জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বের আশা-প্রত্যাশার আসর জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন যা কপ হিসেবে পরিচিত। এবার আজারবাইজানের বাকুতে কপ ২৯ আসরের বাকী আর মাত্র কয়েকদিন। এই সম্মেলনে এবার ভুক্তভোগী দেশগুলো করছে শেষ দিনে হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিভিত্তিক ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করবে বিশ্বসম্প্রদায়, বিশেষ করে বেশি কার্বন নিঃসরণ করা উন্নত দেশগুলো। এবছর অতি বৃষ্টি, বন্যার মতো দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ভুগেছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো।
বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা সভ্যতা রক্ষায় ন্যায্যতার ভিত্তিতে অর্থায়ন ও ছাড়ে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রকৃতি বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু।
তিনি সম্মেলনস্থল থেকে বলেন, ‘ জলবায়ু পরিবর্তনে আমরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, আভ্যন্তরীণ জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা বাড়ছে। যদি এখনি উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া না হয়, তাহলে সামনে বিশাল বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। কাজেই কপ ২৯ এ আমরা লস এন্ড ড্যামেজ অর্থাৎ ক্ষতিভিত্তিক ন্যায্যতার দাবি করছি, বিশেষ করে জলবায়ু উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছি। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও জোর দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে ক্ষতিপূরণ-ন্যায্যতার দাবি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তুলে ধরেছেন।’
নানা প্রতিকুলতা, দুর্যোগ ও বিপর্যয়ে ধুঁকছে ধরিত্রী। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য আর অর্জনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে জলবায়ু অর্থায়ন চুক্তির ধীরগতিতে হতাশা জানিয়েছে পরিবেশবাদী গোষ্ঠী ও সংগঠনগুলো।
সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে জলবায়ু অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে ১শ’২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে আজারবাইজান। সম্মেলনের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে সাইড ইভেন্ট গুলোতে চলছে নানা আলোচনা। প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে লস এন্ড ডেমেজ অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। এতে উঠে আসে, বাংলাদেশসহ ভয়াবহ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তথ্য-উপাত্ত। জানানো হয়, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবী।
বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের পরিমান মাত্র দশমিক চার শতাংশ হলেও জলবায়ু অভিঘাত ও মানব সৃষ্ট দুর্যোগে চরম ক্ষতির শিকার দেশটি। ভবিষ্যতের নিরাপদ ও সমৃদ্ধ আবাস নিশ্চিতে জানানো হয়েছে, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ ছাড়ের আহ্বান।
বাকুতে এবারের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলনে জলবায়ু ন্যায্যতার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
বাস্তবতা বলছে, জলবায়ু অভিঘাত ও মানব সৃষ্ট কারণে এই মূহুর্তে দেশের ৫০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রভাবশালী দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছ্বা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের পাশাপাশি কার্যকর উদ্যোগে সমাধানের রূপরেখা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
(বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার এবং চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি ।
কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা।প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)
প্রকৃতি ও জীবন 




















