জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন

বাংলাদেশের ‘জাস্ট ট্রানজিশনে’ আন্তর্জাতিক অর্থায়ন চান পরিবেশকর্মীরা  

বাংলাদেশের ‘জাস্ট ট্রানজিশনে' আন্তর্জাতিক অর্থায়ন চান পরিবেশকর্মীরা  

২০২৫ সালের মধ্যে নেট-জিরো লক্ষ্য অর্জনে উচ্চমানের পরিকল্পনা গ্রহণে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। আজারবাইজানের বাকুতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে, ন্যায় ও সমতা ভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তরের জন্য সম্পদ সংগ্রহে গুরুত্বারোপ করেছেন কপ সভাপতি। অপরদিকে সম্মেলনের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের জাস্ট ট্রানজিশনে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে জোর দেওয়া হয়।

জলবায়ু অভিঘাত মোকাবেলায় নানা প্রস্তাবনা, পরিকল্পনা ও উদ্যোগের পরেও যথাযথ অর্থায়ন ঘাটতিতে, প্রত্যাশার বিপরীতে প্রাপ্তির পাল্লা অনেকটাই হালকা।

সঙ্কট নিরসনে, জ্বালানি রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দায়িত্বশীল উত্তোলন, নির্গমন হ্রাস এবং পরিবেশগত ও সামাজিক মানদণ্ড মেনে চলায় জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যানের সমান্তরাল কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজন প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্মেলনের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের সাইড ইভেন্টে বক্তারা তাই, ন্যায্যতার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ ও ছাড়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।

জলবায়ু অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে, অভিযোজন, প্রশমন ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে জাস্ট ট্রানজিশন বা ন্যায্য রূপান্তরে ব্যাপক অর্থায়ন ও উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে মত পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর।

কপ ২৯ এর ভেন্যুতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত জাস্ট ট্রানজিশন ও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জের সময়ে আমরা ন্যায্য রূপান্তর নিয়েও কথা বলছি। আমাদের পরিবেশ,প্রাণ, প্রকৃতির বেলায় জীবাশ্ম জ্বালানির প্রভাব এবং সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের করণীয় এবং প্রাপ্য নিয়ে আমরা সাইড ইভেন্টগুলোতে কথা বলছি।’

বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যেন জাতিসংঘের নেতৃত্বে বিশ্বের ধনীদেশগুলোর কাছ থেকে যৌক্তিক অর্থায়ন, তহবিলের মাধ্যমে জাস্ট ট্রানজিশন অর্থাৎ ন্যায্য রূপান্তরে যায় সেই দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান মুকিত মজুমদার।

বাস্তবতা বলছে, চলমান সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং জ্বালানি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হলেও এখনও অধরা সমন্বিত উদ্যোগ্। এমন পরিস্থিতিতে সাইড ইভেন্টে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, ঐশী ফাউন্ডেশনসহ দেশের পরিবেশকর্মীদের সংগঠন ও বক্তারা বাংলাদেশে জাস্ট ট্রানজিশনে অর্থায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকারের বিশ্লেষণ বলছে, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। তাই সভ্যতা রক্ষায় যথাযত পদক্ষেপের দাবীতে প্রতিদিনই সম্মেলন চত্তরে বিক্ষোভ করছেন পরিবেশবাদীরা।

 

(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি এবং চ্যানেল আইয়ের দুবাই প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।   

কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন

বাংলাদেশের ‘জাস্ট ট্রানজিশনে’ আন্তর্জাতিক অর্থায়ন চান পরিবেশকর্মীরা  

আপডেট সময় ০৭:১৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪

২০২৫ সালের মধ্যে নেট-জিরো লক্ষ্য অর্জনে উচ্চমানের পরিকল্পনা গ্রহণে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। আজারবাইজানের বাকুতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে, ন্যায় ও সমতা ভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তরের জন্য সম্পদ সংগ্রহে গুরুত্বারোপ করেছেন কপ সভাপতি। অপরদিকে সম্মেলনের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের জাস্ট ট্রানজিশনে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে জোর দেওয়া হয়।

জলবায়ু অভিঘাত মোকাবেলায় নানা প্রস্তাবনা, পরিকল্পনা ও উদ্যোগের পরেও যথাযথ অর্থায়ন ঘাটতিতে, প্রত্যাশার বিপরীতে প্রাপ্তির পাল্লা অনেকটাই হালকা।

সঙ্কট নিরসনে, জ্বালানি রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দায়িত্বশীল উত্তোলন, নির্গমন হ্রাস এবং পরিবেশগত ও সামাজিক মানদণ্ড মেনে চলায় জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যানের সমান্তরাল কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজন প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্মেলনের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের সাইড ইভেন্টে বক্তারা তাই, ন্যায্যতার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ ও ছাড়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।

জলবায়ু অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে, অভিযোজন, প্রশমন ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে জাস্ট ট্রানজিশন বা ন্যায্য রূপান্তরে ব্যাপক অর্থায়ন ও উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে মত পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর।

কপ ২৯ এর ভেন্যুতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত জাস্ট ট্রানজিশন ও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জের সময়ে আমরা ন্যায্য রূপান্তর নিয়েও কথা বলছি। আমাদের পরিবেশ,প্রাণ, প্রকৃতির বেলায় জীবাশ্ম জ্বালানির প্রভাব এবং সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের করণীয় এবং প্রাপ্য নিয়ে আমরা সাইড ইভেন্টগুলোতে কথা বলছি।’

বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যেন জাতিসংঘের নেতৃত্বে বিশ্বের ধনীদেশগুলোর কাছ থেকে যৌক্তিক অর্থায়ন, তহবিলের মাধ্যমে জাস্ট ট্রানজিশন অর্থাৎ ন্যায্য রূপান্তরে যায় সেই দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান মুকিত মজুমদার।

বাস্তবতা বলছে, চলমান সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং জ্বালানি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হলেও এখনও অধরা সমন্বিত উদ্যোগ্। এমন পরিস্থিতিতে সাইড ইভেন্টে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, ঐশী ফাউন্ডেশনসহ দেশের পরিবেশকর্মীদের সংগঠন ও বক্তারা বাংলাদেশে জাস্ট ট্রানজিশনে অর্থায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকারের বিশ্লেষণ বলছে, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। তাই সভ্যতা রক্ষায় যথাযত পদক্ষেপের দাবীতে প্রতিদিনই সম্মেলন চত্তরে বিক্ষোভ করছেন পরিবেশবাদীরা।

 

(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি এবং চ্যানেল আইয়ের দুবাই প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।   

কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।