সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

দেশে আবারও মৃদু ভূকম্পন

দেশে আবারও মৃদু ভূকম্পন

দেশে তিন দশমিক শূন্য মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) জানায়, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে আঘাত হানে। এনসিএসের বিবৃতি অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ২০ কিলোমিটার গভীরে।

এনসিএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানায়, ‘০১/০২/২০২৬ তারিখ ভোর ৪টা ০২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে বাংলাদেশে ৩.০ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২০ কিলোমিটার।’

এদিকে আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিষয়ক সংস্থা ভলক্যানো ডিসকাভারিতে বলা হয়েছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাংলাদেশে হালকা মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২ মিনিটে (জিএমটি +৬) সিলেট বিভাগের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে ৩.০ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের তুলনামূলকভাবে অগভীর গভীরতায়-প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল)। তবে এ ভূমিকম্পে কোথাও কম্পন অনুভূত হয়েছে বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটি হালকা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেট-ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরেশীয় প্লেট উত্তর দিকে প্রায় ২ সেন্টিমিটার গতিতে সরে যাচ্ছে। এই ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত।

দেশের আশপাশে বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, শিলং মালভূমি, ডাউকি ফল্ট ও আসাম ফল্টসহ একাধিক সক্রিয় চ্যুতি রেখা রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশকে ১৩টি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ভূকম্পনের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা ও এর আশেপাশে, ৫.৪ থেকে ৫.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী [১, ১০]। এই ভূমিকম্পে বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ২০২৫ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৬ সালের শুরুতেও বেশ কিছু ছোট (৩-৪ মাত্রার) কম্পন অনুভূত হয়েছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের কারণে শহরটিকে বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

দেশে আবারও মৃদু ভূকম্পন

আপডেট সময় ০২:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশে তিন দশমিক শূন্য মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) জানায়, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে আঘাত হানে। এনসিএসের বিবৃতি অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ২০ কিলোমিটার গভীরে।

এনসিএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানায়, ‘০১/০২/২০২৬ তারিখ ভোর ৪টা ০২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে বাংলাদেশে ৩.০ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২০ কিলোমিটার।’

এদিকে আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিষয়ক সংস্থা ভলক্যানো ডিসকাভারিতে বলা হয়েছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাংলাদেশে হালকা মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২ মিনিটে (জিএমটি +৬) সিলেট বিভাগের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে ৩.০ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের তুলনামূলকভাবে অগভীর গভীরতায়-প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল)। তবে এ ভূমিকম্পে কোথাও কম্পন অনুভূত হয়েছে বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটি হালকা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেট-ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরেশীয় প্লেট উত্তর দিকে প্রায় ২ সেন্টিমিটার গতিতে সরে যাচ্ছে। এই ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত।

দেশের আশপাশে বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, শিলং মালভূমি, ডাউকি ফল্ট ও আসাম ফল্টসহ একাধিক সক্রিয় চ্যুতি রেখা রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশকে ১৩টি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ভূকম্পনের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা ও এর আশেপাশে, ৫.৪ থেকে ৫.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী [১, ১০]। এই ভূমিকম্পে বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ২০২৫ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৬ সালের শুরুতেও বেশ কিছু ছোট (৩-৪ মাত্রার) কম্পন অনুভূত হয়েছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের কারণে শহরটিকে বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।