আজারবাইজানের বাকুতে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে চলছে শেষ মূহুর্তের আলোচনা ও দর কষাকষি। উন্নত দেশগুলোর আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির দিকে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলো যখন তাকিয়ে, তখন সাইড ইভেন্টে উঠে এসেছে, জলবায়ু অভিঘাতের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদের দুর্যোগের তথ্য-উপাত্ত ও সমাধানের প্রস্তাবণা।
জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীর প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করলেও এর সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ছে নারীদের উপর। বিশেষ করে, নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে নারী, শিশু ও তরুণরা জলবায়ু সংকটের কারণে যে বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তার অন্যতম পানি ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগে বাস্তুচ্যুতির পাশাপাশি গভীর প্রভাব পরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে।
এমন বাস্তবতায় সম্মেলনে, ক্লাইমেট ক্রাইসিস, উম্যান অ্যান্ড ওয়াটার গভর্নেন্স শীর্ষক সাইড ইভেন্টে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হয়, দেশের উপকূলীয় দুর্যোগের ভয়াবহ তথ্য। পাশাপাশি সংকট নিরসনে নানা উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয়তার চিত্রে আহ্বান জানানো হয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতে অর্থায়ন ও ছাড়ে।
টেকসই পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ-জলবায়ু কর্মীরা।
বাকুতে সম্মেলন কেন্দ্র থেকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘ বাংলাদেশের পক্ষে আমরা মূল সম্মেলন, সাইড ইভেন্টে আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরছি। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে পানি সংকট, পানিতে লবণাক্ততার কারণে নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা, ভোগান্তি তার বাস্তব পরিস্থিতি এই সম্মেলনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপকূলে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে লোকালয়ে লবণপানি ঢুকে আটকে থাকছে। আমাদের উপকূলের মানুষ পানির মধ্যে থেকেও খাবার-ব্যবহারের পানি পাচ্ছে না। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, বিশেষ করে নারীরা। অথচ এত গুরুতর বিষয়ে যেভাবে সবার এগিয়ে আসা উচিত ছিল সেভাবে হচ্ছে না, এই বার্তা দিয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবিও তুলছি আমরা।’
সম্মেলনে বিশ্লেষকরা বলছেন, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু অভিযোজনের ওপর সচেতনতা এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ জরুরি।
এদিকে সম্মেলনের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে আসলেও এখনো পর্যন্ত জলবায়ু অর্থায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানিসহ বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় আসতে পারেনি ধনী দেশগুলোর। নানা ফোরামে চলছে আলোচনা ও দর-কষাকষি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ ও ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার এবং চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি ।
কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)
প্রকৃতি ও জীবন 




















