খুলনা ও বাগেরহাট জেলার দুর্যোগ আক্রান্ত ২৮টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হওয়া এনহান্স ভয়েস ফর দ্য ইনক্লুশন অফ দ্য ভালনারেবল অ্যান্ড দেয়ার এমপাওয়ারমেন্ট বা ইভলভ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনে স্বাস্থ্য, কৃষি, পানিজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকা মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে শিখেছে। এখন ইউনিয়ন বাজেটে, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী সভাগুলোয় কথা বলছেন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষরা। তাদের প্রতিনিধিরা তুলে ধরছেন জনগণের কণ্ঠস্বর।’
এমন সফলতা পাওয়ার দাবি করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে লেকশোর হোটেলে আয়োজিত সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এমন সফলতার কথা জানানো হয়। ইভলভ প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও হেলভেটাস বাংলাদেশের সহ-অর্থায়নে এবং ডর্প (DORP) ও সিএনআরএস (CNRS) এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে, ইভলভ প্রকল্পের সহায়তায় ইউনিয়ন পর্যায়ে তৃণমূল সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও) ও কমিউনিটি ভিত্তিক অর্গানাইজেশন (সিবিও)-কে শক্তিশালী করেছে, যাতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়েছে। এর ফলে জলবায়ু খাতে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল পর্যায়ের সিএসও সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মকর্তাগণ এবং এনজিও-আইএনজিও প্রতিনিধিরা। প্রধান অতিথি ছিলেন মো. আনোয়ার হোসেন, পরিচালক (যুগ্ম সচিব), এনজিও বিষয়ক ব্যুরো (এনজিওএবি) এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন এনরিকো লরেনজন, টিম লিডার, ইনক্লুসিভ গভর্নেন্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
হেলভেটাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত কুমার ভার্মা তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “আমরা ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে সিএসও সদস্যরা সত্যিকার অর্থে পরিবর্তনের দূত হিসেবে কাজ করেছেন। এই সমাপনী অনুষ্ঠান কোনো সমাপ্তি নয়; বরং এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে তৃণমূল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতার প্রতীক।”
প্রধান অতিথি মো. আনোয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, “স্থানীয় পর্যায়ে পরিবর্তন তখনই সম্ভব যখন তৃণমূলের মানুষ সচেতন এবং সক্ষম হয়। ইভলভ প্রকল্পটি কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো টেকসই উন্নয়নের জন্য এই ধরনের প্রকল্পকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।”

অংশীজনরা দাবি করেন, ইভলভ প্রকল্প নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়ার মাধ্যমে সিএসও ও সিবিও সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে যার ফলে তারা স্থানীয় সরকারের সাথে কার্যকরভাবে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পেরেছেন। তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় ইউনিয়ন পরিষদগুলো এখন নিয়মিত ওয়ার্ড সভা ও উন্মুক্ত বাজেট সভা আয়োজন করছে। এসব উদ্যোগের ফলে ইউনিয়নের বাজেট এখন খাতভিত্তিক, জলবায়ু সহনশীল ও লিঙ্গ-সংবেদনশীল হয়েছে। সিএসও এডভোকেসির ফলে ইউনিয়নের জনগণ পেয়েছে লবণ সহিষ্ণু বীজ ও গাছের চারা, পিএসএফ এবং সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে লবাণাক্ত অঞ্চলের জন্য উপযোগি বিশেষ কৃষি ও মৎস্য প্রশিক্ষণ।
আয়োজকরা আরও জানায়, সিএসও সদস্যদের প্রচেষ্টায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় গুলোতে মাতৃদুগ্ধ কর্নার ও হুইলচেয়ার র্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে যার ফলে মায়েদের ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিষদের কার্যালয়গুলো আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে। এছাড়া সিএসও সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদকে ট্যাক্স ও সেবা মেলা আয়োজন করতে সহায়তা করেছে যার ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি তৃণমূল সংগঠনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে শেষ হয়, যেখানে তারা তুলে ধরেন কীভাবে ইভলভ প্রকল্প তাদেরকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং জলবায়ু সহনশীল স্থানীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
নাসিমুল শুভ 




















