সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

মিসরে মরুর বুকে সবুজের হাসি টেকসই হবে কি?

মিসরে মরুর বুকে সবুজের হাসি টেকসই হবে কি? । ছবি : সংগৃহীত

নীলনদ আর পিরামিডের দেশ, আলাদা করে মিসর নামটি যেন বলা লাগে না। ভৌগলিকভাবে আফ্রিকা মহাদেশের হলেও মিসর মধ্যপ্রাচ্যের মরুময় আরব জলবায়ু-সংস্কৃতির অন্যতম ক্ষেত্র। অন্যান্য আরব প্রতিবেশীদের মতো মিসরেও মরুভূমির বিশাল বিস্তৃতি। কিন্তু আধুনিক মিসর সেই মরুর বুকেই ফোটাচ্ছে সবুজের হাসি। মরুকে পরিণত করা হচ্ছে সবুজ প্রান্তরে, চাষাবাদ হচ্ছে নানা অর্থকরী ফসল। এইতো ২০১৪ সালেও যেখানে ছিল ধুসর-বাদামি রুক্ষ মরুভূমি সেখানে ২০২৪ সালে সবুজের প্রাণভরা হাসি। মিসরে মরুর বুকে সবুজের হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘ফিউচার অফ ইজিপ্ট’ প্রকল্প।

মিসরে মরুর বুকে সবুজের হাসি টেকসই হবে কি? prokritibarta

মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে গাড়িতে দুই ঘণ্টার দূরত্বে এল দাবা এলাকায় গেলেই চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল বিস্তৃতি সযত্নে গড়া সবুজ ক্ষেত। অথচ মাত্র দশ বছর আগেও এখানটা ছিল বালু- কাঁকড়ের প্রাণহীন প্রান্তর। কিন্তু ফিউচার অফ ইজিপ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে মিসরের মরু রূপ। প্রথম পর্যায়ে ৯ হাজার ২৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা সবুজ ফসলের ক্ষেতে রূপান্তর করে চলেছে মিসর সরকার।

সরকারের এই উদ্যোগের প্রচারণাও চলছে জোরেশোরে। সরকারি প্রচারণামূলক ভিডিওতে বলা হয়েছে, ‘রঙ বদলাচ্ছে মিসরের মরুর মানচিত্র, হলদেটে থেকে সবুজে রূপ নিচ্ছে’।

কিভাবে কী হলো?

২০১৪ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের ক্ষমতায় আসেন আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। প্রেসিডেন্ট হয়েই তিনি ফিউচার ফর ইজিপ্টের ঘোষণা দেন। ২০২৭ সালের আগে ১৬ হাজার ৮০০ বর্গ কিলোমিটার মরুভূমিকে কৃষি ক্ষেতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মিসর সরকার।

মিসরে মরুর বুকে সবুজের হাসি টেকসই হবে কি? prokritibarta

হাজার কোটি ডলারের এই মেগাপ্রজেক্টের বাস্তবায়ন হচ্ছে, যার প্রমাণ দেখা যাচ্ছে স্যাটেলাইট ইমেজেও। স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থায় আদ্র রাখা হচ্ছে মরুভূমি, স্প্রিঙ্কলার বা পানির ফোয়ারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরে ঘুরে পানি দিচ্ছে ফসলের ক্ষেতে। এই ফোয়ারার বিস্তৃতিও বিশাল এলাকাজুড়ে। মরুর মাটিতে রস আনতে ৫০০ কোটি ডলার দিয়ে ১১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কৃত্রিম খাল তৈরি করেছে মিসর। বিশাল এসব ক্ষেত থেকে গম, ভুট্টা, বার্লি, সয়াবিন, বাদাম, সূর্যমুখী, আলু, শসা সহ নানা ফসল ফলিয়ে রপ্তানিতে জোর দিচ্ছে সিসির সরকার।

টেকসই হবে কি?

সব মেগাপ্রজেক্টেই ব্যয় ও প্রাপ্তির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন থাকে। মিসরের মেগাপ্রজেক্ট ফিউচার অফ ইজিপ্ট থেকেও আদতে খরচের চেয়ে মুনাফা কত হবে এই নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিশেষ করে গার্ডিয়ানের মতো পশ্চিমা গণমাধ্যমে মিসরের এই প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলেছে, নীলনদ মিসরের যেসব এলাকা দিয়ে প্রবাহিত, সেসব এলাকার মাটি ফসলের জন্য উর্বর। বন্যার পলি, সেচের কারণে ওসব এলাকায় চাষবাদ সহজ ও সাশ্রয়ী। কিন্তু মিসরের পশ্চিমের মরু এলাকা বহু বহু বছর ধরে রুক্ষ-অনুর্বর। ধু ধু মরুর মাটিতে ফসলের জন্য পুষ্টি উপাদানও পর্যাপ্ত নয়। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ওই এলাকাগুলোতে প্রচুর সেচ দিতে হবে, যাতে মাটিতে ফসল ফলানোর উপযোগী পুষ্টির প্রাচুর্য নিশ্চিত হয়। আর এজন্য প্রয়োজন প্রচুর পানি। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা এই পানি নিয়েই।

মরুতে পানি দিলে সেই পানি মরু পুরোপুরি শুষে নেয়, ভূ অভ্যন্তরে খুব কমই জমা হয়। সিসি সরকার মিসরের ভূগর্ভস্থ পানি পাম্পের মাধ্যমে উপরিতলে আনার বড় বড় উদ্যোগ নিয়েছে। বিপুল পরিমাণ পানি মাটির উপরিতলে এনে বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হওয়ায় নানা সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গভীর কূপ থেকে পানি উত্তোলন কেবল ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামিয়ে দিচ্ছে তা-ই নয় বরং পানিতে লবণাক্ততার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কৃষি-সমাজবিজ্ঞানী সাকের এল-নুর গার্ডিয়ানকে জানান, বেশ কয়েকটি মরু-কৃষি প্রকল্প লবণাক্ততার সম্মুখীন হচ্ছে। এতে করে কমছে ফসল উৎপাদন, বাড়ছে চাষাবাদ খরচ।

নুরের মতো বিশেষজ্ঞদের দাবি, গভীর কূপ থেকে পানি উত্তোলনের এই হিড়িকে আগামী প্রজন্ম পানি সংকটে পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

মিসরে মরুর বুকে সবুজের হাসি টেকসই হবে কি?

আপডেট সময় ০২:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জুলাই ২০২৪

নীলনদ আর পিরামিডের দেশ, আলাদা করে মিসর নামটি যেন বলা লাগে না। ভৌগলিকভাবে আফ্রিকা মহাদেশের হলেও মিসর মধ্যপ্রাচ্যের মরুময় আরব জলবায়ু-সংস্কৃতির অন্যতম ক্ষেত্র। অন্যান্য আরব প্রতিবেশীদের মতো মিসরেও মরুভূমির বিশাল বিস্তৃতি। কিন্তু আধুনিক মিসর সেই মরুর বুকেই ফোটাচ্ছে সবুজের হাসি। মরুকে পরিণত করা হচ্ছে সবুজ প্রান্তরে, চাষাবাদ হচ্ছে নানা অর্থকরী ফসল। এইতো ২০১৪ সালেও যেখানে ছিল ধুসর-বাদামি রুক্ষ মরুভূমি সেখানে ২০২৪ সালে সবুজের প্রাণভরা হাসি। মিসরে মরুর বুকে সবুজের হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘ফিউচার অফ ইজিপ্ট’ প্রকল্প।

মিসরে মরুর বুকে সবুজের হাসি টেকসই হবে কি? prokritibarta

মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে গাড়িতে দুই ঘণ্টার দূরত্বে এল দাবা এলাকায় গেলেই চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল বিস্তৃতি সযত্নে গড়া সবুজ ক্ষেত। অথচ মাত্র দশ বছর আগেও এখানটা ছিল বালু- কাঁকড়ের প্রাণহীন প্রান্তর। কিন্তু ফিউচার অফ ইজিপ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে মিসরের মরু রূপ। প্রথম পর্যায়ে ৯ হাজার ২৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা সবুজ ফসলের ক্ষেতে রূপান্তর করে চলেছে মিসর সরকার।

সরকারের এই উদ্যোগের প্রচারণাও চলছে জোরেশোরে। সরকারি প্রচারণামূলক ভিডিওতে বলা হয়েছে, ‘রঙ বদলাচ্ছে মিসরের মরুর মানচিত্র, হলদেটে থেকে সবুজে রূপ নিচ্ছে’।

কিভাবে কী হলো?

২০১৪ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের ক্ষমতায় আসেন আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। প্রেসিডেন্ট হয়েই তিনি ফিউচার ফর ইজিপ্টের ঘোষণা দেন। ২০২৭ সালের আগে ১৬ হাজার ৮০০ বর্গ কিলোমিটার মরুভূমিকে কৃষি ক্ষেতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মিসর সরকার।

মিসরে মরুর বুকে সবুজের হাসি টেকসই হবে কি? prokritibarta

হাজার কোটি ডলারের এই মেগাপ্রজেক্টের বাস্তবায়ন হচ্ছে, যার প্রমাণ দেখা যাচ্ছে স্যাটেলাইট ইমেজেও। স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থায় আদ্র রাখা হচ্ছে মরুভূমি, স্প্রিঙ্কলার বা পানির ফোয়ারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরে ঘুরে পানি দিচ্ছে ফসলের ক্ষেতে। এই ফোয়ারার বিস্তৃতিও বিশাল এলাকাজুড়ে। মরুর মাটিতে রস আনতে ৫০০ কোটি ডলার দিয়ে ১১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কৃত্রিম খাল তৈরি করেছে মিসর। বিশাল এসব ক্ষেত থেকে গম, ভুট্টা, বার্লি, সয়াবিন, বাদাম, সূর্যমুখী, আলু, শসা সহ নানা ফসল ফলিয়ে রপ্তানিতে জোর দিচ্ছে সিসির সরকার।

টেকসই হবে কি?

সব মেগাপ্রজেক্টেই ব্যয় ও প্রাপ্তির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন থাকে। মিসরের মেগাপ্রজেক্ট ফিউচার অফ ইজিপ্ট থেকেও আদতে খরচের চেয়ে মুনাফা কত হবে এই নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিশেষ করে গার্ডিয়ানের মতো পশ্চিমা গণমাধ্যমে মিসরের এই প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলেছে, নীলনদ মিসরের যেসব এলাকা দিয়ে প্রবাহিত, সেসব এলাকার মাটি ফসলের জন্য উর্বর। বন্যার পলি, সেচের কারণে ওসব এলাকায় চাষবাদ সহজ ও সাশ্রয়ী। কিন্তু মিসরের পশ্চিমের মরু এলাকা বহু বহু বছর ধরে রুক্ষ-অনুর্বর। ধু ধু মরুর মাটিতে ফসলের জন্য পুষ্টি উপাদানও পর্যাপ্ত নয়। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ওই এলাকাগুলোতে প্রচুর সেচ দিতে হবে, যাতে মাটিতে ফসল ফলানোর উপযোগী পুষ্টির প্রাচুর্য নিশ্চিত হয়। আর এজন্য প্রয়োজন প্রচুর পানি। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা এই পানি নিয়েই।

মরুতে পানি দিলে সেই পানি মরু পুরোপুরি শুষে নেয়, ভূ অভ্যন্তরে খুব কমই জমা হয়। সিসি সরকার মিসরের ভূগর্ভস্থ পানি পাম্পের মাধ্যমে উপরিতলে আনার বড় বড় উদ্যোগ নিয়েছে। বিপুল পরিমাণ পানি মাটির উপরিতলে এনে বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হওয়ায় নানা সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গভীর কূপ থেকে পানি উত্তোলন কেবল ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামিয়ে দিচ্ছে তা-ই নয় বরং পানিতে লবণাক্ততার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কৃষি-সমাজবিজ্ঞানী সাকের এল-নুর গার্ডিয়ানকে জানান, বেশ কয়েকটি মরু-কৃষি প্রকল্প লবণাক্ততার সম্মুখীন হচ্ছে। এতে করে কমছে ফসল উৎপাদন, বাড়ছে চাষাবাদ খরচ।

নুরের মতো বিশেষজ্ঞদের দাবি, গভীর কূপ থেকে পানি উত্তোলনের এই হিড়িকে আগামী প্রজন্ম পানি সংকটে পড়তে পারে।