বিদ্রোহীদের আকস্মিক হামলায় রাজধানী দামেস্কও হাতছাড়া হওয়ায় নিজ ও পরিবারের সুরক্ষায় উড়োজাহাজে চেপে তাৎক্ষণিক দেশ ছাড়েন সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। তার সামনে দু’টি প্রধান বিকল্প ছিল, ইরান অথবা রাশিয়া। শেষ পর্যন্ত সপরিবারে রাশিয়াতেই আশ্রয় নিয়েছেন বাশার আল আসাদ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাস নিশ্চিত করেছে, সিরিয়া থেকে বাশার আল আসাদ সপরিবারে মস্কোয় আশ্রয় নিয়েছেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার আশ্রয় প্রার্থনা অনুমোদন করেছে রাশিয়া।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীনদের হাতছাড়া হয়ে গেলে দেশটির ৬১ বছরের বাথ শাসনামলের সমাপ্তি ঘটে। আরব সোশ্যালিস্ট বাথ পার্টি ১৯৬৩ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। পরে ১৯৭০ সালে হাফেজ আল-আসাদ (বাশার আল-আসাদের বাবা) অভ্যন্তরীণ দলীয় অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন।
এর এক বছর পর (১৯৭১) প্রেসিডেন্ট হন হাফেজ আল-আসাদ। পরবর্তীতে ২০০০ সালে হাফেজ আল-আসাদের মৃত্যু হলে তার ছেলে বাশার আল-আসাদ বাথ শাসনের দায়িত্ব নেন।
তথাকথিত ‘আরব বসন্তের’ ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে সিরিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে শাসকগোষ্ঠী সহিংসভাবে তা দমন করে। এর ফলে সংঘর্ষ ও সহিংসতা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। মিত্র রাশিয়া-ইরানের সহায়তায় ২০১৬ সালে বিদ্রোহীদের সাময়িকভাবে পরাজিতও করে আসাদ বাহিনী। কিন্তু গত মাসের শেষদিকে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। ২৭ নভেম্বর থেকে বিদ্রোহীরা আলেপ্পো, ইদলিব এবং হামাসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করতে থাকে। অবশেষে বিদ্রোহীরা দামেস্কে ঢুকে পড়লে বাশার আল-আসাদের বাহিনী রাজধানী থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এভাবে ৬১ বছরের বাথ শাসন এবং ৫৩ বছরের আসাদ পরিবারের শাসনের অবসান ঘটে।
নিজস্ব সংবাদ : 




















