সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, নোয়াখালীতে সুপেয় পানি সংকট, কৃষিখাতেও বিপর্যয়  

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, নোয়াখালীতে সুপেয় পানি সংকট, কৃষিখাতেও বিপর্যয়  

নোয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে জলাবদ্ধতা, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে জেলার কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে সদর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো এখনও পানির নিচে। অনেক বাড়ির আঙিনায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় স্থানীয়রা কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। নলকূপসহ খাবার পানির উৎসে ডোবা-নালার পানিতে সয়লাব হওয়ায় সুপেয় পানি সংকটে পড়েছে শত শত মানুষ, দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধির শঙ্কা।

 

নোয়াখালীতে প্রবল বৃষ্টির পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ নিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্ট। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: “খাবার পানিতে পুকুর-নালার পানি মিশে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে না পেরে অনেকেই অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

কৃষিখাতেও নেমে এসেছে বিপর্যয়। জলাবদ্ধতায় আমনের বীজতলা, আউশের ক্ষেত এবং গ্রীষ্ম-শরৎকালীন শাকসবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গাছের গোড়া পচা, পোকামাকড় ও নানা রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে আমন বীজের দাম অনেক বেড়ে গেছে, ফলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের পড়তে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসানের মুখে।

 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই থেকে নোয়াখালীতে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে জেলার ছয়টি উপজেলার অন্তত ৫৭টি ইউনিয়নে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫২ হাজার মানুষ। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন ১৮ হাজার পরিবার। এছাড়া সেনবাগ, কবিরহাট ও সুবর্ণচর উপজেলায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৭টি বসতঘর এবং সুবর্ণচরে একটি ঘর সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

মো. দেলোয়ার হোসেন নামের পৌরসভার বাসিন্দা বলেন, পৌরসভা এলাকার কিছু উঁচু অংশ থেকে আগের বৃষ্টির পানি নেমে গেলেও রোববারের বৃষ্টিতে আবারও পানিতে ডুবে গেছে অনেক এলাকা। বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত মানুষ এখন সরকারি সহায়তা ও দ্রুত নিষ্কাশনের দাবি জানাচ্ছেন। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি।

 

সুবর্ণচর উপজেলার কৃষক আনোয়ার মিয়া বলেন, চারদিক পানিতে তলিয়ে থাকায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করার মতো উঁচু জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে উঁচু জায়গা আমনের বীজতলা করার জন্য ভাড়া নিচ্ছেন। পুঁজির অভাবে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে পারছি না। আকস্মিক এ দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এছাড়া ফলন্ত সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ধার-দেনা পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন এবং দ্রুত পানি না নামলে আউশ, আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে।

 

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, নোয়াখালীতে আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে দিনরাত কাজ করছি। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ২৬০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ৪০ হাজার মৎস্য খামারির মাছের ঘের ভেসে গেছে। আমরা ৯৮৪ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১৬ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ টাকা বিতরণ করেছি। আরও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকননো খাবার, ৪৮৪ টন চাল ও ১২ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। আমাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, নোয়াখালীতে সুপেয় পানি সংকট, কৃষিখাতেও বিপর্যয়  

আপডেট সময় ১২:৪৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

নোয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে জলাবদ্ধতা, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে জেলার কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে সদর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো এখনও পানির নিচে। অনেক বাড়ির আঙিনায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় স্থানীয়রা কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। নলকূপসহ খাবার পানির উৎসে ডোবা-নালার পানিতে সয়লাব হওয়ায় সুপেয় পানি সংকটে পড়েছে শত শত মানুষ, দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধির শঙ্কা।

 

নোয়াখালীতে প্রবল বৃষ্টির পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ নিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্ট। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: “খাবার পানিতে পুকুর-নালার পানি মিশে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে না পেরে অনেকেই অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

কৃষিখাতেও নেমে এসেছে বিপর্যয়। জলাবদ্ধতায় আমনের বীজতলা, আউশের ক্ষেত এবং গ্রীষ্ম-শরৎকালীন শাকসবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গাছের গোড়া পচা, পোকামাকড় ও নানা রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে আমন বীজের দাম অনেক বেড়ে গেছে, ফলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের পড়তে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসানের মুখে।

 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই থেকে নোয়াখালীতে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে জেলার ছয়টি উপজেলার অন্তত ৫৭টি ইউনিয়নে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫২ হাজার মানুষ। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন ১৮ হাজার পরিবার। এছাড়া সেনবাগ, কবিরহাট ও সুবর্ণচর উপজেলায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৭টি বসতঘর এবং সুবর্ণচরে একটি ঘর সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

মো. দেলোয়ার হোসেন নামের পৌরসভার বাসিন্দা বলেন, পৌরসভা এলাকার কিছু উঁচু অংশ থেকে আগের বৃষ্টির পানি নেমে গেলেও রোববারের বৃষ্টিতে আবারও পানিতে ডুবে গেছে অনেক এলাকা। বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত মানুষ এখন সরকারি সহায়তা ও দ্রুত নিষ্কাশনের দাবি জানাচ্ছেন। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি।

 

সুবর্ণচর উপজেলার কৃষক আনোয়ার মিয়া বলেন, চারদিক পানিতে তলিয়ে থাকায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করার মতো উঁচু জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে উঁচু জায়গা আমনের বীজতলা করার জন্য ভাড়া নিচ্ছেন। পুঁজির অভাবে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে পারছি না। আকস্মিক এ দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এছাড়া ফলন্ত সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ধার-দেনা পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন এবং দ্রুত পানি না নামলে আউশ, আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে।

 

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, নোয়াখালীতে আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে দিনরাত কাজ করছি। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ২৬০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ৪০ হাজার মৎস্য খামারির মাছের ঘের ভেসে গেছে। আমরা ৯৮৪ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১৬ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ টাকা বিতরণ করেছি। আরও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকননো খাবার, ৪৮৪ টন চাল ও ১২ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। আমাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”