নির্বাচনী প্রচারে শব্দদূষণ চরমে

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নাবিস্কো মোড়ের বিপরীতে সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির দিকের রাস্তার পাশের ফুটপাথে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হকের প্রচারণা বুথে সন্ধ্যায় উচ্চশব্দ বাজছে লাউডস্পিকার। একটানা বেজেই চলছে বিএনপির সবার আগে বাংলাদেশ গান, এরপরেই সাইফুল হকের কোদাল মার্কা নিয়ে বানানো গান।

রাত ৮টার পর মাইক, সাউন্ড সিস্টেম ও লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ থাকার কথা নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় আছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮টার পরও ঢাকা-১২ আসনের কারওয়ান বাজারে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে সাউন্ড সিস্টেমে উচ্চ শব্দে প্রচার চালানো হচ্ছিল। উচ্চ শব্দে মাইক বাজছিল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের নির্বাচনী ক্যাম্পও থেকে।

সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশজুড়েই নির্বাচনী প্রচাণার নামে শব্দদূষণের এমন চিত্র।

৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় শব্দদূষণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন বলছে- নির্বাচন আচরণবিধিতে প্রচারণায় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবলের মধ্যে রাখার কথা বলা হলেও বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস) তাদের গবেষণায় শব্দদূষণের মাত্রা পেয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবল।

ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে রাজধানীর আমাদের আবাসিক এলাকা ও সড়কের মোড়গুলোয় শব্দের মাত্রা ৮০ থেকে ৯০-এর মধ্যে পাওয়া যেত। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে সেটি এখন গড়ে ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবল পর্যন্ত চলে গেছে।’

ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আমিনবাজার, উত্তরা, টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, খিলগাঁও, ধানমন্ডি, শান্তিনগর, মালিবাগ, পুরান ঢাকা এলাকায় শব্দদূষণের এ চিত্র পেয়েছে ক্যাপস।

কামরুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন একদিকে প্রচারণায় শব্দের মাত্রা ঠিক করে দিয়েছে ৬০ ডেসিবল। অন্যদিকে আবার মাইক ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছে। মাইক বাজলে সেটি কমপক্ষে ১০০ ডেসিবলের ওপর শব্দ তৈরি করে। এটা একধরনের স্ববিরোধিতা।

পোস্টার নিষিদ্ধের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক ব্যবহারও নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেন।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

নির্বাচনী প্রচারে শব্দদূষণ চরমে

আপডেট সময় ০৪:০৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নাবিস্কো মোড়ের বিপরীতে সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির দিকের রাস্তার পাশের ফুটপাথে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হকের প্রচারণা বুথে সন্ধ্যায় উচ্চশব্দ বাজছে লাউডস্পিকার। একটানা বেজেই চলছে বিএনপির সবার আগে বাংলাদেশ গান, এরপরেই সাইফুল হকের কোদাল মার্কা নিয়ে বানানো গান।

রাত ৮টার পর মাইক, সাউন্ড সিস্টেম ও লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ থাকার কথা নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় আছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮টার পরও ঢাকা-১২ আসনের কারওয়ান বাজারে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে সাউন্ড সিস্টেমে উচ্চ শব্দে প্রচার চালানো হচ্ছিল। উচ্চ শব্দে মাইক বাজছিল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের নির্বাচনী ক্যাম্পও থেকে।

সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশজুড়েই নির্বাচনী প্রচাণার নামে শব্দদূষণের এমন চিত্র।

৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় শব্দদূষণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন বলছে- নির্বাচন আচরণবিধিতে প্রচারণায় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবলের মধ্যে রাখার কথা বলা হলেও বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস) তাদের গবেষণায় শব্দদূষণের মাত্রা পেয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবল।

ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে রাজধানীর আমাদের আবাসিক এলাকা ও সড়কের মোড়গুলোয় শব্দের মাত্রা ৮০ থেকে ৯০-এর মধ্যে পাওয়া যেত। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে সেটি এখন গড়ে ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবল পর্যন্ত চলে গেছে।’

ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আমিনবাজার, উত্তরা, টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, খিলগাঁও, ধানমন্ডি, শান্তিনগর, মালিবাগ, পুরান ঢাকা এলাকায় শব্দদূষণের এ চিত্র পেয়েছে ক্যাপস।

কামরুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন একদিকে প্রচারণায় শব্দের মাত্রা ঠিক করে দিয়েছে ৬০ ডেসিবল। অন্যদিকে আবার মাইক ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছে। মাইক বাজলে সেটি কমপক্ষে ১০০ ডেসিবলের ওপর শব্দ তৈরি করে। এটা একধরনের স্ববিরোধিতা।

পোস্টার নিষিদ্ধের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক ব্যবহারও নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেন।