানে গিয়ে বিতর্ক চালিয়ে যান ট্রাম্প।

বিতর্কে কমলা হ্যারিসের যে বক্তব্যটি সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে সেটি হলো: ‘বিশ্ব নেতারা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে হাসাহাসি করেন।’ এমনকি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার ‘লাঞ্চে’ ট্রাম্পকে ‘খেয়ে ফেলবেন’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এসবের জবাবে কমলাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিহিত করেন ট্রাম্প। তার দাবি, রুশ আক্রমণের আগে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা করে যুদ্ধ ঠেকাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

মার্কিনীদের ইসরায়েল প্রীতিকে নিজের পক্ষে রাখতে কৌশলী চেষ্টা ছিল ট্রাম্পের। কমলা নির্বাচিত হলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে গাজায় যুদ্ধ বাঁধতো না। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (কমলা) ইসরায়েলকে ঘৃণা করেন। নিজস্ব চিন্তায় তিনি আরব মানুষদের ঘৃণা করেন। কারণ তিনি পুরো জায়গাটি খালি করতে চান। ইসরায়েল হারিয়ে যাবে।’

ট্রাম্প-কমলার বিতর্কের আলোচিত অংশ

 

জবাবে কমলা বলেন, ‘ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। তবে এটি কীভাবে করছে তা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটাও সত্য যে অনেক নিরপরাধ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে; শিশু, মা। আমরা যা জানি তা হলো যে এই যুদ্ধের অবসান হওয়া উচিত।’

বিতর্কে বারবার ট্রাম্প অভিবাসন ইস্যুতে কথা বলেছেন। কারণ এটি ডেমোক্র্যাট তথা কমলা হ্যারিসের জন্য দুর্বলতা। সীমান্ত সংকটের জন্য কমলার দলকে সরাসরি দায়ী করেছেন ট্রাম্প।

 

দুই প্রার্থী অভিবাসন, পররাষ্ট্র নীতি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিতর্কে জড়ান; কিন্তু সুনির্দিষ্ট নীতিগত বিবরণের গভীরে কেউই প্রবেশ করেননি। হ্যারিসের আক্রমণাত্মক ধরন ট্রাম্পকে চাপে রাখতে সফল হয়।

আগামী ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট হবে। তাই দুই প্রার্থীর এই বিতর্ককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

ট্রাম্প-কমলা বিতর্কের আলোচিত অংশ

আপডেট সময় ০১:১৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মূল দুই প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের সরাসরি বিতর্ক শেষ হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে হওয়া এ বিতর্কটি ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট’ নামে পরিচিত। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা) এই বিতর্ক শেষ হয়।

এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টায় মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ-এর আয়োজনে ফিলাডেলফিয়ার কন্সটিটিউশন সেন্টারে এ বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্ক মঞ্চে প্রবেশ করেই ট্রাম্পের দিকে এগিয়ে যান এবং হাত বাড়িয়ে দেন কমলা। তারপর দুজন করমর্দন করেন এবং কমলার বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

বেশ আক্রমণাত্মক ছিলেন কমলা। বিতর্কের শুরু থেকেই ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালনের মতো শরীরিক সামর্থ্য তার আছে কি না, তার অগণিত আইনি সমস্যা ও গর্ভপাতের সীমা নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন হ্যারিস। অপ্রত্যাশিত এ আক্রমণের মুখে রক্ষণাত্মক অবস্থানে গিয়ে বিতর্ক চালিয়ে যান ট্রাম্প।

বিতর্কে কমলা হ্যারিসের যে বক্তব্যটি সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে সেটি হলো: ‘বিশ্ব নেতারা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে হাসাহাসি করেন।’ এমনকি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার ‘লাঞ্চে’ ট্রাম্পকে ‘খেয়ে ফেলবেন’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এসবের জবাবে কমলাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিহিত করেন ট্রাম্প। তার দাবি, রুশ আক্রমণের আগে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা করে যুদ্ধ ঠেকাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

মার্কিনীদের ইসরায়েল প্রীতিকে নিজের পক্ষে রাখতে কৌশলী চেষ্টা ছিল ট্রাম্পের। কমলা নির্বাচিত হলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে গাজায় যুদ্ধ বাঁধতো না। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (কমলা) ইসরায়েলকে ঘৃণা করেন। নিজস্ব চিন্তায় তিনি আরব মানুষদের ঘৃণা করেন। কারণ তিনি পুরো জায়গাটি খালি করতে চান। ইসরায়েল হারিয়ে যাবে।’

ট্রাম্প-কমলার বিতর্কের আলোচিত অংশ

 

জবাবে কমলা বলেন, ‘ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। তবে এটি কীভাবে করছে তা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটাও সত্য যে অনেক নিরপরাধ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে; শিশু, মা। আমরা যা জানি তা হলো যে এই যুদ্ধের অবসান হওয়া উচিত।’

বিতর্কে বারবার ট্রাম্প অভিবাসন ইস্যুতে কথা বলেছেন। কারণ এটি ডেমোক্র্যাট তথা কমলা হ্যারিসের জন্য দুর্বলতা। সীমান্ত সংকটের জন্য কমলার দলকে সরাসরি দায়ী করেছেন ট্রাম্প।

 

দুই প্রার্থী অভিবাসন, পররাষ্ট্র নীতি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিতর্কে জড়ান; কিন্তু সুনির্দিষ্ট নীতিগত বিবরণের গভীরে কেউই প্রবেশ করেননি। হ্যারিসের আক্রমণাত্মক ধরন ট্রাম্পকে চাপে রাখতে সফল হয়।

আগামী ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট হবে। তাই দুই প্রার্থীর এই বিতর্ককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।