জলবায়ু সঙ্কটের ঝুঁকির কথা কখনও না ভুলে জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর সমাধানের পথ বের করার আহ্বান জানিয়েছেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বাকুতে চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়ে, জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অপরদিকে সম্মেলনের সাইড ইভেন্টে উঠে এসেছে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর উপকূলীয় দুর্যোগের চিত্র ও ব্লু ইকোনোমির সম্ভাবনা।
জলবায়ু অভিঘাত ও মানব সৃষ্ট দুর্যোগে ধুঁকছে ধরিত্রী। সঙ্কট থেকে উত্তরণে শুরু হওয়া জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ২৯ তম আসরেরও পার্দা নামছে আজ। এর মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রস্তাবিত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রাকে ‘এক্স’ হিসেবে উল্লেখ করায় হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েছে উন্নয়নশীল ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে।
এর মাঝেও ১২০ টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানী দ্বিগুণ করার ঘোষণা যেমন দিয়েছে, তেমনই সম্মেলনের সাইড ইভেন্টে উঠে এসেছে বিশ্বের উপকূলবর্তী জনপদের জীবন-জীবিকা হারানো তথা বাস্তুচ্যুতির তথ্য-উপাত্ত। আলোচিত হয় ব্লু ইকনোমির অপার সম্ভাবনার কথাও।
১১ নভেম্বর থেকে আজারবাইজানের বাকুতে জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে শেষদিন পর্যন্ত সক্রিয় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ের আলোচনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ শেষের আগের দিন ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমরা উপকূলীয় এলাকাগুলোর অনেক কিছু হারিয়ে ফেলছি। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ থাকে, তাদের মধ্যে প্রায় ১৭ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কারণ তারা উপকূলে যে ধরনের কাজ করতো সেই কাজগুলো ভূমিক্ষয়, লবণাক্ততাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রভাবে হারিয়েছে, ঘর-বাড়ি হারিয়েছে। ফলে তারা শহরমুখী হতে বাধ্য হয়েছে। অভ্যস্ত কাজ থেকে জীবিকা হারিয়ে শহরে এসে তারা নতুন কর্মসংস্থান খুঁজতে পারছেন না। কারণ তারা এসব কাজে অভ্যস্ত নন,দক্ষ নন। কাজেই বিশাল সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।’

অচলাবস্থা কাটাতে সব পক্ষকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা নেয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।
মুকিত মজুমদার বলেন, ‘আমরা যদি সম্মিলিতভাবে এই বাস্তবতার দিকে নজর না দিই তাহলে আমাদের ব্লু ইকোনমি, জলজ সম্পদ এবং সর্বাগ্রে উপকূলের মানুষদের দিন দিন বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। এখনই উপকূলের দিকে আরও যত্নশীল নজর দিতে হবে।’
শেষ সময়ে এসেও কার্যকর সমাধানের পথে না যাওয়া, জীবাশ্ম জ্বালানী বন্ধসহ বাসযোগ্য ধরিত্রী বিনির্মাণের দাবীতে ব্যাপক বিক্ষোভ করে গেছে পরিবেশবাদী ব্যক্তি ও সংগঠন।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা বিশ্বকে আশার বার্তা দিতে শুরু হয়েছে এবছরের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ ২৯। আজারবাইজানের বাকুতে ১১ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার এই সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের এনভায়রনমেন্ট মিডিয়া কনটেন্ট স্পেশালিস্ট শাফরিনা খাতুন , সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন বিল্লাল হাওলাদার এবং চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি আলীম আল রাজি ।
কপ ২৯ সম্মেলনস্থল বাকু,আজারবাইজান থেকে প্রতিদিনের সংবাদ পাঠাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত প্রকাশ করছে প্রকৃতিবার্তা অনলাইন।)
প্রকৃতি ও জীবন 




















