চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় আহত হাতিটি চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে হাতিটির মৃত্যু ঘটে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গত রোববার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে এলিফ্যান্ট ওভারপাসে (হাতি পারাপারের পথ) ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় হাতিটি। এরপর বন বিভাগ হাতিটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়। এরপর হাতিটির চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বিবেক চন্দ্র সূত্রকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকার নাইন বলেন, ‘ট্রেনের ধাক্কায় আহত হাতিটির আঘাত ছিল খুবই গুরুতর। হাতিটির পেছনের ডান পা ভেঙে শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। মেরুদণ্ডের স্ট্রাকচার, কোমর, ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছে। হাতিটির বয়স আনুমানিক ৮ থেকে ১০ বছর। পার্কের হাসপাতালে আনার পরপরই চিকিৎসা শুরু হয়। বিকেল ৪টার দিকে হাতিটি মারা গেছে।’
হাতির জন্য উচ্চ ঝুঁকির রেললাইন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুল নকশায় হাতি চলাচলের রাস্তা তৈরির কারণেই চুনতি অভয়ারণ্যে হাতি মারা গেছে। বনের ২৭ কিলোমিটার এলাকায় মাত্র একটি ওভারপাস নির্মাণ হয়েছে। তাতে আবার কাঁটাযুক্ত বেতগাছ রোপণ করা হয়েছে! এদিকে এই রুটে চলা ট্রেনে নেই মনিটরিং সেন্সর। ফলে, দোহাজারি থেকে কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে আরো হাতির মৃত্যু হতে পারে। হাতি হতাহত হলে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের বিধান করারও তাগিদ গবেষকদের।

দোহাজারি থেকে কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেলপথের ২৭ কিলোমিটার বনের ভেতরে। এর মধ্যে চুনতির ১৩টি, ফাইস্যাখালীর ৭টি ও মেধাকচ্ছপিয়ার একটি স্পটে হাতি চলাচল করে। সেখানকার বুনো পরিবেশে বেঁচে আছে মাত্র ৪০টি হাতি।
রেললাইন স্থাপনের আগে সমীক্ষায় হাতি চলাচলের ১৮টি স্পটে করিডর, ওভারপাস নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। অথচ নির্মাণ হয়েছে মাত্র একটি ওভারপাস।
হাতি ও বন্যপ্রাণী রেললাইন পারাপারের সময় বিশেষ ডিভাইস ও ক্যামেরা স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের ১১ মাসেও তা না করায় প্রথম হাতির মৃত্যু ঘটলো। গবেষকরা বলছেন, বনের ভেতরে ভুল পরিকল্পনায় ট্রেন চলছে।

দোহাজারি-কক্সবাজার রেল লাইন স্থাপনের জন্য কাটা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ গাছ। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা খাবারের জন্য হাতির চলাচল যতো বাড়বে, ততো রেললাইনে হাতি হতাহতের সংখ্যা বাড়বে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং কমবয়সী হাতিদের জন্য উচ্চ ঝুঁকির এই রেললাইন।
ডেস্ক রিপোর্ট 










