সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

দেশের প্রথম নারী বন্যপ্রাণীবিদ ড. নূর জাহান সরকারকে বিশেষ সম্মাননা

অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিবর্ণ প্রকৃতিকে সবুজে সবুজে সাজিয়ে তুলতে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন তৃণমূল পর্যায়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৯ সালে প্রকৃতিবিষয়ক তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করে। ‘সুন্দর প্রকৃতিতে গড়ি সুস্থ জীবন’ এই কণ্ঠধ্বনি কোটি প্রাণে পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুর স্বপ্নের পথচলা। শুধু প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দিতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

প্রকৃতিপল্লী নির্মাণ, প্রকৃতিবার্তা অনলাইন-পোর্টাল, প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাব, প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ নানান উদ্যোগ। তিনি এসবের ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ৫ জুন, গঠন করেন দেশব্যাপি এক বৈচিত্র্যময় বৃক্ষরোপণের সংগঠন ‘প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব’। তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করাই এই ক্লাবের একমাত্র উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের শাখা গঠন করা হয়েছে। প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের উদ্যোগে ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ শ্লোগানে বৃক্ষরোপণ র্কমসূচি পালন করা হয়। ক্লাবের সদস্যরা দেশজুড়ে স্কুল-কলেজ, নদীর পাড়ে, রাস্তার ধারে এবং চরাঞ্চলে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করেন। এবার ২০২৩ ও ২০২৪ সালের র্বষা মৌসুমে ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ বৃক্ষরোপণ র্কমসূচির আওতায় সর্বোচ্চ বৃক্ষরোপণকারী এবং প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার সেরাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই র্কমসূচির আলোকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তাসহ বিশেষ সনদপত্র প্রদান করা হয়।

এ উপলক্ষে আজ ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ শনিবার চ্যানেল আইতে এক জাঁকজমকপূর্ণ মহা উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় বাংলাদেশের প্রথম নারী বন্যপ্রাণীবিদ অধ্যাপক ড. নূরজাহান সরকারকে। তাঁর হাতে এই বিশেষ সম্মাননা একটি বৃক্ষ স্মারক তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু এবং অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান।

অধ্যাপক ড. নূরজাহান সরকার দেশের বহু বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় বিশেষ সম্মাননা। ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর বর্ণিল উৎসব আয়োজনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন থেকে প্রদান করা হয় ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক ২০১৫ লাভ করেন ড. নূরজাহান সরকার।

দেশের প্রথম নারী বন্যপ্রাণীবিদ ড. নূর জাহান সরকারকে বিশেষ সম্মাননা prokritibarta

আজকের আয়োজনে ড. নূরজাহান তাঁর শিক্ষা জীবনে শুরুর শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেন। এই সম্মাননা পেয়ে তিনি খুবই পুলকিত ও আনন্দিত। তিনি উচ্চতর শিক্ষা জীবনের সূচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ইন্টারভিউয়ে দারুণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হয়েছিলেন। শিক্ষক তাকে বলেছিল আমি তো কোনো মেয়ে নিবো না, এটা প্রচণ্ড ফিল্ডওয়ার্কের কাজ। তুমি এটা পারবা না। তুমি কেন ওর্য়াল্ডলাইফ (বন্যপ্রাণি) পড়বে। এবিষয়ে ইংরেজীতে লেখে দেখাও। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে সুন্দরভাবে লিখে দিলেন। প্রশ্নকর্তা তাকে বলেছিলেন, তুমি কি গাছে উঠতে পারো? জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমি মেয়ে হলেও গাছে উঠতে পারি। ছোটবেলায় গাছে উঠে পেয়ারা পেড়ে খেয়েছি। তুমি সাঁতার কাটতে পারো? জবাবে ড. নূর জাহান সরকার বলেছিলেন, স্যার আমি বরিশালের মেয়ে। আমরা হাঁটার আগে সাঁতার শিখে ফেলি! সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি আজও দেশের বন্যপ্রাণী নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আনন্দঘন এই আয়োজন শেষে ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মধ্যাহ্ন ভোজ। অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের শিল্পীবৃন্ধ এবং প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাবের সংগীতশিল্পীরা সংঙ্গীত পরিবেশন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

দেশের প্রথম নারী বন্যপ্রাণীবিদ ড. নূর জাহান সরকারকে বিশেষ সম্মাননা

আপডেট সময় ০৬:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪

অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিবর্ণ প্রকৃতিকে সবুজে সবুজে সাজিয়ে তুলতে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন তৃণমূল পর্যায়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৯ সালে প্রকৃতিবিষয়ক তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করে। ‘সুন্দর প্রকৃতিতে গড়ি সুস্থ জীবন’ এই কণ্ঠধ্বনি কোটি প্রাণে পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুর স্বপ্নের পথচলা। শুধু প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দিতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

প্রকৃতিপল্লী নির্মাণ, প্রকৃতিবার্তা অনলাইন-পোর্টাল, প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাব, প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ নানান উদ্যোগ। তিনি এসবের ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ৫ জুন, গঠন করেন দেশব্যাপি এক বৈচিত্র্যময় বৃক্ষরোপণের সংগঠন ‘প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব’। তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করাই এই ক্লাবের একমাত্র উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের শাখা গঠন করা হয়েছে। প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের উদ্যোগে ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ শ্লোগানে বৃক্ষরোপণ র্কমসূচি পালন করা হয়। ক্লাবের সদস্যরা দেশজুড়ে স্কুল-কলেজ, নদীর পাড়ে, রাস্তার ধারে এবং চরাঞ্চলে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করেন। এবার ২০২৩ ও ২০২৪ সালের র্বষা মৌসুমে ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ বৃক্ষরোপণ র্কমসূচির আওতায় সর্বোচ্চ বৃক্ষরোপণকারী এবং প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার সেরাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই র্কমসূচির আলোকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তাসহ বিশেষ সনদপত্র প্রদান করা হয়।

এ উপলক্ষে আজ ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ শনিবার চ্যানেল আইতে এক জাঁকজমকপূর্ণ মহা উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় বাংলাদেশের প্রথম নারী বন্যপ্রাণীবিদ অধ্যাপক ড. নূরজাহান সরকারকে। তাঁর হাতে এই বিশেষ সম্মাননা একটি বৃক্ষ স্মারক তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু এবং অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান।

অধ্যাপক ড. নূরজাহান সরকার দেশের বহু বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় বিশেষ সম্মাননা। ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর বর্ণিল উৎসব আয়োজনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন থেকে প্রদান করা হয় ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক ২০১৫ লাভ করেন ড. নূরজাহান সরকার।

দেশের প্রথম নারী বন্যপ্রাণীবিদ ড. নূর জাহান সরকারকে বিশেষ সম্মাননা prokritibarta

আজকের আয়োজনে ড. নূরজাহান তাঁর শিক্ষা জীবনে শুরুর শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেন। এই সম্মাননা পেয়ে তিনি খুবই পুলকিত ও আনন্দিত। তিনি উচ্চতর শিক্ষা জীবনের সূচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ইন্টারভিউয়ে দারুণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হয়েছিলেন। শিক্ষক তাকে বলেছিল আমি তো কোনো মেয়ে নিবো না, এটা প্রচণ্ড ফিল্ডওয়ার্কের কাজ। তুমি এটা পারবা না। তুমি কেন ওর্য়াল্ডলাইফ (বন্যপ্রাণি) পড়বে। এবিষয়ে ইংরেজীতে লেখে দেখাও। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে সুন্দরভাবে লিখে দিলেন। প্রশ্নকর্তা তাকে বলেছিলেন, তুমি কি গাছে উঠতে পারো? জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমি মেয়ে হলেও গাছে উঠতে পারি। ছোটবেলায় গাছে উঠে পেয়ারা পেড়ে খেয়েছি। তুমি সাঁতার কাটতে পারো? জবাবে ড. নূর জাহান সরকার বলেছিলেন, স্যার আমি বরিশালের মেয়ে। আমরা হাঁটার আগে সাঁতার শিখে ফেলি! সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি আজও দেশের বন্যপ্রাণী নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আনন্দঘন এই আয়োজন শেষে ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মধ্যাহ্ন ভোজ। অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের শিল্পীবৃন্ধ এবং প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাবের সংগীতশিল্পীরা সংঙ্গীত পরিবেশন করেন।