বিদ্রোহীদের অতর্কিত অভিযানে দামেস্কের পতনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিবৃতি দিয়েছেন সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। বার্তামাধ্যম টেলিগ্রামে সোমবার প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি কখনও সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যেতে চাননি।
সিরিয়ান প্রেসিডেন্সি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই বিবৃতি পোস্ট হওয়ায় একে বাশার আল আসাদের বিবৃতি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এই বিবৃতি ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রকাশ করা হয়।
টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে বাশার আল-আসাদ জানান, সিরিয়ার রাজধানী বিদ্রোহীদের হাতে চলে যাওয়ায় তিনি লাতাকিয়া প্রদেশে একটি রাশিয়ান সামরিক ঘাঁটিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি যুদ্ধের কার্যক্রম তদারকি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দেখতে পান, সেনারা লড়াই থেকে সরে যাচ্ছেন।

এরপর রাশিয়া কীভাবে গেলেন, সে ব্যাপারে সাবেক প্রেসিডেন্ট জানান, হেইমিম বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা হয় এবং রুশ সেনা কমান্ড তাঁকে মস্কোর উড়োজাহাজে ওঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বাশার আল-আসাদের ভাষ্য, ‘ঘাঁটি ছাড়ার কোনো কার্যকর উপায় না থাকায় মস্কো অনুরোধ করেছিল, যাতে ঘাঁটির কমান্ড ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অবিলম্বে রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এটি দামেস্কসহ চূড়ান্ত সামরিক অবস্থানের পতন এবং এর ফলে অবশিষ্ট সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরের ঘটনা।’
এতে আরও বলা হয়, “ওইসব ঘটনা ঘটতে থাকার সময় আমি কোনওভাবেই পদত্যাগ করা কিংবা আশ্রয় খোঁজার কথা ভাবিনি। কোনও মানুষ কিংবা কোনও দলও এ ধরনের কোনও প্রস্তাব দেয়নি।
“দেশ সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাওয়ার পর অর্থবহ কোনও অবদান রাখার সক্ষমতাই খোয়া যায়। আর প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমার অবস্থানেরও আর কোনও মানে ছিল না।”

ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের ১২ দিনের ঝড়ো অভিযানের মুখে দামেস্কের পতনের পর সিরিয়ার কোনও নগরী কিংবা প্রদেশে আসাদের দেখা মেলেনি। সে সময় জল্পনা ছড়ায় তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এমনকি তাকে বহনকারী একটি উড়োজাহাজও ভূপাতিত করার গুজব ছড়ায়।
এরপর ৯ ডিসেম্বরে রাশিয়ার গণমাধ্যম জানায়, বাশার আল-আসাদকে সপরিবারে আশ্রয় দিয়েছে মস্কো।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















