সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

পলিথিন-আবর্জনায় স্থবির খাল-জলাশয়, পরিণতি মশার উপদ্রব চরমে

পলিথিন-আবর্জনায় স্থবির খাল-জলাশয়, পরিণতি মশার উপদ্রব চরমে

খাল দখল, পলিথিন ও আবর্জনা ফেলে পানিপ্রবাহ থামিয়ে দেয়ার মাশুল গুনছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ। পরিবেশ ধ্বংসের সরাসরি পরিণতি হিসেবে দিনের বেলায় এবং সন্ধ্যায় ঝাঁকে ঝাঁকে মশার হামলায় অতিষ্ঠ জনজীবন। ফেব্রুয়ারিতে শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে এবার মশার উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে।

কয়েল, অ্যারোসল কিছুতেই মিলছে না স্বস্তি। ঢাকায় এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মশার উপদ্রব নেই এমন দাবি করতে পারবে কেউ। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, উত্তরা, মিরপুর, গুলশান, রামপুরা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। একই অবস্থা কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া ও শ্যামপুর এলাকাতেও। সন্ধ্যা নামার আগে আগে ঘরে ঢুকছে অগনিত মশা, এক্ষেত্রে হয় ফ্যান চালিয়ে নয়তো মশারির ভেতরে না ঢুকলে মশার কামর থেকে নিস্তার নেই।

জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা বেড়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ। গবেষকদের তথ্যমতে, এর প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির মশা।

মশার এমন প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের অবহেলা-অব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের অপরিণামদর্শী বদঅভ্যাসকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বেশ কিছুদিন বৃষ্টি নেই। এই সুযোগে ড্রেন, খাল, বক্স-কালভার্ট ও জলাধারগুলোতে পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ। যেসব জায়গায় পানি আছে, তাও পচে গেছে। আবার শীত চলে যাওয়ায় তাপমাত্রাও বেড়েছে। এগুলো মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসে মশার ঘনত্ব প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল, নর্দমা ও জলাশয় পরিষ্কারের পাশাপাশি লার্ভা নিধনে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, “কিউলেক্স মশার হটস্পটগুলো শনাক্ত করে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে কয়েকটি খাল পরিষ্কার করা হয়েছে।”

পলিথিন-আবর্জনয় স্থবির খাল-জলাশয়

যদিও বাস্তবতা হলো, মাঝেমধ্যে পরিষ্কার অভিযান চললেও নিয়মিত নজরদারির অভাবে খালগুলো আবারও আবর্জনায় ভরে যায় এবং মশার বংশবিস্তার অব্যাহত থাকে। খাল-জলাশয়ে আবর্জনা দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধের অশুভ তৎপরতা দেখা যায় পুরো দেশজুড়েই।

এই পরিস্থিতিতে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে খাল-নর্দমায় পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি সচেতন নাগরিকদের।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

পলিথিন-আবর্জনায় স্থবির খাল-জলাশয়, পরিণতি মশার উপদ্রব চরমে

আপডেট সময় ১২:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খাল দখল, পলিথিন ও আবর্জনা ফেলে পানিপ্রবাহ থামিয়ে দেয়ার মাশুল গুনছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ। পরিবেশ ধ্বংসের সরাসরি পরিণতি হিসেবে দিনের বেলায় এবং সন্ধ্যায় ঝাঁকে ঝাঁকে মশার হামলায় অতিষ্ঠ জনজীবন। ফেব্রুয়ারিতে শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে এবার মশার উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে।

কয়েল, অ্যারোসল কিছুতেই মিলছে না স্বস্তি। ঢাকায় এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মশার উপদ্রব নেই এমন দাবি করতে পারবে কেউ। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, উত্তরা, মিরপুর, গুলশান, রামপুরা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। একই অবস্থা কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া ও শ্যামপুর এলাকাতেও। সন্ধ্যা নামার আগে আগে ঘরে ঢুকছে অগনিত মশা, এক্ষেত্রে হয় ফ্যান চালিয়ে নয়তো মশারির ভেতরে না ঢুকলে মশার কামর থেকে নিস্তার নেই।

জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা বেড়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ। গবেষকদের তথ্যমতে, এর প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির মশা।

মশার এমন প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের অবহেলা-অব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের অপরিণামদর্শী বদঅভ্যাসকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বেশ কিছুদিন বৃষ্টি নেই। এই সুযোগে ড্রেন, খাল, বক্স-কালভার্ট ও জলাধারগুলোতে পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ। যেসব জায়গায় পানি আছে, তাও পচে গেছে। আবার শীত চলে যাওয়ায় তাপমাত্রাও বেড়েছে। এগুলো মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসে মশার ঘনত্ব প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল, নর্দমা ও জলাশয় পরিষ্কারের পাশাপাশি লার্ভা নিধনে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, “কিউলেক্স মশার হটস্পটগুলো শনাক্ত করে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে কয়েকটি খাল পরিষ্কার করা হয়েছে।”

পলিথিন-আবর্জনয় স্থবির খাল-জলাশয়

যদিও বাস্তবতা হলো, মাঝেমধ্যে পরিষ্কার অভিযান চললেও নিয়মিত নজরদারির অভাবে খালগুলো আবারও আবর্জনায় ভরে যায় এবং মশার বংশবিস্তার অব্যাহত থাকে। খাল-জলাশয়ে আবর্জনা দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধের অশুভ তৎপরতা দেখা যায় পুরো দেশজুড়েই।

এই পরিস্থিতিতে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে খাল-নর্দমায় পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি সচেতন নাগরিকদের।