গ্রীষ্মকে বিদায় দিয়ে চলে এসেছে বর্ষাকাল। গরম গরম খিচুড়ি খাওয়ার আনন্দের সাথে কিছু দুর্চিন্তাও আছে এই সিজনে । বর্ষায় যখন তখন বৃষ্টি শুরু হয়। এর ফলে ঘরবাড়িও নোংরা হয়। এতে নানা রকম জীবাণু ঘরে হানা দিতে পারে। ফলে রোগবালাই হওয়ারও ঝুঁকি বাড়ে। তাই এই ঋতুতে সুস্থ থাকার জন্য আমাদের ঘরবাড়ি পরিষ্কারের সময় জীবাণুমুক্তকরনের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

১. বাইরে থেকে এসেই গোসল : বাইরে থেকে ঘরে আসার সাথে সাথে অবশ্যই হাত-পা ধুয়ে নিন।সেক্ষেত্রে দরজার কাছেই ঘরে পরার স্যান্ডেল রাখুন যাতে মেঝেতে পাড়া দেওয়ার মাধ্যমে জীবাণু না ছড়ায়। বাইরে থেকে ফিরে গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারলে ভালো। আর গোসলের সময় না থাকলে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত-পা ধুয়ে ফেলুন। একইসঙ্গে বাইরে থেকে আনা ব্যাগ আলাদা স্থানে রাখুন অথবা দ্রুত জীবাণুমুক্ত করে ফেলুন।

২. রোজ কাপড় ধুতে হবে : প্রতিদিনের কাপড় প্রতিদিন না ধুয়ে জমা করে একবারে ধুই। কিন্তু এই ঋতুতে কাপড় জমতে দেওয়া ঠিক হবে না। বিশেষ করে ভেজা কাপড়। বাইরে থেকে বৃষ্টিতে ভিজে এসে সেই কাপড় কখনোই জমিয়ে রাখবেন না, এতে ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। ফলে দেখা দিতে পারে চর্মরোগ। কাপড় আলমারি বা ওয়ার্ডরোবে ওঠানোর আগে ভালো করে শুকিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হন।

৩.আলমারির যত্ন নিতে হবে : আলমারির ভিতর স্যাঁতসেঁতে ভাব কাটাতে জীবাণুনাশক ন্যাপথলিন রাখতে পারেন। খানিকটা নিমপাতাও রাখতে পারেন। নিম এক দিকে যেমন জলীয় ভাব কাটায়, অন্য দিকে স্যাঁতস্যাতে গন্ধও দূর করে।

৪. জুতা পরিষ্কার করুন রোজ : এই ঋতুতে চামড়ার পরিবর্তে অন্য ম্যাটেরিয়ালের তৈরি জুতা ব্যবহার করুন যা ভিজে গেলেও দ্রুত শুকিয়ে যায়। আর যে জুতা পরে বাইরে যাচ্ছেন, তা ঘন ঘন পরিষ্কার করুন। বাইরে থেকে কাদা ও পানিতে ভেজা জুতা জীবাণুর দারুণ আবাসস্থল। তাই সুস্থ থাকতে শুকনা জুতা ব্যবহার করুন। জুতা শুকাতে খবরের কাগজ ব্যবহার করতে পারেন। এটি দ্রুত পানি শোষণ করে। আর যেসব জুতা ধোয়া যায় সেগুলো সপ্তাহে বা পনেরো দিনে একবার সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫.রান্নাঘর আর বাথরুম শুকনা রাখুন : রান্নাঘর এবং বাথরুম সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার রাখার প্রয়োজন এই সময়ে। এখানেই সবচেয়ে বেশি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থাকে। আমাদের দেশিয় রান্নাবান্নায় রান্নাঘর ময়লা বেশি হয়, ভেজেও বেশি। বাইরে থেকে বাজার এনে আমরা এখানেই ঢালি। তাই এখানে জীবাণু থাকা স্বাভাবিক। প্রতিদিন রান্নাঘর ভালো করে গরম পানির সাহায্যে মুছে ফেলুন। মেঝেই শুধু নয়, বেসিন, চুলা, চুলার চারপাশ, কিচেন কাউন্টার ইত্যাদি জীবাণুদূরকারী তরল মিশিয়ে মুছে নিন। একই পদ্ধতিতে প্রতিদিন বাথরুমের মেঝে, টয়লেট সিট, বেসিন, তোয়ালের স্ট্যান্ড, দেওয়াল ও আয়না মুছে শুকনো রাখুন।

৬. পেস্ট কন্ট্রোল : সম্ভব হলে বর্ষায় একবার পুরো বাড়ির পেস্ট কন্ট্রোল করুন। জীবাণুনাশক ব্যবহার করে পুরো বাড়ির জীবাণু ও পোকামাকড় দূর করাই হল পেস্ট কন্ট্রোল। নিজেরাই করতে পারেন বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিতে পারেন এই কাজে। বছরে একবার পেস্ট কন্ট্রোল করা ভালো, এতে ইঁদুর-তেলাপোকার উৎপাত কমার পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও কমে অনেকটাই।
নিজস্ব সংবাদ : 










