সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

একটি বন বিড়াল রক্ষা করে লাখো টাকার ফসল

প্রকৃতিতে ফসলের শত্রু দমনে মেছো বিড়ালের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি মেছো বিড়াল তার জীবদ্দশায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ফসল ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করে। তবে এবার আলোচনায় এসেছে এমন এক শিকারি, যার ইঁদুর ধরার দক্ষতা মেছো বিড়ালকেও হার মানায়।

হারাতে বসা বন বিড়াল তার জীবনকালে মেছো বিড়ালের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক ইঁদুর শিকার করে থাকে।

কৃষিবিদদের মতে, বাস্তুসংস্থানের এই ‘প্রাকৃতিক রক্ষক’ যদি আরও বেশি ইঁদুর সাবাড় করে, তবে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় তার আর্থিক মূল্যের সঠিক হিসেব কষা এখন সময়ের দাবি।

ধান, গম, ভুট্টা, আলু, বাদাম কিংবা সরিষা—দেশের প্রধান প্রধান দানাদার ও রবি শস্যের প্রধান শত্রু এখন ‘মেঠো ইঁদুর’। প্রতিবছর এই ছোট প্রাণীটি কৃষকের কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট করে চলেছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে কোনো আধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং প্রকৃতির আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছে ‘বনবিড়াল’।

 

মাঠের অতন্দ্র প্রহরী

একসময় গ্রামীণ বনপ্রান্তে বনবিড়ালের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই নিশাচর শিকারিটি গোধূলি নামলেই বন থেকে বেরিয়ে ফসলের মাঠের আলে টহল শুরু করে। ইঁদুরের উপদ্রব দমনে বনবিড়াল একাই এক শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

রাতভর ইঁদুর শিকার

বনবিড়ালের এই টহল চলে সারা রাত জুড়ে। একের পর এক মেঠো ইঁদুর ভক্ষণ করে ফসলকে রক্ষা করে শেষরাতে সে আবার ফিরে যায় বনের আস্তানায়। কৃষি ও পরিবেশবিদদের মতে, বনবিড়াল নিঃস্বার্থভাবে যে পরিমাণ ফসল রক্ষা করে, তার আর্থিক মূল্য কোটি টাকার উপরে। ফসলের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অকৃত্রিম বন্ধুর আবাসস্থল রক্ষা করা এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফসলের মাঠে বিষটোপ বা আধুনিক ফাঁদ নয়, বরং মেঠো ইঁদুর দমনে প্রকৃতির সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ‘বনবিড়াল’। এক সময় প্রাকৃতিকভাবেই ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত হলেও, আজ মানুষের অজ্ঞতায় এই উপকারী প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে। ফলে ফসলি জমিতে এখন নিয়মিত ইঁদুর-বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।

ইঁদুরের যম বনবিড়াল

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বনবিড়াল প্রতি রাতে গড়ে অন্তত পাঁচটি মেঠো ইঁদুর শিকার করে। মেঠো ইঁদুর কেবল মাঠের ধান, গম, ভুট্টা বা আলু নয়, কৃষকের গোলাঘরের মজুত শস্যও সাবাড় করে দেয়। পরিসংখ্যান বলছে, একটি মেঠো ইঁদুর তার জীবদ্দশায় প্রায় ১০ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি করতে সক্ষম। সেই হিসেবে একটি বনবিড়াল তার ১২ বছরের জীবনচক্রে ইঁদুর নিধনের মাধ্যমে লাখো টাকার ফসল রক্ষা করে।

ভুল বোঝাবুঝি ও হত্যাকাণ্ড

বনবিড়াল মূলত মাংসাশী হওয়ায় স্বভাববশত মাঝেমধ্যে লোকালয়ের হাঁস-মুরগি বা কবুতর শিকার করে থাকে। এই তুচ্ছ ক্ষতিকে কেন্দ্র করেই বনবিড়াল হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার মানুষের ‘মহাশত্রু’। যুগের পর যুগ ধরে বড় বনবিড়ালের পাশাপাশি তাদের শাবকদেরও পিটিয়ে মারার মতো নিষ্ঠুরতা চলে আসছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য বনাম কৃত্রিম বিষ

পরিবেশবাদীরা বলছেন, আমরা নিজেরাই আমাদের পায়ে কুড়াল মেরেছি। ফসলের অতন্দ্র প্রহরী এই প্রাণীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন প্রতি মৌসুমে ইঁদুরের উপদ্রবে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। অথচ প্রকৃতির এই অকৃত্রিম বন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখলে ইঁদুর মারার বিষ বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ত না।

 

প্রকৃতির এই ‘নীরব সেবক’ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা এখন সময়ের দাবি। কোটি টাকার ফসল রক্ষাকারীকে হাঁস-মুরগির লোভে হত্যা করা কেবল পরিবেশ নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও বড় ক্ষতি।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

একটি বন বিড়াল রক্ষা করে লাখো টাকার ফসল

আপডেট সময় ০৬:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রকৃতিতে ফসলের শত্রু দমনে মেছো বিড়ালের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি মেছো বিড়াল তার জীবদ্দশায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ফসল ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করে। তবে এবার আলোচনায় এসেছে এমন এক শিকারি, যার ইঁদুর ধরার দক্ষতা মেছো বিড়ালকেও হার মানায়।

হারাতে বসা বন বিড়াল তার জীবনকালে মেছো বিড়ালের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক ইঁদুর শিকার করে থাকে।

কৃষিবিদদের মতে, বাস্তুসংস্থানের এই ‘প্রাকৃতিক রক্ষক’ যদি আরও বেশি ইঁদুর সাবাড় করে, তবে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় তার আর্থিক মূল্যের সঠিক হিসেব কষা এখন সময়ের দাবি।

ধান, গম, ভুট্টা, আলু, বাদাম কিংবা সরিষা—দেশের প্রধান প্রধান দানাদার ও রবি শস্যের প্রধান শত্রু এখন ‘মেঠো ইঁদুর’। প্রতিবছর এই ছোট প্রাণীটি কৃষকের কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট করে চলেছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে কোনো আধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং প্রকৃতির আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছে ‘বনবিড়াল’।

 

মাঠের অতন্দ্র প্রহরী

একসময় গ্রামীণ বনপ্রান্তে বনবিড়ালের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই নিশাচর শিকারিটি গোধূলি নামলেই বন থেকে বেরিয়ে ফসলের মাঠের আলে টহল শুরু করে। ইঁদুরের উপদ্রব দমনে বনবিড়াল একাই এক শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

রাতভর ইঁদুর শিকার

বনবিড়ালের এই টহল চলে সারা রাত জুড়ে। একের পর এক মেঠো ইঁদুর ভক্ষণ করে ফসলকে রক্ষা করে শেষরাতে সে আবার ফিরে যায় বনের আস্তানায়। কৃষি ও পরিবেশবিদদের মতে, বনবিড়াল নিঃস্বার্থভাবে যে পরিমাণ ফসল রক্ষা করে, তার আর্থিক মূল্য কোটি টাকার উপরে। ফসলের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অকৃত্রিম বন্ধুর আবাসস্থল রক্ষা করা এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফসলের মাঠে বিষটোপ বা আধুনিক ফাঁদ নয়, বরং মেঠো ইঁদুর দমনে প্রকৃতির সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ‘বনবিড়াল’। এক সময় প্রাকৃতিকভাবেই ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত হলেও, আজ মানুষের অজ্ঞতায় এই উপকারী প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে। ফলে ফসলি জমিতে এখন নিয়মিত ইঁদুর-বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।

ইঁদুরের যম বনবিড়াল

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বনবিড়াল প্রতি রাতে গড়ে অন্তত পাঁচটি মেঠো ইঁদুর শিকার করে। মেঠো ইঁদুর কেবল মাঠের ধান, গম, ভুট্টা বা আলু নয়, কৃষকের গোলাঘরের মজুত শস্যও সাবাড় করে দেয়। পরিসংখ্যান বলছে, একটি মেঠো ইঁদুর তার জীবদ্দশায় প্রায় ১০ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি করতে সক্ষম। সেই হিসেবে একটি বনবিড়াল তার ১২ বছরের জীবনচক্রে ইঁদুর নিধনের মাধ্যমে লাখো টাকার ফসল রক্ষা করে।

ভুল বোঝাবুঝি ও হত্যাকাণ্ড

বনবিড়াল মূলত মাংসাশী হওয়ায় স্বভাববশত মাঝেমধ্যে লোকালয়ের হাঁস-মুরগি বা কবুতর শিকার করে থাকে। এই তুচ্ছ ক্ষতিকে কেন্দ্র করেই বনবিড়াল হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার মানুষের ‘মহাশত্রু’। যুগের পর যুগ ধরে বড় বনবিড়ালের পাশাপাশি তাদের শাবকদেরও পিটিয়ে মারার মতো নিষ্ঠুরতা চলে আসছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য বনাম কৃত্রিম বিষ

পরিবেশবাদীরা বলছেন, আমরা নিজেরাই আমাদের পায়ে কুড়াল মেরেছি। ফসলের অতন্দ্র প্রহরী এই প্রাণীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন প্রতি মৌসুমে ইঁদুরের উপদ্রবে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। অথচ প্রকৃতির এই অকৃত্রিম বন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখলে ইঁদুর মারার বিষ বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ত না।

 

প্রকৃতির এই ‘নীরব সেবক’ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা এখন সময়ের দাবি। কোটি টাকার ফসল রক্ষাকারীকে হাঁস-মুরগির লোভে হত্যা করা কেবল পরিবেশ নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও বড় ক্ষতি।