মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রস্তুতি । ছবি : সংগৃহীত

২০২২ ও ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইসরায়েলী সেনাদের সঙ্গে চোরাগোপ্তা হামলা বাড়ছিল। জবাবে স্বভাব অনুযায়ী দ্বিগুণ হিংস্রতায় ফিলিস্তিনের গাজা, পশ্চিমতীরে শরণার্থী শিবিরগুলোতে চলছিল ইসরায়েলী রেইড। ফিলিস্তিনি তারুণ্যের মাঝে তৃতীয় ইনতিফাদা বা স্বাধীনতার পক্ষে অভ্যুত্থানের জোয়ার চাঙ্গা হচ্ছিল। ঠিক এই সময়ে গত বছর অক্টোবরের ৭ তারিখ, ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে এক নজিরবিহীন অভিযান চালায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাস। ব্যস, হাজার ইসরায়েলির মৃত্যুর জবাব দিতে নেমে গাজাকে ধূলিসাৎ করে ইসরায়েলী সেনারা, এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। গুঁড়িয়ে দেওয়া ভবনগুলোর নিচে ঠিক কত লাশ আছে সেসবের কোনো হিসেব নেই। এরই মধ্যে বিশ্বসম্প্রদায়ের চাপে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাঝেই আগুনে যেন ঘি ঢেলে দিল হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ড। জানা গেল, রাজনৈতিক প্রধানকে হত্যার আগে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মাদ দেইফকেও শক্তিশালী বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের আগে ইসরায়েলের আরেক মাথাব্যথা ইরানপন্থী লেবাননি সশস্ত্র গ্রুপ হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করা হয়।

এসব হত্যাকাণ্ড বিশেষ করে ইরানের মাটিতে ইসমাইল হানিয়ার এই পরিণতির সমুচিত জবাব এবং প্রতিশোধের হুংকার দিয়েছে ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে কিছুটা উন্নতি করা ইরান। অন্যদিকে লেবাননে ইরানপন্থী গ্রুপ হিজবুল্লাহও যে চুপ করে বসে থাকবে না সেটা স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ইরান-ইসরায়েল সরাসরি যুদ্ধ এবং লেবাননের দিক থেকে শত শত কাতিউশা রকেট পরিস্থিতিকে বড় কিছুর দিকে নিয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় যুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রবল হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রস্তুতি prokritibarta

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের যেকোনো ফ্লাইটের টিকিট কিনে অবিলম্বে লেবানন ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও লেবাননে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।’

বিবিসি জানিয়েছে, বর্তমানে এ অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের দু’টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে, পরিবহন হেলিকপ্টার প্রস্তুত রেখেছে রয়্যাল এয়ার ফোর্স। রোববার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ফরাসি নাগরিকদের লেবানন ছেড়ে যেতে নির্দেশনা জারি করেছে।

এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় ইসরায়েলী মন্ত্রীদের বাড়িতে স্যাটেলাইট ফোন দেওয়া হয়েছে। হামলায় যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থেকে এই পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি।

উল্লেখ্য, ইরান-ইসরায়েল বিগত কয়েক দশক ধরে একে-অন্যের চিরশত্রু। দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও সিরিয়া, ইরাক, লেবাননে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রক্সি যুদ্ধ চলছে। দুপক্ষের প্রক্সি যুদ্ধ বা পরোক্ষ যুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।

এবছর সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত এক সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলায় ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ এক কর্মকর্তাসহ অনেকে প্রাণ হারান। এর জবাবে এপ্রিলে ইসরায়েলের মাটিতে সরাসরি হামলা চালায় ইরান। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওই হামলায় ১৭০ ড্রোন ,৩০ ক্রুজ মিসাইল এবং ১১০ টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করেছিল্ ইরান।

গত শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক ঘোষক বলেন, ‘বিশ্ববাসী বিশেষ কিছু দেখতে যাচ্ছেন।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘সামনে কঠিন সময় আসছে, সব পক্ষ থেকে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।’

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রস্তুতি

আপডেট সময় ০২:২১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অগাস্ট ২০২৪

২০২২ ও ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইসরায়েলী সেনাদের সঙ্গে চোরাগোপ্তা হামলা বাড়ছিল। জবাবে স্বভাব অনুযায়ী দ্বিগুণ হিংস্রতায় ফিলিস্তিনের গাজা, পশ্চিমতীরে শরণার্থী শিবিরগুলোতে চলছিল ইসরায়েলী রেইড। ফিলিস্তিনি তারুণ্যের মাঝে তৃতীয় ইনতিফাদা বা স্বাধীনতার পক্ষে অভ্যুত্থানের জোয়ার চাঙ্গা হচ্ছিল। ঠিক এই সময়ে গত বছর অক্টোবরের ৭ তারিখ, ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে এক নজিরবিহীন অভিযান চালায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাস। ব্যস, হাজার ইসরায়েলির মৃত্যুর জবাব দিতে নেমে গাজাকে ধূলিসাৎ করে ইসরায়েলী সেনারা, এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। গুঁড়িয়ে দেওয়া ভবনগুলোর নিচে ঠিক কত লাশ আছে সেসবের কোনো হিসেব নেই। এরই মধ্যে বিশ্বসম্প্রদায়ের চাপে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাঝেই আগুনে যেন ঘি ঢেলে দিল হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ড। জানা গেল, রাজনৈতিক প্রধানকে হত্যার আগে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মাদ দেইফকেও শক্তিশালী বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের আগে ইসরায়েলের আরেক মাথাব্যথা ইরানপন্থী লেবাননি সশস্ত্র গ্রুপ হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করা হয়।

এসব হত্যাকাণ্ড বিশেষ করে ইরানের মাটিতে ইসমাইল হানিয়ার এই পরিণতির সমুচিত জবাব এবং প্রতিশোধের হুংকার দিয়েছে ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে কিছুটা উন্নতি করা ইরান। অন্যদিকে লেবাননে ইরানপন্থী গ্রুপ হিজবুল্লাহও যে চুপ করে বসে থাকবে না সেটা স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ইরান-ইসরায়েল সরাসরি যুদ্ধ এবং লেবাননের দিক থেকে শত শত কাতিউশা রকেট পরিস্থিতিকে বড় কিছুর দিকে নিয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় যুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রবল হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রস্তুতি prokritibarta

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের যেকোনো ফ্লাইটের টিকিট কিনে অবিলম্বে লেবানন ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও লেবাননে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।’

বিবিসি জানিয়েছে, বর্তমানে এ অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের দু’টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে, পরিবহন হেলিকপ্টার প্রস্তুত রেখেছে রয়্যাল এয়ার ফোর্স। রোববার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ফরাসি নাগরিকদের লেবানন ছেড়ে যেতে নির্দেশনা জারি করেছে।

এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় ইসরায়েলী মন্ত্রীদের বাড়িতে স্যাটেলাইট ফোন দেওয়া হয়েছে। হামলায় যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থেকে এই পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি।

উল্লেখ্য, ইরান-ইসরায়েল বিগত কয়েক দশক ধরে একে-অন্যের চিরশত্রু। দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও সিরিয়া, ইরাক, লেবাননে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রক্সি যুদ্ধ চলছে। দুপক্ষের প্রক্সি যুদ্ধ বা পরোক্ষ যুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।

এবছর সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত এক সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলায় ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ এক কর্মকর্তাসহ অনেকে প্রাণ হারান। এর জবাবে এপ্রিলে ইসরায়েলের মাটিতে সরাসরি হামলা চালায় ইরান। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওই হামলায় ১৭০ ড্রোন ,৩০ ক্রুজ মিসাইল এবং ১১০ টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করেছিল্ ইরান।

গত শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক ঘোষক বলেন, ‘বিশ্ববাসী বিশেষ কিছু দেখতে যাচ্ছেন।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘সামনে কঠিন সময় আসছে, সব পক্ষ থেকে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।’