পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া

পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া

কুখ্যাত মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবারের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার জন্য আনা জলহস্তীগুলো এখন কলম্বিয়ার পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮১ সালে তিনি মাত্র ৪টি জলহস্তী (১টি পুরুষ ও ৩টি স্ত্রী) অবৈধভাবে কলম্বিয়ায় নিয়ে এসেছিলেন। এসকোবারের এই জলহস্তীগুলোকে ‘কোকেইন হিপ্পো’ বলা হতো। যেহেতু এই প্রাণীগুলো কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের পুরো খরচ আসত কোকেইন ব্যবসার মুনাফা থেকে, তাই সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ রসিকতা করে বা বিদ্রূপ করে এদের নাম দেয় ‘কোকেইন হিপ্পো’।

বর্তমানে এই কোকেইন হিপ্পোরা দলে ভারী হয়েছে। এগুলোর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭০ থেকে ২১৫টিতে দাঁড়িয়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কলম্বিয়া কেন বিপদে এবং সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে:

পরিবেশগত বিপর্যয়: জলহস্তীগুলো মূলত আফ্রিকার প্রাণী হলেও কলম্বিয়ার ম্যাগডালেনা নদী অববাহিকায় এদের কোনো প্রাকৃতিক শিকারি (যেমন সিংহ বা কুমির) নেই। এদের মলমূত্র নদীর পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে মাছ ও জলজ উদ্ভিদের ক্ষতি করছে।

পরিবেশ কর্মকর্তারা বলছেন, এই বিশাল স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো নদী ও খামারে গ্রামবাসীদের জন্য বিপদের কারণ হচ্ছে। পাশাপাশি, এরা ‘রিভার ম্যানাটি’র মতো স্থানীয় প্রজাতির প্রাণীদের খাবার ও বসবাসের জায়গায় ভাগ বসাচ্ছে।

জননিরাপত্তা ঝুঁকি: বিশালদেহী এই প্রাণীগুলো স্থানীয় মানুষের ওপর আক্রমণ করছে এবং সম্প্রতি বেশ কিছু সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা এসকোবারের পুরনো খামার থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমান পদক্ষেপ (এপ্রিল ২০২৬): কলম্বিয়া সরকার সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৮০টি জলহস্তী নিধন (euthanize) করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে বন্ধ্যাকরণ (sterilization) এবং অন্য দেশে (যেমন ভারত বা মেক্সিকো) স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যয়বহুল ও জটিল হওয়ায় পুরোপুরি সফল হয়নি।

অন্যদিকে, প্রাণী অধিকার কর্মীরা এই নিধন পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছেন। সিনেটর ও সমাজকর্মী আন্দ্রেয়া পাদিলা এই সিদ্ধান্তকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘হত্যাকাণ্ড কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সুস্থ প্রাণীগুলো সরকারি অবহেলার শিকার।’

বিজ্ঞানীদের মতে, কলম্বিয়ার নিজস্ব ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে হলে এই ‘কোকেন হিপ্পো’দের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া

আপডেট সময় ০৬:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কুখ্যাত মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবারের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার জন্য আনা জলহস্তীগুলো এখন কলম্বিয়ার পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮১ সালে তিনি মাত্র ৪টি জলহস্তী (১টি পুরুষ ও ৩টি স্ত্রী) অবৈধভাবে কলম্বিয়ায় নিয়ে এসেছিলেন। এসকোবারের এই জলহস্তীগুলোকে ‘কোকেইন হিপ্পো’ বলা হতো। যেহেতু এই প্রাণীগুলো কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের পুরো খরচ আসত কোকেইন ব্যবসার মুনাফা থেকে, তাই সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ রসিকতা করে বা বিদ্রূপ করে এদের নাম দেয় ‘কোকেইন হিপ্পো’।

বর্তমানে এই কোকেইন হিপ্পোরা দলে ভারী হয়েছে। এগুলোর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭০ থেকে ২১৫টিতে দাঁড়িয়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কলম্বিয়া কেন বিপদে এবং সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে:

পরিবেশগত বিপর্যয়: জলহস্তীগুলো মূলত আফ্রিকার প্রাণী হলেও কলম্বিয়ার ম্যাগডালেনা নদী অববাহিকায় এদের কোনো প্রাকৃতিক শিকারি (যেমন সিংহ বা কুমির) নেই। এদের মলমূত্র নদীর পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে মাছ ও জলজ উদ্ভিদের ক্ষতি করছে।

পরিবেশ কর্মকর্তারা বলছেন, এই বিশাল স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো নদী ও খামারে গ্রামবাসীদের জন্য বিপদের কারণ হচ্ছে। পাশাপাশি, এরা ‘রিভার ম্যানাটি’র মতো স্থানীয় প্রজাতির প্রাণীদের খাবার ও বসবাসের জায়গায় ভাগ বসাচ্ছে।

জননিরাপত্তা ঝুঁকি: বিশালদেহী এই প্রাণীগুলো স্থানীয় মানুষের ওপর আক্রমণ করছে এবং সম্প্রতি বেশ কিছু সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা এসকোবারের পুরনো খামার থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমান পদক্ষেপ (এপ্রিল ২০২৬): কলম্বিয়া সরকার সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৮০টি জলহস্তী নিধন (euthanize) করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে বন্ধ্যাকরণ (sterilization) এবং অন্য দেশে (যেমন ভারত বা মেক্সিকো) স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যয়বহুল ও জটিল হওয়ায় পুরোপুরি সফল হয়নি।

অন্যদিকে, প্রাণী অধিকার কর্মীরা এই নিধন পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছেন। সিনেটর ও সমাজকর্মী আন্দ্রেয়া পাদিলা এই সিদ্ধান্তকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘হত্যাকাণ্ড কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সুস্থ প্রাণীগুলো সরকারি অবহেলার শিকার।’

বিজ্ঞানীদের মতে, কলম্বিয়ার নিজস্ব ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে হলে এই ‘কোকেন হিপ্পো’দের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।