৫ নভেম্বর আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ। এর আগে প্রচারণায় ভীষণ ব্যস্ত রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এবং আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসও তথাকথিত উদারপন্থী মার্কিনীদের ভোট টানতে ব্যস্ত। সর্বশেষ জরিপে কমলা ট্রাম্পের চেয়ে সামান্য এগিয়ে। অর্থাৎ আসল ভোটে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। ট্রাম্প গত কয়েকদিনের নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে প্রচারণায় কয়েকটি চমকপ্রদ কথা বলেছেন। সর্বশেষ সমাবেশে ট্রাম্প শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের খুব কাছাকাছি রয়েছে বিশ্ব। এছাড়া গত রোববার ট্রাম্প মার্কিনীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে দেশের বাইরে যুদ্ধে জড়াবে না আমেরিকা। এর আগের সমাবেশে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ঘোরতর সংকট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ধর্মীয় গ্রন্থগুলোয় উল্লেখিত নবীদের বাণীও উচ্চারণ করেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় সোমবার জর্জিয়ায় নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে আমেরিকা ভুল পথে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে।
যুদ্ধে যাবে না আমেরিকা
রোববার পেনসিলভেনিয়া রাজ্যে এক নির্বাচনী প্রচারণা সভায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন যে, রিপাবলিকানরা জয়ী হয় তাহলে বিদেশে কোনো যুদ্ধ করবে না আমেরিকা। কোনো মার্কিন সেনাকেও আর যুদ্ধের জন্য বিদেশে পাঠানো হবে না।
তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে যতগুলো আন্তর্জাতিক সংকটে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সেসবের প্রত্যেকটির সমাধান করবেন তিনি এবং এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবেন ইউক্রেন ও গাজা সংঘাতকে।
পেনিসিলভানিয়ায় সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “যদি কমলা হ্যারিস নির্বাচনে জয়ী হয়ে আগামী চার বছরের জন্য ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য অন্তত আগামী চার দশক পর্যন্ত জ্বলবে এবং আমাদের যেসব সন্তানদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে, তারা বেঘোরে মারা পড়বে।”

“তাই কমালাকে ক্ষমতায় পাঠানোর অর্থ হলো লাখ লাখ মার্কিন তরুণ-তরুণীর জীবন কে ঝুঁকিতে ফেলা। আমাদের ছেলে-মেয়েরা এমন সব দেশে যুদ্ধ করতে গেয়ে মারা যাচ্ছে, যেসব দেশের নামই হয়তো অনেকে মার্কিন নাগরিক শোনেননি।”
“কিন্তু আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনারা যদি আমাকে জয়ী করেন, আমি কখনও কোনো নির্বোধ এবং শেষ না হতে চাওয়া যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের পাঠাব না। আপনাদের সন্তানরা আপনাদের সংস্পর্শে থাকবে। বাড়ি থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অন্য কোনো দেশে বেঘোরে তাদের প্রাণ হারাতে হবে না।”
নির্বাচনী প্রচারণা সভায় তিনি আরও বলেন,“আমি আরও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বাইডেন শাসনামলের চার বছরে যতগুলো আন্তর্জাতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়েছে, প্রতিটি থেকে আমি এই দেশকে বের করে আনব। সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হবে ইউক্রেন এবং গাজা সংঘাতের ওপর।”
ট্রাম্পের মুখে নবীদের কথা
এছাড়া গত শুক্রবার জনপ্রিয় মার্কিন পডকাস্টার জো রোগানকে প্রায় তিন ঘণ্টার এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এই অঞ্চল (মধ্যপ্রাচ্য) সম্পর্কে নবীরা যা বলে গেছেন তা তিনি বিশ্বাস করেন। তাঁরা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য এমন এক জায়গা, যেখান থেকে শুরু হবে পৃথিবীর ধ্বংস।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি জানেন, নবীরা বলে গেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। আপনি এটা জানেন, তাই না?’

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল এবং এ অঞ্চলের বাকীপক্ষগুলো নিয়ে বলতে গিয়ে ট্রাম্প এই কথা বলেন। তবে হামাসের সাথে যুদ্ধের পুরো সময়ে বাইডেনের কথা না শোনার জন্য ইসরায়েলের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় কিছু না করার জন্য ইসরায়েলকে বলেছিলেন বাইডেন।
‘‘আমার মনে হয়, যদি তারা (ইসরায়েল) বাইডেনের কথা শুনতো, তাহলে এখনও তাদের মাথার ওপর বোমা পড়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতো,’’ যোগ করেন তিনি।
‘‘বাইডেনের অনেক কিছুতে ভুল আছে। আমার ধারণা আপনিও বলবেন যে, তিনিও (হ্যারিস) ভুল করেছেন। কারণ তিনি সবসময় বলেছেন, তারা একসাথে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল তার (বাইডেনের) উপদেশ শোনেনি।
ডেস্ক রিপোর্ট 










