শিল্পায়ন-নগরায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ। বিশেষ করে কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্যাস। গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন। এবার গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ অব্যাহত মাত্রায় থাকলে পৃথিবীর করুণ পরিণতি আর খুব বেশি দূরে নয় বলে জানিয়ে দিল জাতিসংঘ। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির নতুন প্রতিবেদনে হুঁশিয়ার করা হয়েছে: গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে শতাব্দী শেষে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়বে ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ এর তুলনায় ২০২৩ সালে বৈশ্বিক কার্বন গ্রিন হাউজ গ্যাস বেড়েছে এক দশমিক ৩ শতাংশ। তাই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধে উন্নত দেশগুলোকে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ রোধে পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি বলছে, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের জন্য উন্নত দেশগুলোর দায় বেশি। বৈশ্বিক গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের ৭৭ শতাংশ করে থাকে উন্নত দেশগুলোর জোট জি২০। তাই পৃথিবীকে বাঁচাতে তাদের নিঃসরণের পরিমাণ অবশ্যই কমাতে হবে।
গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ রোধে বর্তমানে যেসব নীতি বা বিধি আছে, তার মাধ্যমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এক দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা সম্ভব নয়। যদিও সম্ভব হয়, তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে ২.৬-২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই আগামীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ রোধে যে প্রতিশ্রুতি দেবে সেখানে, গ্যাস নিঃসরণ রোধে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি। জাতিসংঘের এই সংস্থা বলছে, অবশ্যই দেশগুলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪২ শতাংশ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ রোধ করতে হবে ।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি মানে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ বৃদ্ধি। আর এজন্য বিশ্বের মানুষকে চড়া-মূল্য দিতে হবে। তার কথায়, আমরা আগুন নিয়ে খেলছি’।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ রোধে বিনিয়োগ জরুরী। এজন্য বিশ্বের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হবে। কার্বন মুক্ত বিশ্ব পেতে প্রতিবছর ০.৯-২.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ দরকার বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি। যেখানে প্রতিবছর বিশ্বের অর্থনীতির আকার ১১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ডেস্ক রিপোর্ট 










