সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

মুকিত মজুমদার বাবুসহ ১৩৫ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিল ঢাকা জেলা প্রশাসন

মুকিত মজুমদার বাবুসহ ১৩৫ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিল ঢাকা জেলা প্রশাসন

মহান বিজয় দিবসে মুকিত মজুমদার বাবুসহ ১৩৫ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। ফুল, উপহার, প্রাইজ মানি তুলে দিয়ে তাদের সম্মানিত করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকার জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবস পালন অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমদ বলেন, ‘অত্যাচারের মাত্রা যখন বাড়ে, তখন মানুষের প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষাও বাড়ে। এখান থেকে জম্ম নেয় মুক্তিযুদ্ধ, এখান থেকে গণঅভ্যুত্থান। জার্মান দার্শনিক হেগেল বলেছেন, সংঘাতের মাধ্যমেই সভ্যতার বিকাশ ঘটে। যখন ন্যায় ও অন্যায়ের সংঘর্ষ হয়, অন্যায় পরাভূত হয়, এর মাধ্যমেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এরকমই সংঘর্ষের নাম মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান।’

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আহম্মদ মুঈদ বলেন, ‘পৃথিবীর যত পরিবর্তন, যত ইতিহাস সব কিছুতেই ছাত্ররা জড়িত। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে ছাত্ররা জেগে উঠে বিজয় এনে দিয়েছে। গুম, খুন সব কিছুর বিরুদ্ধে তারা লড়াই করেছে। রক্তচক্ষুর বাইরে থেকে আপনারাও যুদ্ধে নেমেছিলেন। যারা মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, আপনারা সজাগ হন। নতুন প্রজন্মকে সামনে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবো।’

সংবর্ধনা নিতে এসে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের কারণে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই দিনগুলোতে যদি সাধারণ জনগণ, ছাত্র-জনতা ঝাঁপিয়ে না পড়তেন তাহলে আমাদের জন্য স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হয়ে যেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা পাওয়ার ৫৩ বছরে অনেক কিছু অর্জন করেছি। আবার অনেক কিছু করতে পারিনি। তবে যা অর্জিত হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। তা না হলে যারা মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছে তারা শান্তি পাবে না। এই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি। দেশটা কলুষিত করে ফেললে আমরাই খারাপ থাকবো। আমাদের অতিলোভ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

মুকিত মজুমদার বাবু ২৫ অক্টোবর ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ছাত্রাবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ঢাকার নটর ডেম কলেজের পাঠ চুকিয়ে ১৯৭৮ সালে পড়াশোনার জন্য বিদেশ যান। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরেন। শুরু করেন ব্যবসা। ইমপ্রেস গ্রুপের তিনি প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

জন্মভূমির প্রতি আজন্ম ঋণই তাকে করে তুলেছে প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধ। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি দূষণমুক্ত সুস্থ-সুন্দর প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরা বাংলাদেশ উপহার দেয়ার প্রত্যয়ে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। ২০১০ সালে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলা ও অভিযোজন সম্পর্কিত গণসচেতনতা সৃষ্টিতে চ্যানেল আইতে ধারাবাহিক তথ্যচিত্র অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’ শুরু করেন। প্রকৃতিবান্ধব কাজের পাশাপাশি মুকিত মজুমদার বাবু প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী মানবিক সহযোগিতার কাজ করে যাচ্ছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

মুকিত মজুমদার বাবুসহ ১৩৫ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিল ঢাকা জেলা প্রশাসন

আপডেট সময় ০৫:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

মহান বিজয় দিবসে মুকিত মজুমদার বাবুসহ ১৩৫ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। ফুল, উপহার, প্রাইজ মানি তুলে দিয়ে তাদের সম্মানিত করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকার জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবস পালন অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমদ বলেন, ‘অত্যাচারের মাত্রা যখন বাড়ে, তখন মানুষের প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষাও বাড়ে। এখান থেকে জম্ম নেয় মুক্তিযুদ্ধ, এখান থেকে গণঅভ্যুত্থান। জার্মান দার্শনিক হেগেল বলেছেন, সংঘাতের মাধ্যমেই সভ্যতার বিকাশ ঘটে। যখন ন্যায় ও অন্যায়ের সংঘর্ষ হয়, অন্যায় পরাভূত হয়, এর মাধ্যমেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এরকমই সংঘর্ষের নাম মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান।’

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আহম্মদ মুঈদ বলেন, ‘পৃথিবীর যত পরিবর্তন, যত ইতিহাস সব কিছুতেই ছাত্ররা জড়িত। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে ছাত্ররা জেগে উঠে বিজয় এনে দিয়েছে। গুম, খুন সব কিছুর বিরুদ্ধে তারা লড়াই করেছে। রক্তচক্ষুর বাইরে থেকে আপনারাও যুদ্ধে নেমেছিলেন। যারা মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, আপনারা সজাগ হন। নতুন প্রজন্মকে সামনে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবো।’

সংবর্ধনা নিতে এসে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের কারণে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই দিনগুলোতে যদি সাধারণ জনগণ, ছাত্র-জনতা ঝাঁপিয়ে না পড়তেন তাহলে আমাদের জন্য স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হয়ে যেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা পাওয়ার ৫৩ বছরে অনেক কিছু অর্জন করেছি। আবার অনেক কিছু করতে পারিনি। তবে যা অর্জিত হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। তা না হলে যারা মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছে তারা শান্তি পাবে না। এই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি। দেশটা কলুষিত করে ফেললে আমরাই খারাপ থাকবো। আমাদের অতিলোভ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

মুকিত মজুমদার বাবু ২৫ অক্টোবর ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ছাত্রাবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ঢাকার নটর ডেম কলেজের পাঠ চুকিয়ে ১৯৭৮ সালে পড়াশোনার জন্য বিদেশ যান। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরেন। শুরু করেন ব্যবসা। ইমপ্রেস গ্রুপের তিনি প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

জন্মভূমির প্রতি আজন্ম ঋণই তাকে করে তুলেছে প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধ। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি দূষণমুক্ত সুস্থ-সুন্দর প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরা বাংলাদেশ উপহার দেয়ার প্রত্যয়ে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। ২০১০ সালে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলা ও অভিযোজন সম্পর্কিত গণসচেতনতা সৃষ্টিতে চ্যানেল আইতে ধারাবাহিক তথ্যচিত্র অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’ শুরু করেন। প্রকৃতিবান্ধব কাজের পাশাপাশি মুকিত মজুমদার বাবু প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী মানবিক সহযোগিতার কাজ করে যাচ্ছেন।