বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য এবং সৌন্দর্য্য ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ পাখিরা। দেশে যে পাখিগুলো আছে তার বড় একটি অংশ পরিযায়ী পাখি। এদের মধ্যে ২২৫ প্রজাতি শীতকালীন পরিযায়ী, ১২টি গ্রীষ্ম পরিযায়ী, ১৪টি পান্থ পরিযায়ী, ১২০টি ভবঘুরে এবং বাকিরা আবাসিক। আর এ শীতকালীন পরিযায়ী পাখিদের বড় একটি অংশ জলচর পরিযায়ী পাখি। দেশে এখনো টিকে থাকা সুবিস্তৃত জলাভূমিগুলো বিশেষ করে হাওরগুলো পরিযায়ী পাখিদের অভয়াশ্রম। অথচ এখানেই এখন তাদের জন্য ওঁত পেতে আছে ভয়। মানুষের লোভ এবং অসচেতন উল্লাসের বলি হচ্ছে হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে সবুজ-শ্যামল দেশে আসা পরিযায়ী পাখিরা। বন্দুক হাতের শিকারিদের দৌরাত্ম্য কমলেও বেড়েছে বিষটোপ দিয়ে চোরা শিকারিদের প্রকৃতিবিনাশী তৎপরতা। সিলেট অঞ্চলের হাওরগুলোতে বাড়ছে বিষটোপে পরিযায়ী পাখি শিকারের প্রবণতা।
এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি , শ্রীমঙ্গলের বাইক্কাবিল ,হাইল-হাওরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিষটোপে পরিযায়ী পাখি শিকার বেড়েছে। স্থানীয় পরিবেশ-প্রকৃতি সচেতনরা এই প্রবণতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাখিপ্রেমীদের নানা গ্রুপে শেয়ার করছেন।

এসব পোস্টে জানা যায়, শীতের সময় এলে হাওরাঞ্চলে চোরা শিকারীদের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। শিকারিদের মূল টার্গেট থাকে অপেক্ষাকৃত মাংসল বালিহাঁস, ভুতিহাঁস, গিরিয়াহাঁসসহ নানা প্রজাতির হাঁস। নানাভাবে পাখি শিকার চলছে। বিষটোপে এই পাখিরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। সম্প্রতি হাকালুকির নাগুয়া বিলে ৪০ টি, বাইক্কাবিল হাওরে ৩২ টি ,হাইল-হাওরে ২৬ টি পরিযায়ী পাখির মৃতদেহ দেখতে পাওয়া গেছে। বিষটোপ ব্যবহার করে প্রতিদিন কমপক্ষে কয়েক হাজার পাখি শুধু শ্রীমঙ্গলের হাইল-হাওরেই শিকার হয় । ২টি হাঁস ১৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অনেকে অগ্রিম অর্ডার দিয়ে রাখেন। এ কাজটা শিকারিরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করে থাকে।
স্থানীয়রা বলছেন, চোরা শিকারিরা মাছ ধরার নামে রাত্রে বিভিন্ন ধরনের জাল ও বিষটোপ প্রয়োগ করে। ভোরবেলা এসে বিষটোপ খেয়ে মরা এই পাখিগুলো ধরে জবাই করে বিক্রি করে। বাজারে সহজলভ্য কীটনাশক দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে পাখি হত্যার বিষটোপ। আর এসবে হত্যা করা পাখির মাংস খেয়ে মানুষেরও বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। এমনকি মৃত্যু ঝুঁকিও রয়েছে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডও হতে পারে। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে। পাখিপ্রেমী, ফটোগ্রাফার এবং প্রকৃতি সচেতন মানুষরা চান, আইন বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় এবং আন্তরিক হোক স্থানীয় প্রশাসন।
ডেস্ক রিপোর্ট 










