মার্কিন-ইসরায়েলি গোয়েন্দা রিপোর্ট: মোজতবা খামেনি অচেতন অবস্থায়

মার্কিন-ইসরায়েলি গোয়েন্দা রিপোর্ট: মোজতবা খামেনি অচেতন অবস্থায়

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পাওয়া মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থাও ভাল নয়। এক হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মোজতবা অচেতন অবস্থায় আছে বলে দাবি করেছে মার্কিন-ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন এবং পবিত্র নগরী কোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ এ তথ্য জানিয়েছে। ওই রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তিনি বর্তমানে দেশ পরিচালনা করার অবস্থায় নেই।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, শিয়া ধর্মীয় ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোমে বড় ধরনের একটি সমাধি বা মাজার নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সেখানে ‘একের অধিক কবরের’ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার পাশে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য—এবং সম্ভবত মোজতবা খামেনিকেও দাফন করার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।

মোজতবা খামেনির অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই জানত বলে মনে করা হলেও, এই প্রথম তা জনসমক্ষে এল। এ বিষয়ে মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইরানি রিপ্রেজেন্টেটিভের (পাকিস্তানি দূতাবাসে অবস্থিত) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরান নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধের প্রথম দিনে যে বিমান হামলায় তাঁর বাবা, মা, স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং এক ছেলে নিহত হন। এখন ধারণা করা হচ্ছে ওই হামলায় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছিলেন।

মার্চ মাসের শুরুতে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তার কণ্ঠস্বরও শোনা যায়নি।

এরপর থেকে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনির নামে দুটি বিবৃতি সরকারি টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হয়েছে। গত সোমবার একটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে একটি ‘ওয়ার রুমে’ বসে ইসরায়েলের ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। তার নিজের কণ্ঠস্বরে কোনো অডিও না থাকা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে যে তিনি সত্যিই সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন।

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে নতুন এই নেতা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। তবে বিরোধী শক্তিগুলো দাবি করছে, তিনি হাসপাতালে কোমায় রয়েছেন। অন্যান্য সূত্র থেকে তার পা ভেঙে যাওয়া এবং মুখে আঘাত পাওয়ার খবরও এসেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

মার্কিন-ইসরায়েলি গোয়েন্দা রিপোর্ট: মোজতবা খামেনি অচেতন অবস্থায়

আপডেট সময় ০২:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পাওয়া মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থাও ভাল নয়। এক হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মোজতবা অচেতন অবস্থায় আছে বলে দাবি করেছে মার্কিন-ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন এবং পবিত্র নগরী কোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ এ তথ্য জানিয়েছে। ওই রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তিনি বর্তমানে দেশ পরিচালনা করার অবস্থায় নেই।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, শিয়া ধর্মীয় ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোমে বড় ধরনের একটি সমাধি বা মাজার নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সেখানে ‘একের অধিক কবরের’ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার পাশে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য—এবং সম্ভবত মোজতবা খামেনিকেও দাফন করার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।

মোজতবা খামেনির অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই জানত বলে মনে করা হলেও, এই প্রথম তা জনসমক্ষে এল। এ বিষয়ে মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইরানি রিপ্রেজেন্টেটিভের (পাকিস্তানি দূতাবাসে অবস্থিত) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরান নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধের প্রথম দিনে যে বিমান হামলায় তাঁর বাবা, মা, স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং এক ছেলে নিহত হন। এখন ধারণা করা হচ্ছে ওই হামলায় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছিলেন।

মার্চ মাসের শুরুতে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তার কণ্ঠস্বরও শোনা যায়নি।

এরপর থেকে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনির নামে দুটি বিবৃতি সরকারি টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হয়েছে। গত সোমবার একটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে একটি ‘ওয়ার রুমে’ বসে ইসরায়েলের ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। তার নিজের কণ্ঠস্বরে কোনো অডিও না থাকা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে যে তিনি সত্যিই সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন।

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে নতুন এই নেতা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। তবে বিরোধী শক্তিগুলো দাবি করছে, তিনি হাসপাতালে কোমায় রয়েছেন। অন্যান্য সূত্র থেকে তার পা ভেঙে যাওয়া এবং মুখে আঘাত পাওয়ার খবরও এসেছে।