বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের সম্পদ, কৃষকের বন্ধু পেঁচা। দেশে ১৫-১৭ প্রজাতির পেঁচা দেখা যায়। বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে বহু আগে থেকেই জড়িয়ে আছে পেঁচা, হয়ে আছে লোকজ ঐতিহ্যের প্রতীকও। অথচ সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রায়ই খবর আসে দেশে পেঁচা দিন দিন কমছে। এমন শঙ্কা জাগানো পরিস্থিতিতে জানা গেল ফেসবুক-মেসেঞ্জারে অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশেই বিজ্ঞাপন দিয়ে চলছে বিপন্ন পেঁচা কেনা-বেচা! গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এমনই কেনা-বেচার খবর আসে বনবিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে। এরপর হাতেনাতে বন্যপ্রাণীর অবৈধ কারবারে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয় এবং উদ্ধার হয় দু’টি পেঁচা।

ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ) জানিয়েছে, অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে দু’টি পেঁচা বিক্রয়ের চেষ্টা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই তথ্য পেয়ে রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে কারবারিকে হাতে-নাতে আটক করা হয় এবং পেঁচা দু’টিকে উদ্ধার করা হয়।
আটক হওয়া ওই ব্যক্তির মোবাইলফোনে থাকা মেসেঞ্জারে দেখা যায়, তিনি আরেক ব্যক্তির কাছে দু’টি পেঁচা ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন, এমনটা বলছেন। বিক্রয়ের চেষ্টাকারী নিজেও দু’টি পেঁচা ৬ হাজার টাকায় কিনেছিলেন এমনটা দাবি করেন। পেঁচা দু’টি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষির স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছে ডব্লিউসিসিইউ।

এবিষয়ে ডব্লিউসিসিইউ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘পেঁচার মূল্য যে অর্থ দিয়ে নিরুপন করা যায় না, এই গুরুত্বটা যদি আমাদের শিক্ষিত সমাজের ছেলে মেয়েরা অনুধাবন করতে না পারে তাহলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সত্যিই একটা চ্যালেঞ্জিং ইস্যু।’
নাগরিকদের বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা ও ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখার অনুরোধ জানিয়েছে ডব্লিউসিসিইউ।
ডেস্ক রিপোর্ট 










