সংবেদনশীলদের জন্য ঢাকার বাতাসে বিপদ

শীতকাল আসলেই ঢাকার বাতাস চরম অস্বাস্থ্যকর বিষাক্ত এমন খবর আসছে বিগত কয়েক বছর। কিন্তু শীতকাল ছাড়াও বাংলাদেশের রাজধানীর বাতাসে বিপদ ঘুরপাক খাচ্ছে, এমনটাই বলছে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। বায়ু দূষণ তালিকায় থাকা বিশ্বের ১১৮টি শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকা ১৪তম। শহরটির দূষণ স্কোর ১০৬। অর্থাৎ এখানকার বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর। যাদের ফুসফুসে এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে এই বাতাস তাদের জন্য বিপজ্জনক।

আইকিউএয়ার অনুযায়ী দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উগান্ডার কাম্পালা। শহরটির স্কোর ১৮৩। অর্থাৎ সেখানকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর। এরপর আছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির স্কোর ১৫৪, মানদণ্ড অনুযায়ী শহরটির বাতাস অস্বাস্থ্যকর। এরপরেই ১৫৪ স্কোর নিয়ে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার বাতাস।

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোর মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।
এছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। বাতাসে এগুলোর পরিমাণের ভিত্তিতে হিসেব করা হয় বায়ুমান।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ঢাকার বায়ু দূষণের মূল উপাদান হচ্ছে পিএম ২.৫। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেয়া মানের চেয়ে ঢাকার বাতাসে সুক্ষ্ম বস্তুকণার পরিমাণ ৬ দশমিক ২ গুণ।

এই পরিস্থিতিতে কিছু স্বাস্থ্য সতর্কতা মানার পরামর্শ দিয়েছে আইকিউএয়ার। সংবেদনশীলদের জন্য এই সময়ে বাইরে শারীরিক শ্রম দেয়া কমানো, জানালা যতোটা পারা যায় বন্ধ রাখা, মাস্ক পরিধান করা এবং সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

সংবেদনশীলদের জন্য ঢাকার বাতাসে বিপদ

আপডেট সময় ০২:২০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪

শীতকাল আসলেই ঢাকার বাতাস চরম অস্বাস্থ্যকর বিষাক্ত এমন খবর আসছে বিগত কয়েক বছর। কিন্তু শীতকাল ছাড়াও বাংলাদেশের রাজধানীর বাতাসে বিপদ ঘুরপাক খাচ্ছে, এমনটাই বলছে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। বায়ু দূষণ তালিকায় থাকা বিশ্বের ১১৮টি শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকা ১৪তম। শহরটির দূষণ স্কোর ১০৬। অর্থাৎ এখানকার বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর। যাদের ফুসফুসে এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে এই বাতাস তাদের জন্য বিপজ্জনক।

আইকিউএয়ার অনুযায়ী দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উগান্ডার কাম্পালা। শহরটির স্কোর ১৮৩। অর্থাৎ সেখানকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর। এরপর আছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির স্কোর ১৫৪, মানদণ্ড অনুযায়ী শহরটির বাতাস অস্বাস্থ্যকর। এরপরেই ১৫৪ স্কোর নিয়ে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার বাতাস।

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোর মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।
এছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। বাতাসে এগুলোর পরিমাণের ভিত্তিতে হিসেব করা হয় বায়ুমান।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ঢাকার বায়ু দূষণের মূল উপাদান হচ্ছে পিএম ২.৫। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেয়া মানের চেয়ে ঢাকার বাতাসে সুক্ষ্ম বস্তুকণার পরিমাণ ৬ দশমিক ২ গুণ।

এই পরিস্থিতিতে কিছু স্বাস্থ্য সতর্কতা মানার পরামর্শ দিয়েছে আইকিউএয়ার। সংবেদনশীলদের জন্য এই সময়ে বাইরে শারীরিক শ্রম দেয়া কমানো, জানালা যতোটা পারা যায় বন্ধ রাখা, মাস্ক পরিধান করা এবং সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।