সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্যের ভাগাড়! Logo প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা থেকে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে ইরানে Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট Logo প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত Logo তাপপ্রবাহ চলবে আরও ২-৩ দিন, এরপরেই স্বস্তির বৃষ্টির আভাস Logo রাজশাহীতে মাঝারি তাপপ্রবাহ, দেশজুড়ে ২৭ জেলায় প্রায় একই অবস্থা Logo প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. সাইমুম পারভেজ Logo সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড রাজশাহীতে, ২৪ জেলায় তাপপ্রবাহ Logo ধরিত্রী দিবসে বরিশালে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এবং জেআইএসসি’র সবুজ আয়োজন

কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত

কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বিলুপ্তপ্রায় ও বিপন্ন তালিকাভুক্ত একটি ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ বা লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার কেপিএম কলাবাগান এলাকা থেকে প্রাণিটিকে উদ্ধার করেন বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

‘ওয়াইল্ডলাইফ স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ’-এর সদস্য ইমরান হোসেন ইমন জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে তিনি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে প্রাণীটিকে দেখতে পান। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাণীটি আরও ওপরে ওঠার চেষ্টা করলে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিচে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগকে খবর দেয়া হয়।

খবর পেয়ে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তার নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান অফিস সহকারী ওসমান গনি। তিনি জানান, বানরটি সামান্য আহত হওয়ায় সেটিকে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে রাতেই সেটিকে চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নিশ্চিন্তাপুর ইকো পার্কের বন কর্মকর্তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। তারা প্রাণীটিকে বনে অবমুক্ত করে দেয়।

লজ্জাবতী বানর (Bengal Slow Loris) হলো লরিসিডি পরিবারের একটি বিষধর ও নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী। বাংলাদেশে এদের মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের চিরসবুজ বনাঞ্চলে দেখা যায়। এদের বড় বড় মায়াবী চোখ থাকলেও এরা আত্মরক্ষার জন্য বিষাক্ত কামড় দিতে সক্ষম।

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

স্বভাব: এরা অত্যন্ত লাজুক ও নিশাচর। দিনের বেলা এরা গাছের মগডালে বলের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে থাকে।

খাদ্যভ্যাস: এরা সর্বভুক। সাধারণত গাছের আঠা, পতঙ্গ, পাখির ডিম এবং ছোট সরীসৃপ খেয়ে বেঁচে থাকে।

বিষাক্ততা: এটি বাংলাদেশের একমাত্র বিষধর স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে পরিচিত। এদের কনুইয়ের গ্রন্থি থেকে এক ধরনের বিষাক্ত তরল নিঃসৃত হয়, যা এরা লালার সাথে মিশিয়ে কামড়ানোর মাধ্যমে প্রয়োগ করে।

সংরক্ষণ অবস্থা: আইইউসিএন (IUCN) অনুযায়ী এরা বর্তমানে বিপন্ন বা সংকটাপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। বন উজাড় এবং শিকারি বা পাচারকারীদের কারণে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত

কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত

আপডেট সময় ০৬:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বিলুপ্তপ্রায় ও বিপন্ন তালিকাভুক্ত একটি ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ বা লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার কেপিএম কলাবাগান এলাকা থেকে প্রাণিটিকে উদ্ধার করেন বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

‘ওয়াইল্ডলাইফ স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ’-এর সদস্য ইমরান হোসেন ইমন জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে তিনি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে প্রাণীটিকে দেখতে পান। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাণীটি আরও ওপরে ওঠার চেষ্টা করলে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিচে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগকে খবর দেয়া হয়।

খবর পেয়ে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তার নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান অফিস সহকারী ওসমান গনি। তিনি জানান, বানরটি সামান্য আহত হওয়ায় সেটিকে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে রাতেই সেটিকে চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নিশ্চিন্তাপুর ইকো পার্কের বন কর্মকর্তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। তারা প্রাণীটিকে বনে অবমুক্ত করে দেয়।

লজ্জাবতী বানর (Bengal Slow Loris) হলো লরিসিডি পরিবারের একটি বিষধর ও নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী। বাংলাদেশে এদের মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের চিরসবুজ বনাঞ্চলে দেখা যায়। এদের বড় বড় মায়াবী চোখ থাকলেও এরা আত্মরক্ষার জন্য বিষাক্ত কামড় দিতে সক্ষম।

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

স্বভাব: এরা অত্যন্ত লাজুক ও নিশাচর। দিনের বেলা এরা গাছের মগডালে বলের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে থাকে।

খাদ্যভ্যাস: এরা সর্বভুক। সাধারণত গাছের আঠা, পতঙ্গ, পাখির ডিম এবং ছোট সরীসৃপ খেয়ে বেঁচে থাকে।

বিষাক্ততা: এটি বাংলাদেশের একমাত্র বিষধর স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে পরিচিত। এদের কনুইয়ের গ্রন্থি থেকে এক ধরনের বিষাক্ত তরল নিঃসৃত হয়, যা এরা লালার সাথে মিশিয়ে কামড়ানোর মাধ্যমে প্রয়োগ করে।

সংরক্ষণ অবস্থা: আইইউসিএন (IUCN) অনুযায়ী এরা বর্তমানে বিপন্ন বা সংকটাপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। বন উজাড় এবং শিকারি বা পাচারকারীদের কারণে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।