নদীমাতৃক-গল্প: ছোট্ট নদীটির নাম গোবরা!

নদীমাতৃক-গল্প: ছোট্ট নদীটির নাম গোবরা!

ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা সকলেই জানো, নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। এতো এতো নদীর কারণেই আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। আমাদের প্রায় সকল নদীই ভারত থেকে প্রবেশ করেছে। কারণ আমাদের দেশ ভাটির দেশ হওয়াতে দেশের  ভেতর দিয়ে ছোট-বড় অনেক নদী বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মিলিত হয়েছে। তোমরা হয়তো জেনেছো, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নদীটির নাম মেঘনা। না জেনে থাকলে আগামীতে এই নদীটির গল্প বলবো। এবার তাহলে জেনে নাও, বাংলাদেশের ছোট্ট নদীটির নাম গোবরা। তবে ভুল করে কেউ গোমরা লিখবে না কিন্তু! এটি আমাদের মাতৃভূমির উপর দিয়ে বয়ে চলা সবচেয়ে ছোট নদী!

তোমরা দেখে থাকবে; মানচিত্রে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পঞ্চগড় জেলায় তেঁতুলিয়া উপজেলার অবস্থান। কোথাও লেখা দেখেছো; টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া! অর্থাৎ এদেশের এপান্ত থেকে ওপান্ত সীমান্ত। এই উপজেলায় রয়েছে বেশকিছু নদী। এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট্ট নদী গোবরা বয়ে চলেছে! গোবরা নদী বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি পঞ্চগড় জেলা দিয়ে তেঁতুলিয়ায় প্রবেশ করেছে। মজার বিষয় হচ্ছে; নদীটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৪ কিলোমিটার। প্রস্থ মাত্র ৫০ মিটার। নদীটি দেখতে সর্পিলাকৃতি। অর্থাৎ সাপের মতো এঁকেবেঁকে দেখতে। এতো ছোট নদী বাংলাদেশের আর কোথাও নেই কিন্তু বন্ধুরা!

নদীমাতৃক-গল্প: ছোট্ট নদীটির নাম গোবরা! prokritibarta

দুঃখের বিষয়, তোমাদের ছোট গোবরা নদী আজ যেন মুখ গোমরা করে বসে আছে। এক দশক আগেও এই নদী স্বচ্ছ পানির স্রোত নিয়ে বয়ে বেড়াত। গোবরা নদীতে সেই নৌকা বাইচের রঙিন শৈশব মনে পড়ে! চোখের সামনে নদীটি মরে যাচ্ছে। তেঁতুলিয়ায় দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে পর্যটকরা আসেন। বেড়াতে এসে তারা এই নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে যান। যাওয়ার সময় দুর্গন্ধে নাক বন্ধ করে চলে যান। গোবরা নদীর ওপর একটি ব্রিজ আছে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ গ্রামের মানুষজন এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। শিশুরা চিপস খেয়ে খালি প্যাকের্ট উপর থেকে ফেলে দেয়। কেউ মাংসের দোকানের উচ্ছ্বিষ্ট ফেলছেন। কেউ মাছের আড়তের আবর্জনা ফেলছেন। নদী পাড়ের হোটেলের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি ঢালছে। এসবই নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। আশপাশেও ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। এতে পরিবেশ দূষণে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ। এমন ছোট নদী ময়লার চাপে ভরে উঠছে! কি কষ্ট হচ্ছে নদীটির। ক’বছর পরে নদীর চেহারাই থাকবে না।

নদীমাতৃক-গল্প: ছোট্ট নদীটির নাম গোবরা! prokritibarta

এলাকার পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা ময়লা-আবর্জনা ফেলতে নিষেধ করলেও বন্ধ হচ্ছে না। নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে জলজ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। চিন্তা করে দেখ, তেঁতুলিয়ায় বেড়াতে গেলে এমন পরিস্থিতির শিকার যদি তুমি হতে! তোমরা নদীকে ভালোবাসবে। চিপস, কেক, কোমল পানির বোতল, বিস্কুটের প্যাকেট কিছুই নদীতে ফেলবে না। কাঁধে থাকা স্কুল ব্যাগে ভরে এনে বাসার ডাস্টবিনে রাখবে। ভ্রমণে গেলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা ডাস্টবিনে রাখবে। নদীতে ময়লা ফেললে নদীরও কষ্ট হয়। কারণ নদীরও প্রাণ আছে। ছলছল টলমল নদী দেখলেই বোঝা যাবে। তাই নদীকে বন্ধুর মতো ভালোবাসতে হবে।

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

নদীমাতৃক-গল্প: ছোট্ট নদীটির নাম গোবরা!

আপডেট সময় ০৬:২৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা সকলেই জানো, নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। এতো এতো নদীর কারণেই আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। আমাদের প্রায় সকল নদীই ভারত থেকে প্রবেশ করেছে। কারণ আমাদের দেশ ভাটির দেশ হওয়াতে দেশের  ভেতর দিয়ে ছোট-বড় অনেক নদী বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মিলিত হয়েছে। তোমরা হয়তো জেনেছো, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নদীটির নাম মেঘনা। না জেনে থাকলে আগামীতে এই নদীটির গল্প বলবো। এবার তাহলে জেনে নাও, বাংলাদেশের ছোট্ট নদীটির নাম গোবরা। তবে ভুল করে কেউ গোমরা লিখবে না কিন্তু! এটি আমাদের মাতৃভূমির উপর দিয়ে বয়ে চলা সবচেয়ে ছোট নদী!

তোমরা দেখে থাকবে; মানচিত্রে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পঞ্চগড় জেলায় তেঁতুলিয়া উপজেলার অবস্থান। কোথাও লেখা দেখেছো; টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া! অর্থাৎ এদেশের এপান্ত থেকে ওপান্ত সীমান্ত। এই উপজেলায় রয়েছে বেশকিছু নদী। এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট্ট নদী গোবরা বয়ে চলেছে! গোবরা নদী বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি পঞ্চগড় জেলা দিয়ে তেঁতুলিয়ায় প্রবেশ করেছে। মজার বিষয় হচ্ছে; নদীটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৪ কিলোমিটার। প্রস্থ মাত্র ৫০ মিটার। নদীটি দেখতে সর্পিলাকৃতি। অর্থাৎ সাপের মতো এঁকেবেঁকে দেখতে। এতো ছোট নদী বাংলাদেশের আর কোথাও নেই কিন্তু বন্ধুরা!

নদীমাতৃক-গল্প: ছোট্ট নদীটির নাম গোবরা! prokritibarta

দুঃখের বিষয়, তোমাদের ছোট গোবরা নদী আজ যেন মুখ গোমরা করে বসে আছে। এক দশক আগেও এই নদী স্বচ্ছ পানির স্রোত নিয়ে বয়ে বেড়াত। গোবরা নদীতে সেই নৌকা বাইচের রঙিন শৈশব মনে পড়ে! চোখের সামনে নদীটি মরে যাচ্ছে। তেঁতুলিয়ায় দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে পর্যটকরা আসেন। বেড়াতে এসে তারা এই নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে যান। যাওয়ার সময় দুর্গন্ধে নাক বন্ধ করে চলে যান। গোবরা নদীর ওপর একটি ব্রিজ আছে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ গ্রামের মানুষজন এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। শিশুরা চিপস খেয়ে খালি প্যাকের্ট উপর থেকে ফেলে দেয়। কেউ মাংসের দোকানের উচ্ছ্বিষ্ট ফেলছেন। কেউ মাছের আড়তের আবর্জনা ফেলছেন। নদী পাড়ের হোটেলের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি ঢালছে। এসবই নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। আশপাশেও ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। এতে পরিবেশ দূষণে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ। এমন ছোট নদী ময়লার চাপে ভরে উঠছে! কি কষ্ট হচ্ছে নদীটির। ক’বছর পরে নদীর চেহারাই থাকবে না।

নদীমাতৃক-গল্প: ছোট্ট নদীটির নাম গোবরা! prokritibarta

এলাকার পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা ময়লা-আবর্জনা ফেলতে নিষেধ করলেও বন্ধ হচ্ছে না। নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে জলজ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। চিন্তা করে দেখ, তেঁতুলিয়ায় বেড়াতে গেলে এমন পরিস্থিতির শিকার যদি তুমি হতে! তোমরা নদীকে ভালোবাসবে। চিপস, কেক, কোমল পানির বোতল, বিস্কুটের প্যাকেট কিছুই নদীতে ফেলবে না। কাঁধে থাকা স্কুল ব্যাগে ভরে এনে বাসার ডাস্টবিনে রাখবে। ভ্রমণে গেলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা ডাস্টবিনে রাখবে। নদীতে ময়লা ফেললে নদীরও কষ্ট হয়। কারণ নদীরও প্রাণ আছে। ছলছল টলমল নদী দেখলেই বোঝা যাবে। তাই নদীকে বন্ধুর মতো ভালোবাসতে হবে।