জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ফলাফল তাপমাত্রা বৃদ্ধি। জাতিসংঘের মহাসচিব ইতোমধ্যে বলেছেন তীব্র তাপ মহামারিতে ভুগছে বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য ফলাফল আপাতত সাধারণ মানুষ টের না পেলেও কয়েক বছর ধরে অসহনীয় গরম বিশেষ করে রাতের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া দেখছে সবাই। গরমে অতিষ্ঠ কর্মক্লান্ত মানুষ সারাদিন পর যে শান্তিতে একটু ঘুমাবে সেটাও ঠিকঠাক হচ্ছে না উত্তপ্ত রাতের কারণে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু বিষয়ক একটি স্বাধীন গ্রুপ ক্লাইমেট সেন্ট্রাল বলছে, কয়লা, তেল ও গ্যাসের কারণে জলবায়ু উত্তপ্ত হওয়ায় রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকছে। এতে প্রতি ৩ জনে ১ জনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাত্রা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রাতগুলোর তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে জানা গেছে, রাত্রিকালীন উত্তপ্ত তাপমাত্রা স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর। কিন্তু সকল মানুষের ওপর তার সমান প্রভাব পড়ে না। তবে উচ্চ তাপমাত্রার সাথে যখন আর্দ্রতা যোগ হয় তখন এর পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ।
জিজ্ঞেস করতে পারেন রাতের তাপের সঙ্গে স্বাস্থ্যের কী সম্পর্ক? এর উত্তর খুবই সহজ, সেটি হলো ঘুম। গবেষকদের দাবি, তাপমাত্রার এ উলম্ফন মানুষের ঘুমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে হৃদরোগ, মানসিক অস্থিরতা-অশান্তিসহ বাড়তে পারে নানা ধরনের রোগও। যা মানুষকে ঠেলে দেবে মৃত্যুর দিকে।
২০২২ সালে প্রকাশ পায় এরকম আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদন ,যেখানে রাতের তাপ বৃদ্ধির ভয়াবহ ঝুঁকির কথা উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএনসি গিলিং স্কুল অফ গ্লোবাল পাবলিক হেলথ এ গবেষণাটি পরিচালনা করে। এ গবেষণায় অংশ নেন চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, জার্মানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা।
১৯৮০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের ২৮টি শহরে অতিরিক্ত তাপের কারণে মৃত্যুর হার নির্ণয় করা হয় ওই গবেষণায়। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, রাতের অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এ শতাব্দির শেষ নাগাদ মানুষের মৃত্যুহার বাড়তে পারে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত!
অথচ এখনো বিশ্বে তাপপ্রবাহের সতর্কতামূলক নির্দেশনাগুলো প্রায় সবই দিনকেন্দ্রিক। গবেষকরা মনে করেন, রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। কিন্তু মনে রাখা দরকার অত্যাধিক তাপে মানুষের পরম প্রয়োজনীয় ঘুমের ব্যাঘাত ডেকে আনছে নীরব বিপদ।
ডেস্ক রিপোর্ট 










