আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদীরা। তারা বলেছেন, দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিক জীবনে দীর্ঘ মেয়াদে সুফল লাভের লক্ষ্যে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবাচনী ইশতেহারে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সুরক্ষা কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সন্নিবেশিত করতে হবে।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে: ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা) এবং দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র (ডিএসকে)’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংলাপে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
ডিএসকের সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকাদারের সভাপতিত্বে ও পরিজা’র সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উত্থাপন করেন পরিজার সভাপতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান।
সংলাপের ধারণাপত্রে প্রকৌশলী আবদুস সোবহান বলেন, ভোটাররা ইশতেহার দেখে তুলনা করেন কোন দলের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত এবং কোন প্রতিশ্রুতি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনী প্রচারের সময় ইশতেহার হয়ে ওঠে প্রধান রাজনৈতিক বার্তা।
নির্বাচনী ইশতেহার শুধু প্রতিশ্রুতি বা প্রতিজ্ঞা নয়। এটা একটি দলের ভবিষ্যত রাষ্ট্র চিন্তার একটি পথ পরিকল্পনা। যা কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিস্তারিত ধাপ বা কৌশল হিসাবে বিবেচিত। তাই ইশতেহারে জনগণের দাবিসমূহ তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতির বক্তব্যে নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, আমাদের সংসদগুলোতে অধিকাংশ সদস্য নির্বাচিত হয় ব্যবসায়ীদের থেকে আর তারাই সবচেয়ে বেশি পরিবেশ ধ্বংস করে। যারা ক্ষমতায় যায় তারাই সব ভুলে যায়। তাই ইশতেহারে পরিবেশ নিয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে এবং পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বয়কট করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের কাছে পরিবেশবিষয়ক সুস্পষ্ট সুপারিশগুলোও পাঠানোর ওপর জোর দেন তিনি।
ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, জাতির স্বার্থে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে পানি ও পয়োনিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনার জন্য ২ লাখ ৭২ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে। তাই আমাদের সংসদ এমন হওয়া উচিত যাতে সেখানে সর্বদা পরিবেশবান্ধব নীতি ও আইনগুলো গ্রহণ করা হয়। সেজন্য ইশতেহারে পরিবেশ বিষয়ে ঘোষণা এবং তার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করে দিতে হবে।
সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন ডিএসকের নির্বাহী পরিচালক ডা. দিবালোক সিংহ, শ্রমিক নেতা আসলাম খান, কৃষিবিদ মো. আহসান করিম ভূইয়া, উন্নয়ন কর্মী সানজিদা জাহান আশরাফি, শিক্ষা আন্দোলন নেতা রুস্তম আলী খোকন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খালেকুন্নাহার তানইয়া, নগর দরিদ্র মানুষের প্রতিনিধি হোসনে আরা বেগম রাফেজা, পরিবেশ কর্মী মোহাম্মদ সেলিম, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক রিয়াজ হোসেন প্রমুখ।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 










