গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিকের বোতলভর্তি পানিতে মিশে থাকে গুঁড়া প্লাস্টিকের কণা। পানি খাওয়ার সময়ে সেই গুঁড়া প্লাস্টিক ঢোকে শরীরে। বাইরে তো থাকলে তো কথাই নেই। বাড়িতেই বা কয়জন গ্লাসে ঢেলে পানি খান? প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা হয় সর্বত্রই। এমনকি, অনুষ্ঠান বাড়িতে গ্লাসের বদলে অতিথিদের পানি দেওয়া হয় প্লাস্টিকের ছোট ছোট বোতলে। এদিকে প্লাস্টিকের বোতলভর্তি পানিতে যে গুঁড়া প্লাস্টিকের কণা মিশে থাকে, সে কথা আগেই জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এই প্লাস্টিকের কণার নাম ন্যানোপ্লাস্টিক। যা খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু পানির সঙ্গে শরীরে ঢুকে রক্তে মিশে যায়!
আপনারও কি এই অভ্যাস রয়েছে? এটি দ্রুত বন্ধ করতে হবে। এই প্লাস্টিকের বোতল সহজলভ্য এবং এর ব্যবহার সুবিধাজনক হলেও তা আমাদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে আমাদের পান করা পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকতে পারে, বিশেষ করে যখন প্লাস্টিকের বোতল থেকে সরাসরি পান করা হয়। সম্প্রতি আমেরিকান ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে প্লাস্টিকের বোতলের ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। প্লাস্টিকের বোতলে সংরক্ষিত পানিতে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর প্লাস্টিক-কণা মিশে থাকে, যা পানির সঙ্গে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এবং টক্সিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত, উচ্চমাত্রার প্লাস্টিক-কণা শরীরে ইনসুলিনের তারতম্য ঘটিয়ে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
প্লাস্টিকের বোতলে এখন সব জায়গা ভরে গেছে। রয়টার্সের তথ্য মতে, প্রতিদিন ১.৩ বিলিয়ন প্লাস্টিকের বোতল বিক্রি হয় বছরে যার পরিমান দাঁড়ায় ৪৮১ বিলিয়নে। আমরা সবাই জানি এই প্লাসটিকের বোতল পরিবেশের জন্য একদম ভালো নয়। আমাদের শরীরের জন্যও নয়।

বলা হয়ে থাকে, প্লাষ্টিকের বোতলে পানি পান করাও ঠিক নয়। বেশিরভাগ বোতলজাত পানিতেই মাইক্রোপ্লষ্টিক উপাদান থেকে যায়। এই উপাদানটি শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর। গবেষণা অনুযায়ী, সূক্ষ্ম প্লাস্টিক-কণাকে ‘ন্যানোপ্লাস্টিক’ বলা হয়। ১ লিটার প্লাস্টিকের বোতলের পানিতে (৩৩ আউন্স) কমপক্ষে ২ লাখ ৪০ হাজার প্লাস্টিক-কণা থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। এসব কণা পানির সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যায়। এদের দৈর্ঘ্য মাত্র ১ থেকে ৫০০০ মাইক্রোমিটার, যা মানুষের মাথার চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বোতল থেকে পানিপান স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এ বোতলগুলো তৈরি হয় পলিথিলিন টেরেফথ্যালেট (পেট) দিয়ে। উচ্চ তাপমাত্রায় এই বোতলের উপাদান পানিতে মিশে তাকে করে তোলে বিষাক্ত।
বাজারে পাওয়া বেশিরভাগ কোমল পানীয়ের বোতল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এই ধরনের বোতল থেকে দিনের পর দিন পানি পান করলে ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। প্লাস্টিকের বোতল তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ‘বিসফেনল এ’ (বিপিএ) সহ একাধিক উপাদান, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। গবেষকেরা আরও জানান, ন্যানোপ্লাস্টিক ও ‘বিসফেনল এ’ শরীরে অধিক পরিমাণে প্রবেশ করলে নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্লাস্টিক উপাদানগুলো ইনসুলিনের ক্ষরণে প্রভাব ফেলে, যা ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে।

৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরীক্ষা করে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, প্লাস্টিকের ‘বিপিএ’ হরমোন ও ক্রোমোজোম সংক্রান্ত সমস্যাও ডেকে আনতে পারে। উচ্চমাত্রায় প্লাস্টিক-কণা শরীরে জমলে পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং নারীদের হরমোন ক্ষরণে বাধা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
Masudur Rahman 










