এশিয়ায় আঘাত হানা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ইয়াগির ঘূর্ণি স্তিমিত হলেও কমেনি এর ধ্বংসলীলা। চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামে সরাসরি আঘাত হানা টাইফুনটির প্রভাব পড়েছে মিয়ানমারেও। মিয়ানমারে টাইফুন ইয়াগির প্রভাবে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ৮৯ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, ইয়াগির জেরে ৬৫ হাজারের বেশি ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ।
ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপিদো, মান্দালয়, বাগো, মোন, কারেন ও শান রাজ্যের অন্তত ১০টি শহরে বন্যা হয়েছে। এসব শহরে হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

দেশটির রাজধানী নেপিদোতে শত শত মানুষ আটকা পড়েছে। নেপিদোর তাতকন এলাকায় বন্যায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়ের মধ্যকার রেল পরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মান্দালয়ের পিয়াবওয়ে শহরের একটি রেল সেতু বন্যায় ভেসে গেছে। নেপিদোর ইয়াঙ্গুন-মান্দালয় মহাসড়কও পানিতে ডুবে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মান্দালয়, সাগাইন ও মগওয়ে অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে মিয়ানমারের পাঁচ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশের মানবিক সহায়তা দরকার। এদিকে ইয়াগির প্রভাবে থাইল্যান্ডেও বন্যা হয়েছে, এতে ১২ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে নিয়ে সুপার টাইফুন ইয়াগির আঘাতে এশিয়ার দেশগুলোয় ৩৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ভিয়েতনামেই মারা গেছেন ২৫৪ জন।
নিজস্ব সংবাদ : 




















