সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ফেনীতে বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি, টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ উপকূলীয় জনপদ

ফেনীতে বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি, টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ উপকূলীয় জনপদ

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সোমবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে ফেনীতে। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৪টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাহত হচ্ছে যানচলাচল।

ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ৩০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ। এছাড়া রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পরশুরাম উপজেলা।

ফেনী পৌরসভা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলছেন, ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর ১৪ স্থানে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। স্রোত বইছে বিপৎসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার ওপরে। অতিবৃষ্টির পানি নামতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে ১২টি ইউনিট পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে। তবে বুধবার (৯ জুলাই) বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় শহরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতাও কমতে শুরু করেছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলায় ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরশুরাম উপজেলায় ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

উপকূলীয় প্রায় সব জেলায় জলাবদ্ধতা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতে বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরপানি। শহর-গ্রাম সব সড়কই পানির নিচে। তলিয়ে আছে ফসলি জমি, আমনের বীজতলা। ভেসে গেছে পুকুর ও খামারের মাছ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আবারও ডুবল ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সড়কে বন্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল।

শুধু চট্টগ্রাম বিভাগ নয়; ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগেও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হয়েছে। দিনভর বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে গেছে রাজধানীর জীবনযাত্রা। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে নিচু এলাকায়। বিপাকে পড়েছেন পথচলা মানুষ। টানা বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

নোয়াখালীতে ২৪ ঘণ্টায় ২০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত!

নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় টানা ২০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এ অতিবর্ষণ ঘটে, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

প্রচণ্ড বৃষ্টিতে নোয়াখালী পৌর শহরের বেশিরভাগ এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও নিচু ঘরবাড়ি। স্টেডিয়াম পাড়া, জেলখানা সড়ক, ফকিরপুর, হরিনারায়ণপুর, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হাউজিং, মাস্টারপাড়া ও উকিলপাড়াসহ প্রায় সব এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে।

নিচতলার ঘর ও কাঁচা ঘরগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। পানির সঙ্গে সড়কে তৈরি খানাখন্দ মিলিয়ে শহরের রাস্তাগুলো এখন কার্যত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা মঙ্গলবার রাতে মৌখিক নির্দেশে স্থগিত ঘোষণা করেছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

 

প্লাবিত টেকনাফ

কক্সবাজারের টেকনাফে কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে কয়েকশ ঘরবাড়ি। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

খুলনায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট

খুলনায় গত ৩৬ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নিন্মাঞ্চলে। তলিয়ে গেছে শহরের রাস্তাঘাট। টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোরে ধসে পড়েছে খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রি ভবনের রেকর্ড রুমের ছাদ। এতে বৃষ্টির পানিতে রেকর্ড রুমে থাকা শতাধিক বই পানিতে ভিজে গেছে।

গত শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি সবখানেই পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কর্মজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। টানা বৃষ্টিতে নগরীর রয়েলের মোড়, টুটপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, বয়রা, মুজগুন্নি মহাসড়ক, মুজগুন্নি আবাসিক এলাকা, সোনাডাঙ্গা, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মেইন রোড, খালিশপুর, দৌলতপুর, কুয়েট রোড, ফুলবাড়িগেটসহ নগরীর বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে পানি জমেছে।

 

তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোথাও কলাগাছে ভেলা, কোথাও আবার কর্কশিটে শিশু ও জিনিসপত্র নিয়ে যাতায়াত করছেন পানিতে আটকেপড়া লোকজন। এতে সুপেয় পানি, রান্না ও স্যানিটেশন সমস্যায় পড়েছেন হাজারও পরিবার।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। অতিবৃষ্টির কারণে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোলের মধুমোল্লারডাঙি, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, বদ্দিপুর কলোনি, রইচপুর, মধ্য কাটিয়া, রথখোলা, রাজারবাগান, গদাইবিল, মাঠপাড়া, পার-মাছখোলা ও পুরাতন সাতক্ষীরার মতো নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পৌরসভার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

ফেনীতে বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি, টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ উপকূলীয় জনপদ

আপডেট সময় ১২:৩৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সোমবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে ফেনীতে। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৪টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাহত হচ্ছে যানচলাচল।

ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ৩০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ। এছাড়া রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পরশুরাম উপজেলা।

ফেনী পৌরসভা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলছেন, ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর ১৪ স্থানে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। স্রোত বইছে বিপৎসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার ওপরে। অতিবৃষ্টির পানি নামতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে ১২টি ইউনিট পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে। তবে বুধবার (৯ জুলাই) বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় শহরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতাও কমতে শুরু করেছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলায় ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরশুরাম উপজেলায় ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

উপকূলীয় প্রায় সব জেলায় জলাবদ্ধতা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতে বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরপানি। শহর-গ্রাম সব সড়কই পানির নিচে। তলিয়ে আছে ফসলি জমি, আমনের বীজতলা। ভেসে গেছে পুকুর ও খামারের মাছ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আবারও ডুবল ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সড়কে বন্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল।

শুধু চট্টগ্রাম বিভাগ নয়; ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগেও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হয়েছে। দিনভর বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে গেছে রাজধানীর জীবনযাত্রা। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে নিচু এলাকায়। বিপাকে পড়েছেন পথচলা মানুষ। টানা বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

নোয়াখালীতে ২৪ ঘণ্টায় ২০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত!

নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় টানা ২০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এ অতিবর্ষণ ঘটে, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

প্রচণ্ড বৃষ্টিতে নোয়াখালী পৌর শহরের বেশিরভাগ এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও নিচু ঘরবাড়ি। স্টেডিয়াম পাড়া, জেলখানা সড়ক, ফকিরপুর, হরিনারায়ণপুর, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হাউজিং, মাস্টারপাড়া ও উকিলপাড়াসহ প্রায় সব এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে।

নিচতলার ঘর ও কাঁচা ঘরগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। পানির সঙ্গে সড়কে তৈরি খানাখন্দ মিলিয়ে শহরের রাস্তাগুলো এখন কার্যত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা মঙ্গলবার রাতে মৌখিক নির্দেশে স্থগিত ঘোষণা করেছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

 

প্লাবিত টেকনাফ

কক্সবাজারের টেকনাফে কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে কয়েকশ ঘরবাড়ি। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

খুলনায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট

খুলনায় গত ৩৬ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নিন্মাঞ্চলে। তলিয়ে গেছে শহরের রাস্তাঘাট। টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোরে ধসে পড়েছে খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রি ভবনের রেকর্ড রুমের ছাদ। এতে বৃষ্টির পানিতে রেকর্ড রুমে থাকা শতাধিক বই পানিতে ভিজে গেছে।

গত শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি সবখানেই পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কর্মজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। টানা বৃষ্টিতে নগরীর রয়েলের মোড়, টুটপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, বয়রা, মুজগুন্নি মহাসড়ক, মুজগুন্নি আবাসিক এলাকা, সোনাডাঙ্গা, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মেইন রোড, খালিশপুর, দৌলতপুর, কুয়েট রোড, ফুলবাড়িগেটসহ নগরীর বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে পানি জমেছে।

 

তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোথাও কলাগাছে ভেলা, কোথাও আবার কর্কশিটে শিশু ও জিনিসপত্র নিয়ে যাতায়াত করছেন পানিতে আটকেপড়া লোকজন। এতে সুপেয় পানি, রান্না ও স্যানিটেশন সমস্যায় পড়েছেন হাজারও পরিবার।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। অতিবৃষ্টির কারণে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোলের মধুমোল্লারডাঙি, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, বদ্দিপুর কলোনি, রইচপুর, মধ্য কাটিয়া, রথখোলা, রাজারবাগান, গদাইবিল, মাঠপাড়া, পার-মাছখোলা ও পুরাতন সাতক্ষীরার মতো নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পৌরসভার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের।